দূর্ভাগা মুমিনুল

0

এক বল আগেই মরনে মরকেলের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়েছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের সামনে ৪২৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। প্রথম ওভারেই রানের খাতা খোলার আগে তামিম ইকবালের ফিরে যাওয়ায় বাংলাদেশ খাদের কিনারায়। যেন অতল সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। ভরসা ছিল মুমিনুল হকের উপর। সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন অনেক আগেই। হয়ে উঠেছেন নির্ভরতার প্রতীক।
দূর্ভাগা মুমিনুল

প্রথম ইনিংসেও মুমিনুল ছিলেন লড়াকু। তার দলীয় সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়েছিল বাংলাদেশ। বড় ভূমিকা রেখেছিল দলকে ফলো-অনের হাত থেকে বাঁচাতে। দ্বিতীয় ইনিংসেও এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে দরকার ছিল বড় কোনো ইনিংস। কিন্তু সবাইকে হতাশ করলেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের বিপর্যয় হলো আরো ঘোরতর। দুই বল টিকলেন মাত্র।

অবশ্য নিজেকে দূর্ভাগা ভাবতেই পারেন মুমিনুল হক। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢুকছিল মরকেলের ডেলিভারিটি। মুমিনুল হক ক্রস ব্যাটে খেলতে চাইলেন। বল অনেকটা ভেতরে ঢুকে ফাঁকি দিল মুমিনুলের ব্যাট। আঘাত হানলো প্যাডে। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন। দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনে আঙুল তুলে সাড়া দেন আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ড। তামিমের পর মুমিনুলও ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই।

Also Read - পচেফস্ট্রুম টেস্টঃ বোলিংয়ে আর দেখা যাবে না মরকেলকে

ফিরে যাওয়ার আগে সঙ্গী ইমরুল কায়েসের সাথে দেখা গেল আলোচনা করতে। এরপর রিভিউ না নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সাজঘরে হাঁটা দেন মুমিনুল।

হক-আইতে ধরা পরে মুমিনুলের দূর্ভাগ্য। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে বলটি চলে যায় লেগ স্টাম্পের বাইরে। অর্থাৎ রিভিউ নিলেই বেঁচে যেতেন মুমিনুল হক। সেক্ষেত্রে দিনশেষে বাংলাদেশও হয়তো থাকতো আরেকটু ভালো অবস্থানে।

টিভি রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে আউট ছিলেন না মুমিনুল। মুমিনুলের রিভিউ না নেওয়ার কারণে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আম্পায়ার্স কল হলে রিভিউ বাদ হবে না- এ নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর রিভিউটা মুমিনুল নিতেই পারতেন বলে মনে করছেন অনেকে। রিভিউ না নেওয়ার কারণে সমালোচনা হয়েছে ইমরুল কায়েসেরও।

পচেফস্ট্রুমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন উইকেটে ৪৯। এখনো ৩৭৫ রান প্রয়োজন জয়ের জন্য। টাইগারদের হাতে আছে সাত উইকেট।