চট্টগ্রাম টেস্টের মুস্তাফিজকে দেখে খুশি ওয়ালশ

0

গত এক বছর ঠিক যেন নিজের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না মুস্তাফিজুর রহমান। আগের ক্ষুরধার বোলিং, ক্ষিপ্রতা, গতি- হারিয়ে ফেলেছিলেন সবই। মুস্তাফিজের এমন নিষ্প্রভতায় আলোচনা হচ্ছিল পেস বোলিং কোচ ও সাবেক কিংবদন্তী ক্রিকেটার কোর্টনি ওয়ালশের কোচিং কার্যকারিতা নিয়েও।

চট্টগ্রাম টেস্টের মুস্তাফিজকে দেখে খুশি ওয়ালশ

তবে চট্টগ্রাম টেস্টে স্পিনারদের অকার্যকর সময়ে দারুণ পারফরমেন্স দেখিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা টেস্টে আসলে ভালো করার সুযোগটাও পাননি কাটার মাস্টার। বল হাতে নিয়েছিলেন মাত্র ১৪ ওভার, তাতে পাননি কোনো উইকেট। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে চমক দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ১৩ উইকেটের ৫টি।

Also Read - ১১ রানের সাথে তিন উইকেটে শেষ রিয়াদের সিপিএল

মুস্তাফিজের এমন ফর্মে ফেরায় স্বভাবতই খুশি ওয়ালশ। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ দারুণ বোলিং করেছে সে নিজের আক্রমণাত্মক চেহারাটা দেখাতে পেরেছে একই সঙ্গে খেলাটাও যে তার নিয়ন্ত্রণে সেটা দেখাতে পেরেছে আমি মনে করি চট্টগ্রাম টেস্টে সে যে উইকেটগুলো পেয়েছে, তা তাকে আরও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস এনে দেবে

চট্টগ্রাম টেস্টে দুই ইনিংসেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ সতীর্থ ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট শিকার করেছেন মুস্তাফিজ। সিরিজে বাংলাদেশের অন্যতম ভয়ের কারণ ছিলেন এই ওয়ার্নারই। এ প্রসঙ্গে ওয়ালশ বলেন, একই টেস্টে দুবার ওয়ার্নারের মত ব্যাটসম্যানকে আউট করার অর্থ এই নয় যে, সে অনেক উচ্চতায় উঠে গেছে কারণ, এমনিতেই সে (ওয়ার্নার) উঁচুমানের খেলোয়াড় এটাও ঠিক, তারা দুজন আইপিএলে একই দলের হয়ে খেলেন কারণে সন্তুষ্টির জায়গাটা আরও বড়

কাটার মাস্টার খ্যাত ক্রিকেটারের আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখে খুশি হয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তার আক্রমণাত্মক মানসিকতাটা দেখেই আমি খুশি হয়েছি বেশি তার মুখে হাসি ফিরে আসাটাও ছিল জরুরি বিষয়গুলো ভালো দিক

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পেস কাজে লাগিয়ে ভালো করতে চান বাংলাদেশের বোলিং কোচ। ওয়ালশ বলেন, সেখানকার উইকেট হবে গতিময়, পেসনির্ভর এটা আমরা সবাই জানি দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা এমনই প্রত্যাশা করছি পেসারদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে হাতে সময়ও খুব কম মাত্র এক সপ্তাহ প্রস্তুতি যা নেয়ার এর মধ্যেই নিতে হবে কারণে দ্রুত পেসারদের নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই যাতে সবাই ভালো একটা অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে পারে এটা আমাদের জন্য একটা পরীক্ষা এবং চ্যালেঞ্জিং সময় আমরা অনেক উন্নতি করেছি যে অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করেছি সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশনে দারুণ কাজে দেবে

স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট, দুটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। নিশ্চিতভাবেই ঐ সফরে বাড়তি সুবিধা পাবেন পেসাররা। এজন্য পেসারদের নিয়ে পৃথকভাবে গুরুত্ব দিয়ে  কাজ করছেন কোর্টনি ওয়ালশ। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও ইঙ্গিত দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে পাঁচ পেসারকে অন্তর্ভুক্ত করার। সেক্ষেত্রে কোচ হিসেবে এই সিরিজে ওয়ালশের পরীক্ষাও হবে একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার বিসিবির ইনডোর মাঠে পেসারদের নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কাজ করেন ওয়ালশ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন বিতর্কিত পেসার শাহাদাত হোসেনও।

শনিবার রাতেই ঘোষণা করার কথা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে, বিশেষ করে ঢাকা টেস্টে স্পিনাররা দুর্দান্ত পারফরমেন্স প্রদর্শন করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে ব্রাত্য হয়ে থাকতে হতে পারে তাইজুল ইসলামকে। পাঁচ পেসারকে দলভুক্ত করে মাত্র একজন স্পিনারকে সঙ্গে নিয়েই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ভাবছেন টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা।

এদিকে বাংলাদেশ যেমন আঁটসাঁট পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামবে, একই পথ অবলম্বন করবে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাও। কাগিসো রাবাদা, মরনে মরকেল, কাইল অ্যাবোট ও ক্রিস মরিসদের মতো বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপের সাথে একমাত্র স্পিনার হিসেবে থাকবেন ইমরান তাহির।

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম