সজীবতা হারিয়েছে মিরপুরের আউটফিল্ড

0
mirpur
ছবিঃ রানা

সংস্কারের কারণে বেশ কয়েকদিন ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বন্ধ ছিল খেলা। আশা করা হচ্ছিল, সংস্কার শেষ হলে নতুন রূপ পাবে অত্যন্ত মনোরম এই স্টেডিয়ামটি, যা হার মানাবে আগের সৌন্দর্যকেও।

তবে বাস্তবে হয়েছে এর উল্টোটি। স্টেডিয়ামের প্রাণ যে মাঠ, সেই মাঠের অবস্থা ভালো নেই মিরপুরে। সবুজাভ রঙ হারিয়ে মিরপুরের ঘাস হয়ে উঠেছে ধূসর বাদামী মতন। কেননা ঘাস পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য যে সময় প্রয়োজন, তা পায়নি এখনও।

সংস্কারকালীন নয় মাসে উইকেট ও আউটফিল্ডের পুরনো মাটি তুলে ফেলা হয়েছে নতুন মাটি, লাগানো হয়েছে নতুন ঘাস। কিন্তু নতুন এই ঘাসই বড় হতে হতে মরে যাচ্ছে, ফলে পুরো মাঠ হয়ে গেছে বিবর্ণ। টিভি ক্যামেরায় অবশ্য মাঠকে সবুজই মনে হয়, কারণ আউটফিল্ডের ঘাস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ বড়! আউটফিল্ডের অতিরিক্ত দৈর্ঘের ঘাস ছেঁটে ফেললে সামনে থেকে তো বটেই, ক্যামেরায়ও ‘হোম অব ক্রিকেট’ হয়ে উঠবে ধূসর।

Also Read - স্মিথদের ধন্যবাদ জানালেন মুশফিক

ঘাস না কাটায় বেশ বিস্মিত অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ঢাকা টেস্টের আগে মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘মাঠ দেখলাম, আউটফিল্ডে ঘাস এখনও বেশ লম্বা আশা করি ঘাস কেটে ছোট করা হবে, ব্যাটসম্যানদের জন্য তাহলে ভালো হবে।’

শুধু তাই নয়, সমস্যা আছে আরও। নতুন করে মাটি ফেলার পর এখনও সমান হয়নি আউটফিল্ড, কোথাও হয়ে আছে উঁচু আবার কোথাও নিচু। এতে ফিল্ডিংয়ের সময় বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেলে ভড়কে যাওয়ার সুযোগ নেই ফিল্ডারদের; ব্যাপারটা যে অনুমেয়ই! পুরো মাঠে ঘাসের সমবণ্টনের জন্য যে সার দেওয়া হয়েছিল, যথেষ্ট বৃষ্টিতেও তা ঘাসকে ছড়াতে পারেনি চারদিকে। ফলে ঘাসের ‘কথিত’ রাজ্যে রয়েছে এমন অনেক জায়গা, যেখানে আস্ত মাটির তল রাজত্ব করছে আকাশের দিকে মুখ করে!

আউটফিল্ডের এতসব সমস্যার মধ্যে আরও একটি শঙ্কার বিষয়- নরম মাটি। অবশ্য টেস্ট ফরম্যাট বলে হয়ত এতো দৃষ্টিকটুও মনে হবে বিষয়টাকে। স্মিথ-ওয়ার্নার কিংবা সাকিব-তামিমদের চার হাঁকাতে একটু জোরে বল পেটাতে হবে- এই যা!

মাঠের এমন অবস্থা নিশ্চয়ই হতাশ করেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিককেও। তবে স্বাগতিক দলনেতা বলে হয়ত সংবাদ সম্মেলনে তা বুঝতে দিলেন না পুরোপুরি। মুশফিক বলেন, ‘আগে মিরপুর মাঠ যেরকম ছিল, সেরকম হয়ত নেই এখন দুদলের জন্য একটু হলেও অস্বস্তিকর হবে তবে আমরা এখানে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি কিছুটা জানি মাস দুয়েকের মধ্যে হয়ত আরও ভালো হবে মাঠ।’

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম