মাশরাফি-সাকিব-তামিমের ফেরায় ইমরুলের স্বস্তি

0

দুঃস্মৃতির টেস্ট সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলের চোখ এখন ওয়ানডে সিরিজের দিকে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অঘোষিত অবসর নিয়েছেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। টেস্ট সিরিজে সাকিব আল হাসান ছিলেন না বিশ্রামে থাকায়। শেষ টেস্টে ইনজুরির কারণে ছিলেন না তামিম ইকবালও। তবে দলের সেরা তিন তারকা ফিরছেন ওয়ানডে সিরিজে। আর এই কারণে স্বভাবতই স্বস্তিতে পুরো বাংলাদেশ দল।

সাকিব তামিম মাশরাফি

দলের স্বস্তি কিংবা ভরসার চিত্র মঙ্গলবার ফুটে উঠল ইমরুলের সাংবাদিকদের সাথে আপালচারিতায়। এ সময় ইমরুল কথা বলেন ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে।

Also Read - 'উঁচু মান বজায় রেখেই খেলেছি'

মাশরাফি, সাকিব ও তামিমের ব্যাপারে ইমরুল বলেন, মাশরাফি ভাই আর সাকিবের আসা, তামিমও খেলবে এবার। এমন তিন জন খেলোয়াড় না খেললে কতটা ঘাটতি থাকে সেটা তো আমরা এখানে শেষ টেস্টটা খেলে বুঝেছি। ওদের ছাড়া কতটা সংগ্রাম করতে হয়, আমরা বুঝেছি। অবশ্যই ওরা আসাতে দলের ভারসাম্য অনেক ভালো হয়েছে। আশা করি, ওয়ানডে সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আমাদের দলেও ভালো ভারসাম্য আছে এখন। ভালো খেলা হবে।

মাশরাফি দলের সাথে থাকলে খেলোয়াড়দের চাপ কতটা কমে যায় সেটি ফুটে উঠল বাঁহাতি ওপেনারের কথায়- মাশরাফি ভাই থাকলে আমরা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করি। তিনি অনেক মজা করেন। যার জন্য হয়তো বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপটা অনেক সময়ে আমরা বুঝতে পারি না। এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক জিনিস। উনি এসে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে যে মোটিভেট করেন এটা অবশ্যই অনেক বড় জিনিস।

নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল আখ্যা দিয়ে ইমরুল লড়াকু একটি ওয়ানডে সিরিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ‘বাংলাদেশের কন্ডিশনে আপনারা জানেন, আমরা শক্তিশালী দল। আমরা প্রমাণ করছি, অ্যাওয়েতে এসে ম্যাচ জেতা সম্ভব। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে আমরা ম্যাচ জেতা শুরু করেছি। এখানে ভালো একটা সিরিজ হবে। যদি আমরা ব্যাটার ক্রিকেট খেলতে পারি ভালো একটা ফল হওয়া সম্ভব।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতে দলকে সংগ্রাম করতে হবে না- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আপনি ওয়ানডেতে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। থিতু হয়ে গেলে ইচ্ছামত রান বের করতে পারেন। টেস্ট ক্রিকেটে চাইলেও আপনি ইচ্ছামত রান বের করতে পারবেন না। যেদিকে শট খেলতে চাইবেন সেদিকে ফিল্ডার রাখে। সেখানে আউট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমার মনে হয়, টেস্টে বোলারদের অনেক সুযোগ থাকে ব্যাটসম্যানদের আউট করার জন্য। ওয়ানডেতে এটা ভিন্ন হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ দলের মনোযোগ ওয়ানডে সিরিজের দিকে। সেটি উল্লেখ করে ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটার বলেন, স্কিলের দিক থেকে আমাদের দলের সবাই তো ভালো। আগের চেয়ে অনেক ভালো। সব শটই খেলতে পারে সবাই। বড় ইনিংসও খেলতে পারে। ওদিক দিয়ে কোনো সমস্যা নাই। এখন আমাদের মনোযোগ ওয়ানডে ক্রিকেটের দিকে। আমার মনে হয়, টেস্টের উইকেট আর ওয়ানডের উইকেট ভিন্ন হবে। ওয়ানডেতে ওরা চাইবে রান বেশি করতে। রান বেশি করার জন্য ফ্ল্যাট উইকেট বানাতে পারে। কেমন উইকেট পাব ওপর নির্ভর করবে খেলাটা কেমন হবে।

আমরা নিউজিল্যান্ডেও খেলেছি। যদিও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন আর এখানের কন্ডিশন দুই রকম। নিউজিল্যান্ডে পেস থাকে তবে বাউন্স তত থাকে না। কিন্তু এখানে বাউন্স-পেস দুইটাই বেশি থাকে। আপনাকে এখানে পরিকল্পনা করে এক জায়গায় বল করতে থাকে।‘- এমনটি উল্লেখ করে ইমরুল আরও বলেন,আমি অনেক দলের বিপক্ষে অনেক জায়গায় খেলেছি, এই প্রথম দেখলাম কেউ পাঁজর তাক করে একটানা বল করে যায়। আমি অনেক দলকে দেখেছি, তারা এটা পারে না। কিন্তু এই টেস্টে তারা এটা করেছে। (কাগিসো) রাবাদা বা (ডুয়ানে) অলিভিয়ের বলেন, খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করে এটা করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অনভ্যস্ত উইকেটে খেলা দেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন উল্লেখ করে ইমরুল বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট তো আপনি বাংলাদেশে বানাতে পারবেন না। এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। অনেকে অনেক কথা বলেন, কিন্তু যারা ক্রিকেট খেলে, আমরা যারা মাঠে খেলি আমরা বুঝি আসলে বাস্তবিক জিনিসটা কী হচ্ছে। আমরা যতই ইনডোরে অনুশীলন করি, ওই অনুশীলন আর এখানে এসে এই উইকেটে খেলা দুইটা ভিন্ন জিনিস।

ইমরুল আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন, ওরা যে পরিকল্পনা করে বোলিং করে, যে বাউন্স দেয় আমাদের দেশে চাইলেও তেমন করতে পারবে না। ওরা এক জায়গায় বোলিং করতে থাকে। যখন বোলাররা এক জায়গায় বোলিং করতে থাকে তখন ব্যাটসম্যান উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, এখান থেকে সারভাইভ করতে হবে। এই স্কিলগুলো ওদের অনেক ভালো। এই সফর থেকে অনেকে অনেক কিছু শিখেছে। পরে যখন এই ধরনের কন্ডিশনে খেলা হবে আগে থেকে মানসিকভাবে অনেক তৈরি থাকবে।

দলে টিকে থাকার জন্য ভালো খেলার বিকল্প নেই, সেটি বুঝতে পারছেন ইমরুল নিজেও। তিনি জানান, আমার খেলা আমাকেই খেলতে হবে, অন্য কেউ খেলে দেবে না। পারফর্ম করলে আমি এখানে থাকব, না করলে থাকব না। আমরা এখানে খেলতে এসেছি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এখানে খেলার চেষ্টা করছি। অনেক সময় সফল হচ্ছে, অনেক সময় হচ্ছে না। চেষ্টা করে যাচ্ছি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য।

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম