মুশফিককে সরানোর পক্ষে নন বুলবুল

0

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্টে টাইগারদের চরম ব্যর্থতা ও অধিনায়ক মুশফিকের কিছু মন্তব্যের জের ধরে ভালোই উত্তপ্ত দেশের ক্রিকেট মহল। গুঞ্জন উঠেছে অধিনায়কত্ব হারাতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অনেক সাবেক ক্রিকেটার পরবর্তি অধিনায়ক হিসেবে নিজেদের পছন্দের কথা জানালেও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল হাঁটছেন অন্যপথে। এই মুহুর্তে মুশফিককে সরানোর পক্ষে নন বুলবুল।

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক জানান, “আমার তো মনে হচ্ছে, টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে ভাই! শেষ দুইটা ম্যাচে যা হচ্ছে, জীবনে কখনও এমন হয়নি- মনে হচ্ছে টস হারলেই ভালো হয়।”

Also Read - ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে প্রতিরোধহীন পরাজয়

তিনি আরো বলেন, “আমি একটা ব্যাপার পরিষ্কার করি, আমি ফিল্ডার হিসেবে খুব একটা ভালো না। আমার কোচরা চেয়েছে আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। কারণ, আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি রান হয়ে যায়। বা আমার হাতে ক্যাচ-ট্যাচ আসলে নাকি (ধরার) চান্স থাকে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে, সেটা তো আপনার করতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি, বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকার। যখন ভেতরে ছিলাম তখন চেষ্টা করেছি, বোলারদের সঙ্গে কথা বলার।”

মুশফিকের এমন মন্তব্যকে বিচার-বিশ্লেষণ করার কথা বলেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “মুশফিকের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, সে বেশ বিচলিত অবস্থায় আছে। বেশ চাপে আছে। সে কারণেই আবেগপ্রবণ হয়েই সে কিছু কথা বলে ফেলেছে। বোর্ডের উচিত ওর এই কথাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করা। একজন অধিনায়ক কোন পরিস্থিতিতে ড্রেসিংরুমের কথাবার্তা সংবাদ সম্মেলনে এসে বলে ফেলে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।”

এদিকে দুই টেস্টেই মুশফিকের টসের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। বুলবুল এই প্রসঙ্গে বলেন, “সিদ্ধান্ত দুটি মুশফিকের ছিল বলে আমি মনে করি না। এটা টিম ম্যানেজমেন্টের মস্তিষ্কপ্রসূত। চরম নেতিবাচক একটা ভাবনা। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে দক্ষিণ আফ্রিকা তো দুদিন ব্যাটিং করবেই। আমরা পরে ব্যাটিং করে যদি একটু ভালো করি, তাহলে ম্যাচটাকে ড্রয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যাবে। এমন নেতিবাচক পরিকল্পনা নিয়ে কোনো দল টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে পারে না। টসে জিতে ব্যাটিং নিলে দুটি ম্যাচের পরিস্থিতি অন্য রকম হলেও হতে পারত।”

তবে যাই হোক এখনই মুশফিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেবার পক্ষে নন বুলবুল, “ওকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। মুশফিক খুবই আবেগী ক্রিকেটার। হুট করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ওর খেলার ওপর প্রভাব ফেলবে, সেটা হতে দেওয়া উচিত নয়। ওর সঙ্গে সবার বসা উচিত। অধিনায়কত্ব যদি আসলেই ওর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ও নিজেই নিক।”