SCORE

Breaking News

‘আস্থা হারালে চলবে না’

Share Button

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা মোটেও ভালো যায় নি বাংলাদেশ দলের জন্য। আশার সমাধি আর আর হতাশার চাদরে ঢাকা ছিল প্রতিটি ম্যাচ। বলার মত ভালো করতে পারেন নি কেউই। ব্যাক্তিগত দু একটা স্ফুলিঙ্গ দেখা গেলেও আফ্রিকান পিচে মুখ থুবড়ে পড়েছে দলগত সাফল্য। শূন্য হাতেই তাই ফিরতে হচ্ছে সফরকারীদের।

খালেদ মাহমুদ সুজন (ফাইল ফটো)
খালেদ মাহমুদ সুজন ফাইল ফটো

 

এই সিরিজে হারের বৃত্ত থেকেই বের হতেই পারে নি বাংলাদেশ। একটা জয়ই হয়ত বদলে দিতে পারত সিরিজের চেহারা। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত কিংবা আশার আলো দেখানো জয় রয়ে গিয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই। দেশীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একটা জয়ের জন্য হা হুতাশ করতে দেখা গেল দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে। তাঁর মতে, ‘যেটা আগে হতো এবার তাই হয়েছে। কোন সিরিজের শুরু খারাপ হলে উঠে আসার জন্য একটা জয় দরকার পড়তো আমাদের। একটা জয় হলে হয়ত ঘুড়ে দাঁড়াতে পারতো। তা হয়নি। আমরা প্র্যাকটিস ম্যাচগুলোয়ও ভাল করিনি। টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুর দিকে একটা ম্যাচ জিতলেও হয়ত ভাল হতো। তখন হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা যেত; কিন্তু তা হয়নি। হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। চাপে থেকে থেকে পারফরমেন্স আরও খারাপ হয়েছে। ভাল কিছু হয়নি।’

Also Read - ভাইকিংসের উদীয়মানদের দিকে তাকিয়ে বিজয়

যাদের উপর বেশি ভরসা ছিল আফ্রিকায় সেই পেস বোলাররা দিতে পারে নি নিজেদের সামর্থের সবটুকু। নিংড়ে দিতে পারেন নি সেরা বোলিংটা। সুজন এ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কোন নির্দিষ্ট বিভাগের কথা বলবো না। কোন ডিপার্টমেন্টেই আমরা ভাল খেলিনি। ব্যাটিংও ভাল হয়নি। তবে মনে হয় বোলিং খারাপ হয়েছে। বোলিং ব্যর্থতা আমাদের বেশি ডুবিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটা দল ভালো থেকে এত খারাপ খেলেছে, চিন্তার কারণ অবশ্যই। আমি বলবো না, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমরা সিরিজ জিতে আসতে পারতাম। তবে যা খেলেছি, তার চেয়ে বেটার ক্রিকেট খেলতে পারতাম অবশ্যই। খেলে আসা উচিতও ছিল। আমাদের ফ্রেন্ডলি পিচ ছিল। আমাদের আরও ভাল খেলা উচিৎ ছিল।’

এক সফর দিয়েই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের উপর থেকে মুখ সরিয়ে নিতে রাজি নন সাবেক এ অধিনায়ক।  দলের উপর ভরসা করা সম্পর্কে তাঁর মনের ভাবটা এমন, ‘দলটির ওপর বিশ্বাস ও আস্থা হারালে চলবে না। ক্রিকেটারদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, এই ছেলেরাই অনেক ভাল ক্রিকেট খেলে গত তিন বছরে অনেক সরণীয় সাফল্য উপহার দিয়েছে আমাদেরকে। অনেক বড় দলেরও খারাপ সময় যায়। আমাদের খারাপ সময় এসেছে। ওদেরকে উৎসাহ দিয়ে কি করে ভালো খেলতে পারে সে চেষ্টাই করা উচিৎ।’

বড় দল হয়ে উঠতে দেশের বাইরেও ভালো কিছু করতে হবে টাইগারদের সেটা ঠিকই জানেন দলের ম্যানেজার। বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে বড় বড় দলকে হারানো শুরু করেছে ইতোমধ্যেই। তাই সুজনের মতে কিছু পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে বাঘেদের ডেরার বাইরে। বিদেশ সফর সম্পর্কে তাঁর মত, ‘কিছু কিছু প্ল্যানিং নতুন করে করতে হবে। দেশের বাইরেও খেলতে যাওয়ার আগে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যরে প্রকৃত মূল্যায়ন জরুরি। ওসব নিয়ে নতুন করে চিন্তার সময় চলে এসেছে। দেশের বাইরে খেলতে গেলে শক্তি-সামর্থ্য বাড়ানো প্রয়োজন- এ অনুভব দরকার। আমি বিশ্বাস করি আমরা যা খেলেছি, তার চেয়ে ভাল খেলতে পারি। ছেলেদের অতি মাত্রায় খোঁচাখুঁচি না করে তারা যাতে আবার আমরা সেরা ফর্মে ফিরতে পারি, সে চেষ্টাই করা উচিৎ। ওখান থেকে বেরিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি সমালোচনার বদলে ছেলেদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। তোমরা পারো। অতীতে পেরেছো। ভবিষ্যতেও পারবে। এমনভাবে অনুপ্রাণিত করলে দেখবেন ঠিক আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে টিম বাংলাদেশ।’

আগামী ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ মোকাবেল করবে লঙ্কানদের। এই সফরের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটা তাই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে ঘরের মাঠেই।

আরো পড়ুনঃ টম মুডিকে ‘বিশ্বের সেরা কোচ’ আখ্যা দিলেন মাশরাফি

  • রাইয়ান কবির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম

Related Articles

আমিরকে নিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের দোটানা

দুই বছর ধরেই সুজনের ভাবনায় স্থানীয়দের নিয়ে টি-২০

অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হতেও প্রস্তুত সুজন

দীর্ঘ মেয়াদেই জাতীয় দলের কোচ হতে চান সুজন

হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হতে প্রস্তুত সুজন