SCORE

Breaking News

যেখানে যেমন মুশফিক

Share Button

Mushy-2
ব্যাটসম্যান, উইকেটরক্ষক, অধিনায়কত্ব- টেস্টে মুশফিকুর রহিমের কাঁধে দায়িত্ব তিনটি। দলকে দিতে হয় নেতৃত্ব। ব্যাটিংয়ে নির্ভরতার প্রতীক। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় উইকেটের পেছনে। মুশফিকুর রহিমের ওপর চাপটা কম নয় মোটেও।

টেস্টে এমন নানান ভূমিকায় দেখা যায় মুশফিকুর রহিমকে। কোন ভূমিকায় কেমন চিত্র মুশফিকের?

২০১১ সাল থেকে টেস্ট অধিনায়কত্ব করছেন মুশফিক। অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন ৩২ টেস্ট। পরিসংখ্যান বলছে জয়ের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৩২ টেস্টে সাতটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে ৯ টেস্ট।

Also Read - কন্ডিশন নিয়ে মাথাব্যথা নেই রাব্বির

Mushfiqur Rahim-Australia-SecondTest

ব্যাট হাতেও অধিনায়ক মুশফিকই বেশি উজ্জ্বল। অধিনায়কত্বের আগে খেলেছেন ২৪ টেস্ট। ৪৭ ইনিংসে ২৭.১৫ গড়ে রান করেছেন ১১৯৫। ধীরে ধীরে মুশফিক হয়েছেন আরো পরিণত। নিজের ব্যাটকে করেছেন আরো শাণিত। অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাটিং গড় ৪২.৮৪। রান করেছেন ৫৭ ইনিংসে ২২২৮। পাঁচ শতকের চারটিই হাঁকিয়েছেন অধিনায়ক হয়ে।

অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের রক্ষণাত্মক ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। তবে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পাশাপাশি হয়তো বদলে যচ্ছে মুশফিকের অধিনায়কত্বের ধরণও। ক্রিকেটাররা এখন টেস্টে মাঠে নামে জয়ের জন্য, খেলে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে। খোলনলচে মুশফিক বদলে না গেলেও তার প্রভাবটা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও হঠাৎ হঠাৎ রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করায় মুশফিককে নিয়ে আলোচনা হয়েছে সত্যি, তবে বলতে দ্বিধা নেই আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক মুশফিক।

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক। বরবারই কঠোর পরিশ্রমী। দিনের পর দিন ঝড়িয়েছেন ঘাম, ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করে সময় কাটিয়েছেন। মুশফিকের মধ্যে তাই বাংলাদেশ খুঁজে নির্ভরতা। টেস্টে দীর্ঘ সময় ধরে কিপিং করার পর ব্যাটিংয়ে কি মুশফিকের সেরাটা পায় বাংলাদেশ?

৫৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৫০ টেস্টে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিক। ৯৫ ইনিংসে ৩৬.৬০ গড়ে রান করেছেন ৩১৮৫। ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা ৬ টেস্টে ২৬.৪৪ গড়ে করেছেন ২৩৮ রান।

অনেকেই মনে করেন উইকেটরক্ষকের দায়িত্বটা অন্য কাউকে দিলে ব্যাটিংয়ে মুশফিক থেকে আরো পাওয়া যাবে আরো ভালো কিছু। আরো উপরের দিকে ব্যাটিং করতে নামতে পারেন মুশফিক। যদিও. পরিসংখ্যান কথা বলছে কিপার মুশফিকের পক্ষে। কিন্তু শুধু পরিসংখ্যান দিয়েই যে তা বিশ্লেষণ করা যাবে না।

ব্যাটসম্যান হিসেবে যে ৬ টেস্ট মুশফিক খেলেছেন তার দুইটি টেস্ট মুশফিকের ক্যারিয়ারের বয়স এক হওয়ার আগেই খেলা। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে এক ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে করেছেন ২। এরপর ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন আরো চার ইনিংস। সেই চার ইনিংসে মুশফিকের রান হলো ২৮, ৬৫, ৮৫ ও ৩৪।

ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময় নানান জায়গায় ব্যাট করেছেন মুশফিক। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান তিনি। টেস্ট খেলছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। তারপরেও মুশফিকের ব্যাটিং পজিশনটা এখনো যেন সুনির্দিষ্ট নয়। এ বছর অধিকাংশ সময় খেলেছেন ছয়ে। কখনো খেলেছেন চার-পাঁচ-সাতেও।

বারো বছরের ক্যারিয়ারে মুশফিক নেমেছেন পাঁচ জায়গায়। সবচেয়ে কম ইনিংস ব্যাট করেছেন ৪ নম্বরে। মাত্র তিন ইনিংস। তবে গড়টা সেখানেই সবচেয়ে বেশি, ৪০.৩৩। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করেছেন ১২ ইনিংস। গড় ৩২.৫৪। ছয় নম্বরে ৪৯ ইনিংস ব্যাটিং করেছেন ৩৮.২৬ গড়ে। এছাড়া সাতে ২৭ ইনিংস ও আটে ১৩ ইনিংস ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। গড় যথাক্রমে ৩২.৫৭ এবং ৩৩.৭০।

সম্প্রতি মুশফিক জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্ট যেখানেই চায় সেখানেই নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত মুশফিক। যদি সেটা হয় দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে তবুও! মুশফিকের এমন প্রতিজ্ঞায় অনেকেই অভিভূত। সব ক্রিকেটাররাই চায় যেকোনো জায়গাতেই নিজের সেরাটা দিতে। তবে প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজ নিজ স্বাছন্দ্যবোধের জায়গা। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ও অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তো নিজের পজিশনটা নির্দিষ্ট করার স্বাধীনতা রাখেন। স্বাধীনতা রাখেন নিজের ভূমিকা ঠিক করার।

কিপিংটা পছন্দ করেন মুশফিক। তবে তা ছেড়ে মুশফিক যদি ব্যাট হাতে দলকে আরো ভালো সার্ভিস দিতে পারেন তবে তাতে দলেরই মঙ্গল। কিন্তু পছন্দের কিপিং ছেড়ে মুশফিক কি স্বছন্দে খেলতে পারবেন কিনা সেই প্রশ্নটাও থেকে যায়।

যদি চারে ব্যাটিং করে থাকেন তাহলে কিপিং করে উপরের সাড়িতে ব্যাট করাটা কঠিন হবে মুশফিকের জন্য। কিপিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাটিং করতে পারেন ছয় নম্বরে। মুশফিকের সামনে পথ খোলা রয়েছে দুটোই। পছন্দ এখন তার।

তিন ভূমিকার কোনগুলো মুশফিক কিভাবে পালন করবেন সেটার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে মুশফিকেরই। সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা যদি মুশফিক না পান তাহলেও তা জানিয়ে দেওয়া উচিত সাফ।

Related Articles

‘টাইগার’ মাশরাফির বর্ণিল ১৬ বছর

মুস্তাফিজের ‘ফিজ’ হয়ে ফেরার অপেক্ষা

মুশফিক কিন্তু ওয়ানডে দলেও আছেন!

টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ কাব্য

অনন্য সাকিব, অদম্য সাকিব