অ্যান্ডারসনের সাত, সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড

0

৫০০ উইকেট থেকে জেমস অ্যান্ডারসন দূরে ছিলেন তিন উইকেট। প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনার ক্রেইগ ব্রাথওয়েটকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে টেস্টে ৫০০ উইকেট পূর্ণ করেন অ্যান্ডারসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টটা আরো স্মরণীয় করে রাখলেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং দিয়ে। সাথে দলের ম্যাচ ও সিরিজ জয়। সব মিলিয়ে অ্যান্ডারসনের অর্জনের খাতা যেন একদম পরিপূর্ণ।

অ্যান্ডারসনের সাত, সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড
অ্যান্ডারসনের সাত, সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে একাই সাত উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। নয় উইকেটের সহজ জয় নিয়ে সিরিজটাও নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

৯৩ রানে ৩ উইকেট থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র এক রান যোগ করার পরেই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জেমস অ্যান্ডারসনের ব্লে উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোস্টন চেজ। এরপর জারমেইন ব্ল্যাকউডও হন জেমস অ্যান্ডারসনের শিকার। জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড মিলে শক্তভাবে চেপে ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের রান তুলতে ঘাম ঝড়াতে হয়।

Also Read - দল নির্বাচনে দু'দিন সময় নিলো বোর্ড

উইকেটরক্ষক শেন ডাওরিচ ফিরে যান দ্রুত। ২২ রানের লিড নিয়ে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড যখন মাত্র ৫২ তখনই ছয় উইকেট হারায় তারা। রোল্যান্ড-জোনসের বলে স্টুয়ার্ট ব্রডের হাতে ক্যাচ দেন ডাওরিচ। ১৪ রান করেন তিনি।

ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাই হোপ। অন্যরা থিতু না হতে পারলেও অ্যান্ডারসন-ব্রডের সুইং ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন হোপ। আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকানো হোপই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরসা। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে দারুণ ডেলিভারিতে হোপকে ফেরান অ্যান্ডারসন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ তালুবন্দী করেন বেয়ারস্টো। ১৪৪ বল মোকাবেলা করে ৬২ রানের ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান শাই হোপ। তার ইনিংসে ছিল নয়টি চার।

লোয়ার অর্ডারে উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার হাল ধরেন। ৫৩ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলেন হোল্ডার। ১৫৫ রানের মাথায় দেবেন্দ্র বিশুকে বোল্ড করেন অ্যান্ডারসন। হোল্ডারকে সাজঘরে ফেরান স্টুয়ার্ট ব্রড। এরপর কেমার রোচকে বোল্ড করে দিয়ে ওয়েস্ট ইডিজকে অলআউট করেন অ্যান্ডারসন। মাত্র ১৭৭ রান করেই অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্টব্রিজে নিয়েছিলেন ৪৩ রানে ৭ উইকেট। ৪২ রানে ৭ উইকেট শিকার করে গড়লেন নিজের নতুন সেরা বোলিং ফিগার। ৩৫ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা।

ইংল্যান্ডের সামনে ছিল মাত্র ১০৭ রানের লক্ষ্য। পুরো টেস্টে দাপট দেখিয়েছেন ফাস্ট বোলাররা। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডও অলআউট হয়েছে মাত্র ১৯৪ রানেই। কোনো ইনিংসে রান পার হয়নি দুইশ। টেস্টের এমন চিত্র বলে দেয় এ সহজ লক্ষ্যটাও হয়ে যেতে পারে কঠিন। তবে সেই কাজটা করতে পারলেন না ক্যারিবিয়ান বোলাররা। ইংল্যান্ড অনায়াসেই টপকে গেল ১০৭ রানের লক্ষ্য।

দুই ওপেনার অ্যালেস্টার কুক ও মার্ক স্টোনম্যান খানিক দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন। ইনিংসে অষ্টম ওভারে দলীয় ৩৫ রানের মাথায় বিদায় নেন অ্যালেস্টার কুক। ১ চারে ২২ বলে ১৭ রান করে দেবেন্দ্র বিশুর বলে এলবিডব্লিউ হন অ্যালেস্টার কুক।

এরপর হাল ধরেন মার্ক স্টোনম্যান ও টম ওয়েস্টলি। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটি জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় স্বাগতিকদের। ৫ চারের সাহায্যে ৭৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মার্ক স্টোনম্যান। তার সঙ্গী টম ওয়েস্টলি করেন ৭২ বলে ৪৪ রান। তার ইনিংসে ছিল ৭ টি চারের মার।

লর্ডস টেস্টের আগে টেস্ট সিরিজে ছিল ১-১ সমতা। তাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট হয়ে উঠেছিল সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট। জেমস অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে নয় উইকেটের বড় জয় পেল জো রুটরা। আর এ জয় দিয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতে নিল ইংল্যান্ড।  ম্যাচসেরার পুরষ্কার উঠেছে ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের হাতে। যুগ্মভাবে সিরিজসেরা হয়েছেন ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শাই হোপ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ১২৩ (প্রথম ইনিংস), ৫৭.৩ ওভার
পাওয়েল ৩৯, শাই হোপ ২৯, চেজ ১৮
বেন স্টোকস ৬/২২, অ্যান্ডারসন ২/৩১, রোল্যান্ড-জোনস ২/৩২

ইংল্যান্ডঃ ১৯৪ (প্রথম ইনিংস), ৫২.৫ ওভার
বেন স্টোকস ৬০, ব্রড ৩৮, বেয়ারস্টো ২১
রোচ ৫/৭২, হোল্ডার ৪/৫৪, গ্যাব্রিয়েল ১/৬৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ১৭৭ (দ্বিতীয় ইনিংস),  ৬৫.১ ওভার
চেজ ৬২, পাওয়েল ৪৫, হোল্ডার ২৩
অ্যান্ডারসন ৭/৪২, ব্রড ২/৩৫,  রোল্যান্ড-জোনস ১/৩১

ইংল্যান্ড ১০৭/১ (দ্বিতীয় ইনিংস), ২৮ ওভার
ওয়েস্টলি ৪৪, স্টোনম্যান ৪০, কুক ১৭
দেবেন্দ্র বিশু ১/৩৫

ম্যাচঃ ইংল্যান্ড নয় উইকেটে জয়ী

সিরিজঃ ৩ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী