পঞ্চম দিনে দেড় ঘন্টায় শেষ বাংলাদেশের লড়াই

0

ম্যাচ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশকে দিতে হতো কঠিন পরীক্ষা। ব্যাটসম্যানদের দেখাতে হতো চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা আর দৃঢ়তা। কিন্তু পচেফস্ট্রুমে পঞ্চম দিনে দেড় ঘন্টাতেই শেষ হলো বাংলাদেশের লড়াই। সাত উইকেট নিয়ে প্রথম সেশনটাও পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়েও হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের রানের সমান।

পঞ্চম দিনে দেড় ঘন্টায় শেষ বাংলাদেশের লড়াই

৩ উইকেটে ৪৯ রান থেকে দিন শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ছিল আসা-যাওয়ার মিছিল। ৬ রান যোগ করার পর চতুর্থ উইকেটের পতন। ৫৫ রানের মাথায় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিদায়। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক খবর ছিল বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেওয়া মরনে মরকেলকে মোকাবেলা করতে হবে না। তবে মরকেলকে মোকাবেলা না করেই বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। দলের ভরসা মুশফিকই বিদায় নিয়েছেন সবার আগে। কাগিসো রাবাদার বাউন্স সামাল দিতে পারেননি। ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে থাকা হাশিম আমলাকে।

Also Read - পাকিস্তানে খেললে ম্যাচপ্রতি দশ হাজার ডলার!

কাগিসো রাবাদার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন প্রথম ইনিংসের হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন রিয়াদ। তবে রানে নয়, উইকেটের ধরণে। আবারো ব্যাটে লেগে বল আঘাত হেনেছে স্টাম্পে। ৯ রান করে ফিরে গেলেন মাহমুদউল্লাহ। ৬২ রানের মাথায় বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেটের পতন।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়েই হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। মিশে যায় ম্যাচ বাঁচানোর সব সম্ভাবনা। যতক্ষণ টিকে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার অপেক্ষা বাড়ানো যায় আর হারের ব্যবধানটা কমানো যায়। বৃষ্টি ছাড়া ম্যাচ বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না তখন। কিন্তু পচেফস্ট্রুমের আকাশ ছিল না বাংলাদেশের পক্ষে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আলো ছড়িয়েছেন প্রোটিয়া বোলাররা।

রাবাদার ছোবল চলছিল এক প্রান্তে। ভেতরে ঢোকা এক বলকে লিটন দাস চেয়েছিল উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে যাওয়ার সুযোগ দিতে। কিন্তু বল লাগে লিটনের প্যাডে। লিটন পড়েন লেগ বিফোরের ফাঁদে। রিভিউ নিলেও তা কাজে লাগেনি।

পরের ওভারেই বিদায় নিয়েছেন সাব্বির রহমান। কেশব মহারাজের বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরে যান সাব্বির। নিজের পরের ওভারে মহারাজ এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন আহমেদকে। তাসকিনের রিভিউ হয় ব্যর্থ। আসা-যাওয়ার মিছিলে ২ রান করে রান আউট হয়ে যোগ দেন শফিউল ইসলাম। একাই কিছুটা লড়াই করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এক ছয় আর এক চারে করেন অপরাজিত ১৫। আরেক প্রান্তে থাকা মুস্তাফিজুর রহমানকে ফিরিয়ে দিয়ে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন কেশব মহারাজ।

বাংলাদেশকে খেলতে হতো তিন সেশন। খেলতে পারেনি এক সেশনও। সারাদিন যেখানে টিকে থাকতে হতো উইকেটে সেখানে বাংলাদেশ টিকেছে দেড় ঘন্টার মতো। পরাজয়ের ব্যবধানটাও বিশাল, ৩৩৩ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯৬/৩, ডিক্লেয়ার্ড, প্রথম ইনিংস
এলগার ১৯৯, আমলা ১৩৭, মারক্রাম ৯৭
শফিউল ১/৭৪, মুস্তাফিজুর ১/৯৮

বাংলাদেশ ৩২০/১০, প্রথম ইনিংস
মুমিনুল ৭৭, রিয়াদ ৬৬, মুশফিক ৪৪
মহারাজ ৩/৯২, মরকেল ২/৫১

দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৭/৬, ডিক্লেয়ার্ড, দ্বিতীয় ইনিংস
ডু প্লেসিস ৮১, বাভুমা ৭১, আমলা ২৮
মুমিনুল ৩/২৭, মুস্তাফিজুর ২/৩০

বাংলাদেশ ৯০/১০, দ্বিতীয় ইনিংস
কায়েস ৩২, মুশফিক ১৬, মিরাজ ১৫*
মহারাজ ৪/২৫, রাবাদা ৩/৩৩