সিডন্সকেই ‘কারিগর’ মনে করেন তামিম

0

২০০৭ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার পর দেশের ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন যখন বড় হয়েছিল আরও একটু, এমন সময় জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান অস্ট্রেলীয় ডেভ হোয়াইটমোর। হোয়াইটমোরের বিদায়ের পর নতুন কোচের সন্ধানে নামে বিসিবি। শেষপর্যন্ত দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি দ্বারস্থ হয়েছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ানেরই। তিনি ছিলেন জেমি সিডন্স, যার ছোঁয়ায় দলে এসেছিল ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন।

বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবালের মতে, উন্নতির গ্রাফে বাংলাদেশের উত্থানের ভিত্তিটা রচিত হয়েছিল এই জেমি সিডন্সের হাত ধরেই। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোচিং করানো সিডন্স আনকোরা দলটিকে অভিজ্ঞ করে তুলতে রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। কোচিং করানোয় নিজস্ব ধাঁচ প্রবর্তনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশাদারিত্ব মনোভাব আনার ক্ষেত্রে সিডন্সের ছিল অগ্রণী ভূমিকা।

Also Read - গ্লোবাল টি-২০ লিগের নিলামে ৯০ ক্রিকেটার

সম্প্রতি একটি ক্রিকেট সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ‘জেমি সিডন্সের অধীনে- ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, আমি নিজেকে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলেছিলাম।’

অনুশীলন নিয়ে খেলোয়াড়দের সনাতন মনোভাব পালটাতে সিডন্স সাহায্য করেছিলেন জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাবতাম কঠোর পরিশ্রম মানেই জিম করা, দৌড়ানো এবং ফিটনেসের উন্নতি করা। জিমি (সিডন্স) এই মনোভাব পাল্টে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কঠোর পরিশ্রম কেবল পাঁচ-দশ কিলোমিটার দৌড়ানো কিংবা জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো নয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন, অনুশীলনে ব্যাট করাও হতে পারে কঠোর পরিশ্রমের একটি। একজন ব্যাটসম্যান নেটে গিয়ে যদি বোলিং মেশিনকে খেলতে থাকে আর কভার ড্রাইভ হাঁকায়, এটা সহজ একটি অনুশীলন। কিন্তু সে যখন পাঁজরের দিকে আসা বলটাকে মোকাবেলা করতে যাবে, এটা কঠিন কাজ। সিডন্স আমাদের মধ্যে এই বোধের পরিবর্তনটা এনেছিলেন।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোর সফলতার পেছনে জেমি সিডন্সের গড়ে দেওয়া ভিত্তিই কাজ করেছে বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমরা বলে থাকি, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। আপনি পরিশ্রমের কিছুদিন পর ফল পেতে থাকেন। জেমির দুর্ভাগ্য, তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, কিন্তু সফলতাটা পেয়ে যাননি।’

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম