আশরাফুল-নাঈম-ধীমানের শতক, চালকের আসনে রাজশাহী

0


শুরু হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ১৯ তম আসরের মাঠের লড়াই। প্রথম দিন ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ঢাকা মেট্রোর মোহাম্মদ আশরাফুল এবং রংপুর বিভাগের নাঈম ইসলাম ও ধীমান ঘোষ। বোলারদের নৈপুণ্যে সিলেটের বিপক্ষে চালকের আসনে রয়েছে রাজশাহী।

ঢাকা মেট্রো বনাম চট্টগ্রাম বিভাগঃ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রোর মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম বিভাগ। টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে ঢাকা মেট্রো। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি মেট্রোর। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় তারা। বেলাল হোসেনের বলে ফিরে যান শামসুর রহমান (৫)। এরপর ওপেনার সৈকত আলিকে নিয়ে প্রতিরোঢ গড়ে তুলেন আসিফ আহমেদ। দুজন মিলে যোগ করেন ৪২ রান। আসিফ আহমেদ কিছুটা থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি। ২৪ বলে ১৮ রান করে পেসার মেহেদি হাসান রানার শিকার হন তিনি।

দ্রুত ফিরে যান সৈকত আলী আর মার্শাল আইয়ুব। ৬৯ রানের মাথায় সৈকত আলীকে বোল্ড করেন সাখাওয়াত হোসেন। নিজের পরের ওভারে সাখাওয়াত ফেরান মার্শাল আইয়ুবকেও। ২৩ বলে ১১ রান করে সাখাওয়াতের বলে লেগ বিফোড়ের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন মার্শাল আইয়ুব। ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ঢাকা মেট্রো।

Also Read - 'প্রত্যাশার তুলনায় ভালোই বল করেছি'

বিপর্যয়ে হাল ধরেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মেহরাব হোসেন জুনিয়র। তাদের ১৭৪ রানের বড় জুটিতে শক্ত অবস্থানে চলে যায় ঢাকা মেট্রো। ব্যাট হাতে শতক পূর্ণ করেন আশরাফুল। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৯৪ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে আশরাফুল আউট হন। বিকেলে মেহেদি হাসান রানার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন আশরাফুল। মেহরাব হোসেন অপরাজিত আছেন ৬৫ রান করে। ঢাক মেট্রোর সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫৭।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ঢাকা মেট্রো ২৫৭/৫ (প্রথম ইনিংস), (আশরাফুল ১০৪, মেহরাব ৬৫*, রানা ২/৪৭, সাখাওয়াত ২/৫৬)

সিলেট বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগঃ সিলেট বিভাগের মোকাবেলা করছে রাজশাহী বিভাগ। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে রাজশাহী। প্রথম দিনে খেলা হয়েছে ৫৬.২ ওভার। সিলেট ৭ উইকেট হারিয়ে রান করেছে ১১২।

সিলেটের হয়ে ইনিংস সূচনা করেন ইমতিয়াজ হোসেন ও শানাজ আহমেদ। দুজন মিলে ধীরলয়েই শুরু করেন। করছিলেন সাবধানী ব্যাটিং। তাদের ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন স্পিনার সাকলাইন সজীব। ৫০ বলে ১২ রান করে সজীবের বলে ফিরে যান শানাজ। এরপর সায়েম আলমকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করলেও মাত্র ২৫ রান যোগ করেন ইমতিয়াজ। ৩৮ রানের ইনিংস খেলে সজীবের দ্বিতীয় শিকার হন ইমতিয়াজ।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। রাজশাহী বিভাগের বোলারদের তোপের মুখে বড় কোনো জুটিই গড়তে পারেনি সিলেট বিভাগ।  দলীয় ৮২ রানের মাথায় ফরহাদ রেজার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন কাপালি। পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হন রাজিন সালেহ। ৮৪ রানের মাথায় পতন ঘতে চতুর্থ উইকেটের। চাপে পড়ে যাওয়া সিলেট বিভাগ আর চাপ সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি। ১৩ রান করে মুক্তার আলির বলে বিদায় নেন সায়েম আলম। ৮৮ রানেই বিদায় নেয় অর্ধেক। ঐ ওভারে ২ রান করে দলীয় অধিনায়ক আবুল হাসানও ফিরে যান মুক্তারের বলে।

৩ চারে ১৭ রান করে শাহানুর ফিরে যান ফরহাদের বলে। আনোয়ার আকবর ও এনামুল হক জুনিয়র এখন ক্রিজে রয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ সিলেট বিভাগ ১১২/৭ (৫৬.২ ওভার), (ইমতিয়াজ ৩৮, শাহানুর ১৭, মুক্তার ২/১২, সজীব ২/২৪)

রংপুর বিভাগ বনাম খুলনা বিভাগঃ প্রথম দিনশেষে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে  ছিল রংপুর বিভাগের। শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে নাঈম ইসলাম ও ধীমান ঘোষের জোড়া শতকের সুবাদে। নাঈম ও ধীমানের দারুণ ব্যাটিংয়ে ভর করে শক্ত অবস্থানে রয়েছে রংপুর বিভাগ।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রংপুরের মুখোমুখি হয় খুলনা। এ ম্যাচ দিয়ে প্রায় তিন বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মোর্তজা। যদিও প্রত্যবর্তনের প্রথম দিনে উইকেট শুন্য ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনা বিভাগ। বোলিংয়ে শুরুটাও হয় দুর্দান্ত। দ্বিতীয় ওভারেই আল-আমিন হোসেনের বলে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রংপুর বিভাগের ওপেনার জাহিদ জাবেদ। এ ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই আল-আমিন আনেন দ্বিতীয় আঘাত। দলীয় ২৩ রানের মাথায় আল-আমিন ফিরিয়ে দেন মাহমুদুল হাসানকে। দ্রুত দুই উইকেট নিয়ে রংপুরকে চাপে ফেলে দেয় খুলনা। এরপর ওপেনার সায়মন আহমেদকে নিয়ে হাল ধরেন নাঈম ইসলাম। তাদের ৭১ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় ভালোই সামলায় রংপুর বিভাগ।

তাদের জুটি ভাঙ্গেন আব্দুর রাজ্জাক। ওপেনার সায়মন আহমেদকে বোল্ড করেন তিনি। ৪ চারের সাহায্যে ৫০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সায়মন। এরপর নাসির হোসেনকেও ফিরিয়ে দেন রাজ্জাক। কোনো রান করার আগেই রাজ্জাকের বলে এলবিডব্লিউ হন নাসির হোসেন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে আবারো বিপদে পড়ে রংপুর বিভাগ।

আরিফুল হককে সঙ্গে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন নাঈম ইসলাম। ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলা করেন খুলনা বিভাগের বোলারদের। তুলে নেন শতক। তাকে সঙ্গ দেওয়া আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় আল-আমিনের বলে ফিরে যান আরিফুল।

ধীমান ঘোষ ও নাঈম ইসলাম মিলে গড়ে তুলেন ১৪৮ রানের বড় জুটি। এ জুটির সুবাদে রংপুর বিভাগ চলে যায় সুবিধাজনক স্থানে। বেশ দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন ধীমান ঘোষ। খুলনা বিভাগের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন এ ব্যাটসম্যান। ৫৭ তম ওভারে ব্যাট হাতে নামা ধীমান ঘোষও অনুসরণ করেন নাঈম ইসলামের দেখানো পথ। তিনিও হাঁকান শতক। ১১৭ বল মোকাবেলা করে ১০৫ রান করেন ধীমান ঘোষ। তার ইনিংসে ছিল ১৪ টি চার ও ১ টি ছক্কা। ৮৮ তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৩২৫ রানের মাথায় খুলনার অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকের বলে নুরুল হাসানকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ধীমান ঘোষ। এতেই শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা। নাঈম ইসলাম ২২৫ বলে ১২০ রান করে অপরাজিত আছেন। ৯ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান নাঈম।

খুলনা বিভাগের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও ডানহাতি ফাস্ট বোলার আল-আমিন হোসেন। দীর্ঘদিন পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নামা মাশরাফি বল করেন ১৩ ওভার। মেইডেন নেন ২ টি। ওভারপ্রতি ৪.৩০ গড়ে রান দেন ৫৬।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ রংপুর বিভাগ ৩২৫/৬ (প্রথম ইনিংস), (নাঈম ইসলাম ১২০, ধীমান ঘোষ ১০৫, রাজ্জাক ৩/৫০, আল-আমিন ৩/৮৭)

ঢাকা বিভাগ বনাম বরিশাল বিভাগঃ কক্সবাজারে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগ লড়াই করার কথা ছিল বরিশাল বিভাগের। কিন্তু তাতে বাধ সাধে আউটফিল্ড। আউটফিল্ড ভেজা থাকায় প্রথম দিন এ ম্যাচে কোনো বল মাঠে গড়ায়নি।