বিশেষায়িত ব্যাট ব্যবহার করতেন ক্রিকেট গ্রেটরা!

Share Button

বাণিজ্যিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেরা দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত, লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করা হতো দক্ষ শিল্পীর নিজ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায়। তবে কাজটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য, কেননা কোনো যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই সেই সময়ে কাঠ কেটে ও উৎকীর্ণ করে একে ক্রিকেট ব্যাটের আকৃতি প্রদান করা হতো।

যদিও বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ক্রিকেট ব্যাটই আমদানি করা হয় ভারত এবং পাকিস্তান থেকে। ক্রিকেট মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দেশেই রয়েছে সমৃদ্ধ ক্রিকেট পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা, যা পুরো বিশ্বের ক্রিকেট উপকরণের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরেই।

Also Read - শেষ দুই টেস্টে দলে নেই ডুমিনি

কিন্তু চমকপ্রদ খবর, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফ্যাক্টরিতে এখনও হাতে খোদাই করে বানানো হয় ক্রিকেট ব্যাট! আর সেই ব্যাটের হাতল পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানদের হাতে! অভিনব এই কাজটি করছেন এলাকার পল ব্রেডবারি ও তার স্ত্রী স্যালি ব্রেডবারি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই পেশায়ই নিয়োজিত তারা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পল বলেন, ‘আমি খুবই খুশি এবং সন্তুষ্ট হই যখন দেখি আমাদের তৈরি ব্যাট মানুষ পছন্দ করছে এবং হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে- হোক তা ছোট কোনো শিশুর হাতে কিংবা বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের হাতে।’

আধুনিক কলাকৌশল বের হলেও কেন এখনও কষ্টকর হাতে বানানো ব্যাটেই মনোযোগ তাদের? পল জানালেন, ক্রিকেটের প্রতি তাদের আবেগের কারণেই এখনও এমনটি করে যাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এমনও সময় এসেছে যখন আমি ভেবেছি, আমি আর কী কাজ করতে পারি? কিন্তু আমি ভেবে দেখেছি, এটিই সেই কাজ যা আমি ভালো পারি।’

সাক্ষাৎকারে পল দম্পতির দেওয়া সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হল- তাদের তৈরি বিশেষায়িত এই ব্যাট নাকি ব্যবহার করেছেন অনেক বিশ্ব-কাঁপানো ক্রিকেটারও! তবে ব্যাপারটি ঘটেছিল গোপনে এবং এটি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে ব্যাটের উপর অন্য ব্র্যান্ডের স্টিকার ব্যবহার করতেন তারা।

পল বলেন, ‘রিকি পন্টিংয়ের মতো ক্রিকেটারও দীর্ঘ সময় এটি করেছেন। ব্যবহার করেছেন স্টিভ ওয়াহও; সত্যি বলতে বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারই। সেই তালিকায় ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এবং জাস্টিং ল্যাঙ্গারের মতো ক্রিকেটারও।’

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম