মাইলফলক স্পর্শ করলেন নাসির হোসেন

Share Button

 

টেস্ট ক্রিকেটে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের নাসির হোসেন। চট্টগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে এ মাইলফলক স্পর্শ করলেন নাসির। এক হাজার রান করতে নাসির হোসেন খেলেছেন ১৯ টেস্ট। ব্যাটিং করেছেন ৩০ তম ইনিংসে।

ব্যাটিং করছেন নাসির

Also Read - ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস নিয়েই চট্টগ্রামে ফিরলেন সাব্বির

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম টেস্টে এক হাজার রান করা ব্যাটসম্যানের নাম মুমিনুল হক। এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাত্র ১১ টেস্টেই পার করেছেন এক হাজার রানের চৌকাঠ। ১৬ টেস্ট লেগেছিল সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের। নাসির হোসেনের সমানসংখ্যক টেস্ট লেগেছে রাজিন সালেহ, সাকিব আল হাসানের। এছাড়া ২০ টেস্টে এক হাজার রান পূর্ণ করেছেন বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এ ম্যাচের আগে ১৮ টেস্টে নাসির হোসেনের রান ছিল ৯৯৪। মাইলফলক থেকে নাসির ছিলেন ৬ রান দূরে। ইনিংসের ৮৪ তম ওভারের পঞ্চম বলে অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার নাথান লায়নের বলে অফসাইডে চার হাঁকিয়ে টেস্টে এক হাজার রান পূর্ণ করেন নাসির। বাংলাদেশের চৌদ্দতম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানের চৌকাঠ পার করলেন তিনি।

২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল এ অলরাউন্ডারের। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ মাঠেই এক হাজার রান পার করলেন নাসির।

প্রথম দিনের খেলা শেষে ৩ চারের সাহায্যে ৩৩ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত আছেন নাসির হোসেন। সঙ্গ দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিমকে। ৬ উইকেটে ২৫৩ রান থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে মুশফিকের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে শুরুতেই আঘাত হেনেছিলেন স্পিনার নাথান লায়ন। ব্যক্তিগত ৯ রানের মাথায় লায়নের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। [ফুল স্কোরকার্ড দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। মাত্র ৪ রান নিয়েই আবারো লায়নের বলে আউট হন কায়েস। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে তিন উইকেট হারিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ৩৩ রান করে আউট হয়েছিলেন সাব্বির রহমান।

দুই টেস্ট পর দলে ফিরে বড় ইনিংসের আশা দেখিয়েছিলেন মুমিনুক হক। তবে ৩১ রানের মাথায় আবারো লায়নের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় মুমিনুলকে। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসানও। অন্যদিকে বল হাতে বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে অজি স্পিনার নাথান লায়ন।

তবে দলীয় ৫ উইকেট পড়ার পর দলের হয়ে হাল ধরেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। ব্যাট হাতে বিগত কয়েক ইনিংসে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও এইদিনে উজ্জ্বল ছিলেন সাব্বির। দলের বিপদে ধৈর্যর সাথে ব্যাট চালিয়ে যান সাব্বির।

সাব্বিরের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলের রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। দলের বিপদে সাব্বিরের সঙ্গে ১১২ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যায় মুশফিক। এইদিকে টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক হাঁকান সাব্বির। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে লায়নের বলে নিজের ব্যালেন্স হারিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি।

সাব্বিরের পর গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক তুলে নেন মুশফিক। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে তুলে নেন ১৮তম অর্ধশতক। শেষদিকে নাসিরকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৬২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন মুশফিক এবং ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন নাসির হোসেন।