SCORE

Breaking News

বিশেষ মানুষদের নিয়ে রংপুর রাইডার্সের বিশেষ আয়োজন

Share Button

গতকাল (২৭ আগস্ট) রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছে এক বিশেষ আয়োজনের। আরদ্রিদ ও বিডিক্রিকটাইমের উদ্যোগে এক বিশেষ ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। তবে আর দশটি ক্রিকেট ম্যাচের থেকে এটি ছিল ব্যতিক্রম। এতে অংশ নেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধীরা। এই অনুষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পন্ন করতে আরদ্রিদ ও বিডিক্রিকটাইমের উদ্যোগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল রংপুর রাইডার্স। এদিকে প্রতিবন্ধীদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা

রংপুরে মাশরাফি

‘প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে একটি বাধামুক্ত ও একীভূত সমাজ গঠনে অংশীদার হোন’- এই স্লোগান নিয়ে আরদ্রিদ অনেক দিন থেকেই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিবন্ধীরা যেন নিজেদের বোঝা মনে না করে তাই তাদের নানাবিধ কর্মকান্ডে যোগদানের পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

Also Read - সিলেটে বড় জয় পেলো যুবারা

সারা দেশ থেকে বাছাই করা ২৪ জন প্রতিবন্ধী আরদ্রিদের এই ক্রিকেট আয়োজনে অংশ নেন। রংপুর রাইডার্স লাল দল ও রংপুর রাইডার্স নীল দলের মধ্যে ১০ ওভারের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি ম্যাচের সূচনালগ্নে এসে প্রতিবন্ধীদের অনুপ্রাণিত করেন। সবাইকে তাদের পাশে থাকার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলার সুযোগকে বড় করতে চান এই ক্রিকেটার। মাশরাফি বলেন, “সুযোগ যখন পেয়েছি, আশা করছি আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে মাথা উঁচু করে খেলতে পারি এবং ভাল পারফরম্যান্স করে আপনাদেরকে সম্মানিত করতে পারি। ধন্যবাদ।”

মাশরাফির পাশাপাশি রংপুর রাইডার্স দলের এবারের আসরের ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুর রাজ্জাক, মিথুন আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর রাইডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক উপস্থিত ছিলেন এই বিশেষ আয়োজনে। ইশতিয়াক সাদেক বলেন, “সবাইকে ধন্যবাদ, যারা এতো কষ্ট করে এখানে এসেছেন। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে বিপিএলে ভাল খেলতে পারি। আর সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে থাকবেন ”

এদিকে অনুষ্ঠান উদ্ভোধনের পরে শুরু হয় মূল আয়োজন ক্রিকেট ম্যাচ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লাল দল করে ৬৫ রান। জবাব দিতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও জমে উঠে ম্যাচ। শেষ বলে জয়ের জন্য নীল দলের প্রয়োজন ৩ রান। কিন্তু তাঁরা নিতে সক্ষম হোন ১ রান। ফলাফল ২ রানে ম্যাচটি জিতে নেয় লাল দল। তবে আসলে জয় হয়েছে ক্রিকেটের, জয় হয়েছে মানসিক শক্তির।

 

বাস্তবতায় প্রতিবন্ধী হলেও ব্যাটে-বলে লড়াইয়ে সবার নজর কাড়েন অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটাররা। অনেকের ছিল না এক হাত , ছিল না এক পা, কারো আবার একটি হাত ও একটি পা নেই। এতো বাঁধা-বিপত্তিও থামিয়ে রাখতে পারে নি তাদের। মানসিক শক্তিতে ঠিকই বাঁধাকে করেছেন অতিক্রম। এক হাত দিয়েই নিয়েছেন অসাধারণ ক্যাচ, এক হাত দিয়েই মেরেছেন দৃষ্টিনন্দন ছক্কা।

 

এদিকে এর আগেও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়েছিল। তবে সেইসব টুর্নামেন্টে প্রতিবন্ধীরা অংশ নিলেও ছিলেন সুবিধাবঞ্চিত। কখনো কখনো শুধুমাত্র ট্রফিতে সন্তুষ্ট থাকতে হতো। কখনো বা সেই ট্রফিও ভাগ্যে জুটতো না। তবে এদিক থেকে আরদ্রিদ ও বিডিক্রিকটাইমের উদ্যোগে নেয়া এই ক্রিকেট ম্যাচটি ছিল ব্যতিক্রম। টুর্নামেন্ট শেষে দুই দলের সকল ক্রিকেটারদের দেয়া হয় মেডেল। দুই দলের জন্য ছিল আলাদা আলাদা ট্রফি। পাশাপাশি ছিল প্রাইজমানি। চ্যাম্পিয়ন দলকে দেয়া হয় ২৫ হাজার টাকা অন্যদিকে রানার্স আপকে দেয়া হয় ১৫ হাজার টাকা। অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিরতণ করেন রংপুর রাইডার্সের পরিচালকদের একজন জাবেদ ইকবাল।

তিনি বলেন, “এমন আয়োজনের সাথে রংপুর রাইডার্স থাকতে পেরে আমরা অনেক উচ্ছ্বসিত। আশাকরি সামনেও এভাবে আমরা অংশ নিতে পারবো।”

 

এই আয়োজনের উদ্যোক্তা আরদ্রিদের চেয়ারম্যান ও বিডিক্রিকটাইমের সিইও মোঃ জাবেদ আলী বলেন, “আমরা চেয়েছি প্রতিবন্ধীরা যেন নিজেদের কখনো বোঝা না মনে করেন। তারাও যেন সমাজের সবকিছুতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারেন। তারই ফলশ্রুতিতে এই ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা।”

এদিকে অতীতে প্রতিবন্দীদের নানান বিরম্বনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “আর একটি কথা বলতে চাই, এর আগে অনেকেই প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে ম্যাচের আয়োজন করেছিল। কিন্তু যাদের জন্য আয়োজন তারাই দিনশেষে থাকতো বঞ্চিত। দেয়া হতো না কোনো ট্রফি, থাকতো না আলাদা কোনো মেডেল, থাকতো না কোনো প্রাইজ-মানি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় ছিল, এইসব ম্যাচগুলোতে অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিজের ভাড়া দিয়েই ফিরতে হতো বাড়ি। যা মোটেই সুখকর নয়। তাই আমরা এই আয়োজনে অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের মেডেল, ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলকে ২৫ হাজার টাকা ও রানার্স আপ দলকে ১৫ হাজার টাকা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করবো, সবাই সমাজের এইসব সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াবেন। আসুন প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে একটি বাধামুক্ত ও একীভূত সমাজ গঠনে অংশ নেই।” 

 

Related Articles

রংপুর রাইডার্স যাচ্ছে নিজ শহরে