SCORE

Breaking News

‘দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না’

Share Button

Mushfiq-Bangladesh

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগ পার করেছেন গত মে মাসেই। ২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক। যদিও ফর্ম ও ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়তে হয়েছিলো দল থেকে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরেন বর্তমান বাংলাদেশ সাদা পোশাকের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তখনকার নিয়মিত উইকেট-কিপার খালেদ মাসুদ পাইলটের পরিবর্তে দলে সুযোগ মেলে মুশফিকের।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মুশফিক যা কিনা দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তারপর থেকেই উইকেটের পেছনে নিয়মিত মুখ ছিলেন মুশফিক। দীর্ঘ এই ১২ বছরে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দলের উত্থন-পতন। সাক্ষী ছিলেন দলের পরিবর্তনেও।

Also Read - ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছেন হাথুরুসিংহে

দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে দলের হয়ে সাক্ষী ছিলেন বহু ম্যাচে। রয়েছে ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত বধের গল্প, ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনাল। আরো রয়েছে ঘরের মাটিতে ভারতের মতো পরাশক্তি দলকে প্রথমবারের মতো সিরিজ পরাজয়ের স্বাদ এবং পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার তৃপ্তি।

ভারত-পাকিস্তান বাদেও ওয়ানডে ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ। রঙিন পোশাকের এতো সাফল্যের পর রয়েছে সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও রয়েছে বেশ সাফল্যে। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়, নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারানো সহ আরো অনেক। রঙিন পোশাকের দায়িত্ব তিন বছর আগে ছেড়ে দিলেও সাদা পোশাকের দায়িত্বটা এখনো মুশফিকের কাঁধেই রয়েছে।

তবে দীর্ঘ ১২ বছরে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানছেন শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারানো। নিজেদের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ী দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে সেই জয় নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত টেস্ট দলের অধিনায়ক। তবে খাটো করে দেখছেন না ভারত বধ ও পাকিস্তানের বধকে।

দীর্ঘ ১২ বছরে রঙিন ও সাদা পোশাকে এতো অর্জনের পরেও অতৃপ্তি রয়ে গেছে মুশফিকের। তার মতে এখনো দলের জন্য কিছুই করতে পারেননি তিনি। এটাকে অনুপ্রেরণা ভেবে দলের জন্য আরো অনেক কিছু করতে বাংলাদেশ দলের সাদা পোশাকের অধিনায়ক মুশফিক।

“শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জয় অনেক বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য। নিজেদের শততম টেস্ট এবং তাঁদের মাটিতে তাঁদের হারানো অধিনায়ক হিসেবে ব্যাপারটা অনেক স্পেশাল। একজন খেলোয়াড় হিসেবেও যদি জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বলবো সেটি আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছি তারপর ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। আমার মনে হয় অনেক কিছুই আছে কিন্তু ১২ বছর খেলার পরেও মনে হচ্ছে এখনো কিছুই করেনি, আরো অনেক কিছুই করার বাকি আছে। আমার কাছে এটিই অনেক বড় অনুপ্রেরণা। চেষ্টা করবো দলের হয়ে আরো বেশি অবদান রাখার।”

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আসাকে ক্রিকেটারদের সোনালী সময়ই বলা হয়ে থাকে কারণ এই সময়েই নিজেদের ক্যারিয়ারে আরো বেশ কিছু অর্জনের মালা ঝুলাতে চায় ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ দলকে আরো কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ বছর সার্ভিস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুশফিক। তবে নিজের অর্জনের আগে দলের অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দেন মুশফিক। তাই তো অবসরের আগে দলকে আরো উপরের স্টেপে দেখতে চান তিনি।

“ব্যক্তিগত রেকর্ড অনেকেই করে হয়ত কিন্তু আমরা এখন যে পর্যায়ে রয়েছি আমি অবসরে যাওয়ার আগে যদি এর চাইতে উপরে নিয়ে যেতে পারি তাহলে এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার কাছে হতে পারে না।”

নিজেকে নিয়ে যেতে যান আরো অন্য উচ্চতায়। তবে দলের মধ্যে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিকেটারারের অভাব নেই। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রিকেটারদের আরো ভালো ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করে। দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামার চেয়ে অন্য কোন বড় অর্জন হতে পারে না এবং খেলোয়াড় হিসেবে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না মুশফিকের কাছে।

“আসলে এখন ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি। আমি প্রতিনিয়তই চেষ্টা করি আগের চেয়ে ভালো কিছু করার, নিজেকে আরো ভালোভাবে শানিত করার। আমি আগেও বলে এসেছি বাংলাদেশের দলের হয়ে খেলা, এর চাইতে বড় অর্জন আর হতে পারে না। কারণ সবাই হয়ত চায় জার্সি গায়ে নামতে কিন্তু আল্লাহ্‌ সবাইকে সেই তৌফিক দেয় না। খেলোয়াড় হিসেবে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না আমার কাছে।”

Related Articles

বিপিএল মাতাতে প্রস্তুত মুস্তাফিজ

বিপিএলে আধিপত্য দেশি পেসারদের

রংপুর রাইডার্সকে জরিমানা

ভক্তদের সাথে ক্রিকেটে মাতলেন তামিম-মুশফিকরা

অভিনব অর্জনে রেকর্ড বইয়ে সাকিব