তামিমের যোগ্য সঙ্গী কি সৌম্য?

0

একসময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ড্যাশিং ওপেনার সৌম্য সরকার এখন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। সর্বশেষ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে ব্লুমফেন্টাইনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শেষ টেস্টের দুই ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ৯,৩। এর আগে ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে দুই টেস্টে সর্বোচ্চ ৩৩ রানসহ মোট ৬৫ রান। ওয়ানডেতেও ফর্মহীন অনেকদিন থেকেই। আর আজ প্রোটিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও  ১৩ বল খেলে ৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। ওয়ানডে স্কোয়াডে আছেন তিনি। কিন্তু, তার এমন ব্যাটিং দুর্দশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালকে যোগ্য সঙ্গ কি তিনি দিতে পারবেন? কিংবা তার এই ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে আর কতো দিন লাগবে? [আরও পড়ুন: এতো বছরের পারফর্মের বিনিময়ে কি দিলেন আমাকে?]

ক্যারিয়ারের শুরুতে খুব আহামরি ব্যাটিং করতেন বিষয়টা মোটেই তেমন না। ২০১৪ সালের ১লা ডিসেম্বর  মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ৫ম ও শেষ ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচে ২০ রান করেন। তবে দল ৫-০ তে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করায় তার ব্যাটিং নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ডাক পান সৌম্য। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে তার অবদান ৪০ রান। তারপর ২০১৫ সালের ১৩ মার্চ অভিষেকের ৪ ম্যাচ পর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পান। বিশ্বকাপে একটি রেকর্ডও গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ (ভারতের মোহাম্মদ কাইফ এবং পাকিস্তানের উমর আকমলের এই রেকর্ড আছে) ৪টি ক্যাচ ধরেন তিনি।

Also Read - শান্তকে অধিনায়ক করে বাংলাদেশ 'এ' দল ঘোষণা

তারপর আবার তিন ম্যাচ অতি সাধারণ পারফরম্যান্স। প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সেঞ্চুরির দেখা পান ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল। মূলত ওই ম্যাচ দিয়েই নজর কাঁড়ে তার ব্যাটিং। তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১০ বল মোকাবেলা করে অপরাজিত ১২৭* রান তোলেন। সেবার বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো বাংলাওয়াশ করে।

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একমাত্র টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে তারও অভিষেক ঘটে। কিন্তু মাত্র ৩ বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে রান আউটের শিকার হন তিনি। যদিও ওই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বিরাট জয় পায়। ২০১৫ সালের জুনে ভারত বাংলাদেশ সফরে এলে তিন ম্যাচ সিরিজে এক ফিফটিসহ ১২৮ রান করে ভারতকে প্রথমবারের মতো সিরিজ হারানোয় দারুণ ভূমিকা রাখেন।

এরপর তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও নিজেদের মাটিতে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে তার রান ছিল যথাক্রমে ২৭, ৮৮*, ৯০। কিন্তু তারপর থেকে তার রান খরা শুরু। টানা ৮ ম্যাচে বাজে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সৌম্যর ব্যাট রানের দেখা পায় নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজে। সেই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৭* রান করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। ওই শেষ। তারপর থেকে তাকে নিজের ছায়া হয়ে থাকতে দেখা গেছে টানা ৫ ম্যাচ। তার সর্বশেষ ৫ ওয়ানডের রান যথাক্রমে ০,২৮,৩,৩,০!

উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, ক্যারিয়ারে কখনোই ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি। যার ৩১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিসহ ৩৫.৫১ গড়ে ৯৫৯ রান, তার এমন অধারাবাহিকতা সত্যিই ভাবনার বিষয়। টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে তার অবস্থা আরও খারাপ। ১০ টেস্টের ক্যারিয়ারে (২৯.৩৬ গড়ে ৯৬৪ রান) তবু ৪টি ফিফটি আছে, ২৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টিতে কোন ফিফটি তো নেই, উপরন্তু ব্যাটিং গড় মাত্র ১৮.৪৫! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম সারির কোন দলের ওপেনারের জন্য এমন রেকর্ড মোটেই সুখকর নয়।

টাইগারদের বহুদিনের সমস্যা ওপেনিং জুটি। তামিম ইকবাল দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ সময় একাই মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারবেন সৌম্য, এমনটাই ভাবনা ছিল হয়তো। কারণ সৌম্যও আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। কিন্তু কয়েক ম্যাচে ঝলক দেখিয়ে আবার হারিয়ে যাওয়া, যা কিনা ওপেনিং জুটির বহুদিনের সমস্যা, সেই সমস্যার কোন সুরাহা আজও হয় নি। এবং এটি সব ফরম্যাটের জন্যই সত্যি।  এই পর্যন্ত অনেক ব্যাটসম্যান তামিমের সাথে ওপেনিং করেছেন। এইতো কিছুদিন আগে ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে দুর্দান্ত খেলেছেন তামিম ইকবাল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৭৮ রান।

জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চমৎকার ব্যাটিং করেছিলেন তামিম। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার ব্যাট হেসেছে। তামিম অন্যতম অপরিহার্য ও নির্ভরযোগ্য ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও এত দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে কোন ব্যাটসম্যান ওপেনার থাকতে পারেননি। তামিম তার মতোই ভরসার অপর নাম হয়ে আছেন, কিন্তু যোগ্য একজন সঙ্গী আজও পাওয়া গেল না।

টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের হয়ে পাঁচ জায়গায় (টেস্ট ও ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস, টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বাধিক সেঞ্চুরি এবং ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান) তামিম সেরা। তামিমের যেখানে ১৭৩ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯টি সেঞ্চুরি ও ৩৮টি ফিফটি সমেত ৩৪.৩৮ গড়ে ৫৭৪৩ রান, সেখানে কার্যত আজ পর্যন্ত যারা তার সাথে ওপেনিং করেছেন তাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি বললে অত্যুক্তি হবেনা। জাভেদ ওমর বেলিম, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, মুশফিকুর রহীম, নাঈম ইসলাম, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাজিমুদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, শামসুর রহমান শুভ ও সৌম্য সরকার তার ওপেনিং জুটি ছিলেন। কেউ ধারাবাহিকতা না রাখতে পারায় বারবার পরিবর্তন এসেছে ওপেনিংয়ে। এতেই বুঝা যায় তামিম ছাড়া বাংলাদেশ দল কতটা সমস্যায় পড়ে।

সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে এক টেস্ট খেলে দুই ইনিংস মিলিয়ে তামিমের রান ৩৯। ইনজুরির কারণে পরের টেস্ট খেলতেই পারেন নি। তবে দলের জন্য সুখবর ওয়ানডে সিরিজে তামিম ফিরবেন বলে জানা গেছে। না হলে ওপেনিং নিয়ে বড় সমস্যাতেই পড়তে হতো। শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলি, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ম্যাথু হেইডেন, গর্ডন গ্রিনিজ ও দেসমন্ড হাইনস, সনাৎ জয়সুরিয়া ও মারভান আতাপাত্তু কিংবা ডেভিড বুন ও জিওফ মার্শ ক্রিকেট বিশ্বে এমন দীর্ঘ মেয়াদি ওপেনিং জুটির নজির অনেক আছে। কেবল বাংলাদেশেই দীর্ঘ মেয়াদের কোনো ওপেনিং জুটি দেখা যায়নি। টেস্ট ও ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর তামিম ইকবাল ছাড়া আর কোনো ক্রিকেটার ওপেনিংয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি। এটা এদেশের সব ক্রিকেট ভক্ত সবাই জানে যে ওপেনিংয়ে তামিমের রান পাওয়ার উপর দলের বড় রান পাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে। আর তামিম রান পাওয়া মানে দলের জয় অনেকটা নিশ্চিত। কিন্তু প্রতিদিন তার ব্যাট জ্বলে উঠবে এমন আশা করা অন্যায়। ফলে তার যোগ্য সঙ্গের বড়ই প্রয়োজন।

তামিমের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় ওপেন করেছেন ইমরুল কায়েস। ভালোই গড়ে উঠেছিল তাদের জুটিটা। এই জুটিতে এসেছিল ১১৭৮ রান। জুনায়েদ সিদ্দিকী ও শাহরিয়ার নাফিসের সঙ্গে তামিমের জুটিটা ভালো গড়ে উঠেছিল। জুনায়েদের সঙ্গে ২৫ ইনিংস এবং নাফিসের সঙ্গে ২৪ ইনিংস ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। এছাড়াও এনামুল হক বিজয় (১৯) ও সৌম্য সরকারের সঙ্গেও শুরুটা ছিল সম্ভাবনাময়। লিটন দাসও তামিমের সঙ্গে ওপেন করেছেন। কিন্তু এখন সৌম্যকেই নিয়মিত দেখা যায় তামিমের সাথে ওপেন করতে। তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করে প্রথমদিকে মাত্র ৯ ম্যাচেই ৫৮ গড়ে ৪০৯ রান করেছিলেন সৌম্য। কিন্তু তার পর থেকে খেই হারালেন সৌম্য। ধারাবাহিকতা না থাকা সৌম্য আর কতদিন ওপেনিং পজিশনে টিকে থাকবেন সেটাই প্রশ্ন।

স্বেচ্ছায় অবসর নিলেন ইমরুল

যদিও পরিসংখ্যানকে মানদণ্ড ধরলে তামিম ও ইমরুলই টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ও সেরা উদ্বোধনী জুটি। ইমরুলের ব্যাটিং শৈলীটাই সবচেয়ে টেস্ট উপযোগী। তার অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনও দীর্ঘ পরিসরের ফরম্যাটের সাথে লাগসই। কিন্তু যেহেতু ওপেনিংয়ে তামিম আগ্রাসী খেলেন। সেহেতু ইমরুলের মতো ধিরস্থির কেউ তার সঙ্গী হলে ভালই হবে। ফলে হয় ইমরুল, নয়তো সৌম্য। তাছাড়া টাইগারদের হাতে আর কোন অপশন খোলা নেই। কিন্তু একজন ডানহাতি ওপেনার খুব প্রয়োজন বাংলাদেশ দলে। ওপেনিং কম্বিনেশনে এটা খুব কাজে দেয়। ভারত কিন্তু এমন কম্বিনেশন দিয়েই অনেকদিন থেকেই সফলতা পাচ্ছে।

সৌম্যকে দলে রাখায় অনেক সমালোচনা সইতে হচ্ছে নির্বাচকদের। কেউ কেউ কোচকেও দুষছেন তাকে এতো সুযোগ দেওয়ার জন্য। একজন ফর্মহীন খেলোয়াড়কে কত ম্যাচ সুযোগ দেওয়া যায় ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য? তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেট আমাদের কি উপহার দিচ্ছে? ঘরোয়া ক্রিকেটে যেসব খেলোয়াড় ভাল করছেন তাদের সুযোগ দেওয়ার দাবি বহুদিন থেকেই উঠেছে। শাহরিয়ার নাফীস, তুষার ইমরানরা বহুদিন থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল করছেন। কিন্তু তাদের সেই ভাল খেলার মূল্যায়ন কি হচ্ছে?

নাফিসকে সেই ২০১৩ সাল থেকেই জাতীয় দলে ডাকা হচ্ছে না। আজ যেমন নির্বাচক হাবিবুল বাশারকে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে নাফীস বলেছেন, ‘সুমন ভাই আমি গত তিন বছর যে তিন হাজার রান করলাম তার বিনিময়ে আপনারা কী দিলেন? আপনারাতো আমাকে জাতীয় দলের ক্যাম্পেও ডাকতে পারতেন।’

নাফিসকে মিস করবে বাংলাদেশ

নাফীস নিজের প্রসঙ্গ বাদ দিয়েও অন্যদের কথা বলেছেন, ‘আমাকে না হয় নাকে অস্ত্রোপচারের অজুহাতে বাদ দেয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা আরও প্লেয়ার আছে বিজয়, নাঈম, তুষাররা, তাদের কেন নেয়া হলো না?’

প্রশ্নটা প্রাসঙ্গিক। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে কি কেউ যোগ্য নেই যারা জাতীয় দলে ওপেনিং বা অন্তত দলে খেলতে পারেন? তাহলে এর দায় কার? নতুন কাউকে সুযোগ না দিলে তাদের ভিতরে আগ্রহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নাফিস পুরনো খেলোয়াড়, তারপরও তার বয়স ৩২। এই বয়সেও ঘরোয়া ক্রিকেটে গত তিন বছরে প্রায় তিন হাজার রান করেছেন তিনি। দাবী তিনি করতেই পারেন। তবে নাফিস শুধু নিজের কথাই বলেন নি, আরও যাদের কথা বলেছেন তাদের সুযোগ করে দিতে সমস্যা কোথায়? কোটি মানুষের ভালবাসা বাংলাদেশের ক্রিকেট ঘিরে। তাই প্রত্যাশাও অনেক। প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হবে।

সৌম্য সরকার নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান। আগ্রাসী ব্যাটিং তার মূল মন্ত্র। কিন্তু বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম তার ওপেনিং সঙ্গী। তাই তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়াই তার প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিৎ। সৌম্যর আগ্রাসী ব্যাটিং ইনিংসের শেষদিকেই অধিক কার্যকর হতে পারে। ফলে আক্রমণের চেয়ে তামিমকে সঙ্গ দিয়ে দেখেশুনে খেলাই সৌম্যর জন্য অধিক কার্যকরী হতে পারে। কিংবা তাকে ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে সরানো যেতে পারে। যদিও সব নির্ভর করছে টিম ম্যানেজমেন্টের উপর। আসন্ন সিরিজ সৌম্যর জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়েই দেখা দিবে। সুযোগের একটা সীমারেখা নিশ্চয়ই আছে। আর সুযোগ কাজে লাগাতে পারাই ভাল ব্যাটসম্যানের গুণ। চাপটা সৌম্য নিজেও হয়তো বুঝতে পারছেন। এখন সেই চাপ মুক্তির পথ তাঁকেই খুঁজে নিতে হবে। নতুবা তামিমের জন্য নতুন সঙ্গী খুঁজতে হবে আবারও।

  •  মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক