প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে উচ্ছ্বসিত সাকিব

0

দল যখন হারের শঙ্কায়, ক্রিকেটবোদ্ধারা যখন নখ কামড়ে অপেক্ষা করছেন ম্যাচের ফলের; সবাইকে অবাক করে দিয়ে তখনই শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর দেশনেত্রীর উপস্থিতিতেই যেন মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেলো ম্যাচের চিত্রনাট্য। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকল অস্ট্রেলিয়া, তাতে জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসল হোম অব ক্রিকেটের গ্যালারি। প্রায় হারতে বসা ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে গেলো সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণি জাদুতে।

প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে উচ্ছ্বসিত সাকিব

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এমন সমর্থন স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বড় বিষয়। সবার মতো এতে বেজায় খুশি বাংলাদেশের ঢাকা তেতস জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসানও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাকিব, জানান প্রধানমন্ত্রীর ক্রিকেট-প্রেমের কথা।

Also Read - বাংলাদেশের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ার অবনমন

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাকিব বলেন, ‘উনি সব সময় সাপোর্ট দেন, ক্রিকেট অনেক পছন্দ করেন। সেটাই দেখাতে এসেছিলেন। উনি বললেন, কালকেও আসতে চেয়েছিলেন, ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি। শেষ মুহূর্তেও আসতে চেয়েছিলেন। পাপন ভাই বলেছেন যে আর দুই এক ওভার পেতে পারেন, তখন আর আসেননি।’

প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন দলকে অধিক অনুপ্রেরণা জোগায় জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘এমন সমর্থন সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায় অবশ্যই। দলের ভালো করার জন্য এমন সাপোর্ট অনেক দরকার। প্রধানমন্ত্রী আসা মানে আমরা জানি যে আমাদের পেছনে পুরো দেশই আছে।’

এদিকে জয় নিয়ে সংশয় থাকলেও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বাংলাদেশের জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই।

পাপন বলেন, ‘সবাই যখন জয়ের ব্যাপারে হতাশায় ভুগছিলেন, তখনও প্রধানমন্ত্রী জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।’

দলের খারাপ সময়েও প্রধানমন্ত্রী সমর্থন দিতে স্টেডিয়ামে আসেন জানিয়ে পাপন বলেন,  ‘ওনার মনের মধ্যে খুব সাহস ছিল। আমি বলছি, আপা এখন উইকেট পড়ছে, আপনি জলদি আসেন। আপা আমাকে বললেন, আমি আসতে আসতেই শেষ হয়ে যাবে প্রায়। দেইখো তুমি। এই আত্মবিশ্বাসটা ওনার ছিল। উনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।’

ম্যাচ শেষে হোম অব ক্রিকেটে উপস্থিত ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উপস্থিত সবাই আনন্দের সাগরে ভেসে যান যেন। পাপন বলেন,  ‘খেলোয়াড়দের সবার সাথে ব্যক্তিগতভাবে উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলেছেন। কোচিং স্টাফদের সাথেও কথা বলেছেন। এই প্রথম বিসিবির কর্মকর্তাদের সাথে আলাদা করে কথা বলেছেন, ছবি তুলেছেন। এটা একটা অন্যরকম পরিবেশ ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাকিবদের সমর্থন জোগাতে মাঠে আসতে চেয়েছিলেন ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের বিকেলেই। যদিও দিনের খেলা শেষের পথে থাকায় সেদিন আর মাঠে যাওয়া হয়নি তার। এ বিষয়ে জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আসলে প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে আসতে চেয়েছিলেন। আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, উনি আসছেন। এডিসিসহ সবাই মিলে বললেন, উনি আসবেন খেলা দেখতে। তারপর আমি ওনাকে বললাম, এখন তো খেলা প্রায় শেষ। আর এক ঘন্টার মত হবে।’

বিসিবির সফল সভাপতি বলেন, ‘তখন তিনি বললেন, আমি কি খেলা দেখব না? তখন আমি ওনাকে বললাম, আপনি কালকে (আজ) আসেন। কালকে খেলা আছে। তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে আমি তাহলে কালকেই আসবো। এই ছিল কথা।’

তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ম্যাচে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল টাইগাররা। এ সময় দলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন বলে জানান পাপন। তিনি বলেন, ‘আমি ওনাকে যেটা কালকে বলেছিলাম সেটা হলো, আপনি দোয়া করেন। এরকম পরিস্থিতিতে আমি সাধারণত ওনাকে বলি, আপনি দোয়া করেন। আপনারা জানেন যে উনি খেলা কেমন ভালোবাসেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াপ্রেমি ও ক্রিকেটের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুসময় ও দুঃসময় উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর বলিষ্ঠ সমর্থন। ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলে প্রায়ই মাঠে বসে টাইগারদের খেলা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম