SCORE

Breaking News

‘পেস বোলিং এ পিছিয়ে যাচ্ছি’ – সুজন

Share Button

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বাজে সিরিজটা খুব সম্ভবত পার করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে নাকানি চুবানি খেয়ে দেশে ফিরছে বংলাদেশ দল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটের ‘আমাবস্যার চাঁদ’ হয়ে থাকা জয়ের দেখা পায় নি বাংলাদেশ। নিজেদের ঘরের মাঠে অপরাজিত ছিল আফ্রিকানরা।

Taskin Ahmed

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার আগে আশার ঝুলি খুলে বসেছিল টাইগার পেসাররা। কিন্তু সে বেলুন আফ্রিকা পৌঁছুতেই চুপসে গিয়েছে। যে বোলারদের ঘাড়ে চেপে ভালো করবার কথা তারা ছিলেন একদমই অফ ফর্মে। সে চাপ গিয়ে পরেছে ব্যাটসম্যানদের উপর। সে চাপ সামাল দিতে গিয়ে ব্যাটিং পিচেও খেই হারিয়েছে ব্যাটসম্যানরা। এক সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আপনি যখন লম্বা রানের চাপ নিয়ে খেলবেন, তখন বিষয়টা অন্যরকম। আগে ব্যাট করা সহজ। পরে কঠিন। যেহেতু বোলাররা সে অর্থে কিছুই করতে পারেনি, তাই ব্যাটসম্যানদের রানের চাপ নিয়ে খেলতে হয়েছে। এটাও ব্যাটিং খারাপ হওয়ার একটা কারণ। তারপরও বলবো, উইকেট ছিল দারুণ। আমরা খুব লাকি, খুব ভাল ব্যাটিং উইকেট ছিল এবার। যেমন উইকেট ছিল তাতে আরও ভাল ব্যাটিং হওয়া উচিৎ ছিল। তাই বলে আপনি টেস্ট, ওয়ানডেতে নতুন বলে উইকেটই নিতে পারবেন না- এটা হয়? আমাদের পেস বোলিং দূর্বলতা আর সীমাবদ্ধতা খুব বেশি করে চোখে পড়েছে এবার।’

Also Read - যাত্রা শুরু দেশের প্রথম স্পোর্টস রেডিওর

ভালো করার ইচ্ছেটা ছিল না বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আর তাই তাঁর মতে, ‘ভাল করার গরজটা নিজ থেকে আসতে হয়; কিন্তু আমাদের ছেলেদের মাঝে তা কম।’

পেস বোলিং এর দিক থেকে দুর্বল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে স্পিনেই সাফল্য বুনে টাইগাররা। কিন্তু বাইরের দেশে সিমিং কন্ডিশনে পেসারদের অযুহাত মানতে নারাজ সুজন। তাঁর ব্যাখ্যা অনেকটা এমন, ‘সাকিব, মিরাজ ও তাইজুলরা ঘরের মাঠে আমাদের কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে ভাল বল করেছে। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে সাফল্যও উপহার দিয়েছে। মানছি দেশের মাটিতে আমাদের পেসারদের হয়ত তেমন কিছু করারও থাকে না। তাই বলে দেশের বাইরে তো তারা বল হাতে জ্বলে উঠতে পারে। কই তাও তো পারে না।’

টেস্ট ম্যাচ জিততে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেয়াটা জরুরি। স্পিন বোলাররা সাফল্য পেলেও লম্বা সময় ধরে সফলতার মুখ দেখছেনা বাংলাদেশের পেস বোলাররা। শেষবার কবে বাংলাদেশের কোনো পেস বোলার টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়েছে সেটা ভাবতে যে গলদঘর্ম হবে আপনার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ঠিকই ভালো করেছে স্বাগতিক পেসাররা। সেখানে মলিন ছিল টাইগার পেসারদের একেকটা স্পেল। সাদামাটা বোলিং দিয়ে কোটাই পূরণ করেছেন তারা উইকেট আর তুলতে পারেন নি। সে প্রসঙ্গে ম্যানেজার সুজন বলেন, ‘আপনি পরিসংখ্যান ঘেটে দেখুন, ২০১৩-র পর আমাদের কোন ফাস্ট বোলার টেস্টে ৫ উইকেট পেয়েছে কি না? মনে হয় ২০১৩ সাথে জিম্বাবুয়ে সফরে রবিউল ইসলাম শিবলু হয় শেষবার পেসারদের মধ্যে ৫ উইকেট শিকারি। দক্ষিণ আফ্রিকার মত দেশে ফাস্ট বোলারদের করে দেখানোর অনেক কিছুই ছিল। রাবাদা করে দেখিয়েছে। আমার মনে আমরা পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে দিনকে দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। রাবাদা ১০ নম্বর ওভারের চার নম্বর বলটিও ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে করছে। আর আমাদের পেসারদের গতি কমছে। কয়েক ওভার যেতেই সবার গতি ১৩০‘র আশাপাশে চলে আসছে।’

একজন পেস বোলারের সবচেয়ে বড় ভয় ইঞ্জুরি। তাই বলে নিজেরে সেরাটা দিবেন না এমনটাতো নয়। ‘ মাশরাফি বিন মর্তুজা ‘ এর দেশের কোনো পেস বোলার যদি সেরাটা দিতে না চায় তবে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিই বা হতে পারে। মানুষ অভ্যাসের দাস। কিন্তু আপনি যদি অভ্যাসই না করেন তাহলে মূল মঞ্চে সেরাটা না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নেটে বোলিং সম্পর্কে সাবেক এ অধিনায়কের তথ্য অনেকটা এমন, ‘ইনজুরির ভয়ে আমাদের বোলাররা নেটে মাত্র ৪/৫ ওভার বল করে। প্র্যাকটিসে এত কম সময় বল করার কারনে শুধু যে দীর্ঘ স্পেলে বল করার শক্তিই তৈরি হচ্ছে না তা নয়। কোয়ালিটিও বাড়ছে না। ইনজুরির ভয়ে নেটে কম বল করবো, এটা হতে পারে না। আপনি যদি নেটে কম বল করেন, তাহলে জায়গামত ভাল জায়গায় বল করার অভ্যাস তৈরি হবে কোত্থেকে? নেটে ও প্র্যাকটিসে অনেকক্ষণ বোলিং না করলে লাইন-লেন্থও যথাযথ হবে না।’

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজেদের আমলে ফিরে গিয়েছেন একসময়ের গতিদানব সুজন। স্মৃতি আওড়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মুদাসসর নজর আর অমরনাথের সময় নেটে দুই ঘন্টার কম বল করিনি। আমি দুই ঘন্টা বোলিং করতাম। এমনকি ইনজুরিরও শিকার হতাম না। আপনি পাকিস্তানি গ্রেট ফাস্ট বোলার বোলার ওয়াসিম, ওয়াকার আর আকিব জাভেদের সাথে কথা বলে দেখেন, এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় খবর নেন প্রোটিয়ারা অনেক পরিশ্রম করে।’

সুজন আরো বলেন, ‘শুধু রানিং আর জিম বা পেশি বাড়িয়ে লাভ নেই। বোলিং কারুকাজ, লাইন-লেন্থের বৈচিত্র্য আনা ডান ও বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের জন্য সম্পূর্ণ বিপরীত লাইন ও লেন্থে বল করতে শেখা জরুরি।’

নিজেদের সময় একদম ঘাসের উইকেট পেয়েও কাজে লাগাতে পারেন নি সুজনরা। কথায় কথায় জানালেন, ‘আমরা যখন ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলেছি, তখন উইকেট ছিল ফাস্ট বোলারদের স্বর্গ। সবুজ ঘাসের পিচ। মাটি দেখা যেত না। শুধু ঘাস চোখে পড়তো। এবারের উইকেট দেখে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি মনে হোক না কেন, দক্ষিন আফ্রিকার উইকেট যখন, তখন কিছু সতেজ ও সজিবতা তো অবশ্যই ছিল; কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি।’

আরো পড়ুনঃ ‘আস্থা হারালে চলবে না’

  • রাইয়ান কবির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম

Related Articles

আমিরকে নিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের দোটানা

দুই বছর ধরেই সুজনের ভাবনায় স্থানীয়দের নিয়ে টি-২০

অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হতেও প্রস্তুত সুজন

দীর্ঘ মেয়াদেই জাতীয় দলের কোচ হতে চান সুজন

হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হতে প্রস্তুত সুজন