SCORE

Trending Now

সাকিব-তামিম ছাড়াই আত্মবিশ্বাসী মুশফিক

Share Button

পচেফস্ট্রুম টেস্টে কোনোরকম প্রতিরোধ না গড়েই বড় হার মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ দলে ছিলেন না দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। বিশ্রামজনিত কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কোনো টেস্টেই খেলবেন না তিনি। অন্যদিকে দলের আরেক সেরা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ব্লুমফন্টেইন টেস্টে থাকছেন না ইনজুরির জন্য। [আরও পড়ুন: দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলে আসছে ৪ পরিবর্তন]

Mushfiqur Rahim playing a shot

সেরা দুই ক্রিকেটার দলে না থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য নেতিবাচক দিকই। তবে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

Also Read - পঞ্চম আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের নতুন লোগো

বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, ‘আপনার সেরা দুই খেলোয়াড় যখন থাকবে না, আমি বলবো আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা। ওদের খুব দরকার ছিল এখানে। কারণ, আপনারা জানেন প্রথম টেস্ট আমরা খুব বাজেভাবে হেরেছি। আমি মনে করি, সময় কারোর জন্য থেমে থাকে না। আমাদের অন্য খেলোয়াড় যারা আছে তারা যদি সুযোগ কাজে লাগায় তাহলে ভালো কিছু হবে।’

সাকিব-তামিম ছাড়া শেষবার খেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমাদের জন্য একটা ভালো সুযোগ এখানে ভালো কিছু করার। আমি যদি ভুল না করে থাকি, এই দুই জনকে ছাড়া আমরা সম্ভবত শেষ টেস্ট খেলেছিলাম গলে। সেই টেস্ট আমরা ড্র করেছিলাম। সেটাও কিন্তু আমাদের জন্য অত সহজ ছিল না। ওই সময়ে শ্রীলঙ্কা দলে যে খেলোয়াড়রা ছিলেন তারা এখনকার ক্রিকেটারদের চেয়ে অনেক ভালো ছিলেন।’

প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও মুশফিক ভালো করাকে দেখছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে, ‘চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই। আপনি যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে আসবেন চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে। এই ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগও। এই মাঠে আগেও খেলেছি, যদিও ৯ বছর আগে।’

উইকেট নিয়ে ভাবনা জানাতে গিয়ে মুশফিক বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার আগে আমরা এমন উইকেট পাওয়ার কথাই ভেবেছিলাম। প্রথম টেস্টের উইকেট আমাদের মতো হলেও আমরা হয়তো নিজেদের প্রয়োগ করতে পারিনি, বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তার মানে এটা না, ওদের হোম কন্ডিশনে টাফ উইকেটে আমরা ভালো খেলতে পারব না।’

প্রথম টেস্টে হারার পেছনে ছোটখাটো ভুলগুলোকেই দায়ী করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে ব্লুমফন্টেইনে আগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে বিশ্বাস তার। মুশফিক বলেন, ‘আশা ছিল হয়তো, প্রথম টেস্টে আমরা অনেক ভালো করব। সেটা আমরা পারিনি। প্রথম টেস্টে আমরা ছোট ছোট কিছু ভুল করেছি, তার জন্যই হয়তো বা প্রথম টেস্টটা আমরা বাজেভাবে হেরেছি। এখানে টাফ কন্ডিশন হলেও, এখানে এর আগেও আমরা খেলেছি।

দ্বিতীয় টেস্টে ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মুশফিক জানান কাঙ্ক্ষিত সেই মন্ত্র, ‘আমরা প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পারি, যা কিনা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখন। আপনি একটা সেশনে ৬/৭টা উইকেট হারিয়ে ফেললে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হয়ে যায়। একটা সেশন খারাপ গেলেও সেখানে যেন আমরা দুই-তিনটার বেশি উইকেট না হারাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোলিংয়ে ২০০ বা ৩০০ রানে এক উইকেট না হয়ে আমরা যেন চেষ্টা করি, ৫/৬টা উইকেট নেওয়ার। এই কাজগুলো করতে হলে, প্রক্রিয়াগুলো ঠিক রাখতে হয়। আমরা সেদিকে জোর দিচ্ছি। খেলোয়াড় হিসেবে আমার বিশ্বাস, ওদের সামর্থ্য আছে। এখন ওদের দৃঢ়তার ওপর নির্ভর করছে। শেষ টেস্টে যেমন খেলেছি, আমরা তার চেয়ে অনেক ভালো দল। আমরা সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করব এই টেস্টে।’

প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকতে ব্যাটসম্যানদের দিকেই তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমরা যেন নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা। ভালো শুরু পেলে সেটা যেন বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারি। আর বোলাররা যদি ভালো লাইন, লেন্থে বল করি, ধারাবাহিকভাবে চাপটা রাখতে পারি তাহলে আশা করছি, খুব ভালো একটা টেস্ট হবে।’

দলের অধিনায়ক হিসেবে ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন না জানিয়ে মুশফিক বলেন, দলের খেলোয়াড়েরা তার বার্তা বুঝতে পারলে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি অধিনায়ক হিসেবে ফল নিয়ে কখনোই উদ্বিগ্ন থাকি না। প্রক্রিয়া নিয়ে সব সময় বেশি চিন্তা করার চেষ্টা করি। যদি তারা আমার বার্তাটা বোঝার চেষ্টা করে তাহলে অনেক ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’

দলের পাশাপাশি নিজেদের সাফল্যের জন্যও বোলারদের ভালো করার তাগিদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বোলারদের ফিরে আসার অনেক সুযোগ থাকে, একটা বল বা একটা স্পেল খারাপ হলেও। ওরা যদি ফল নিয়ে চিন্তা না করে প্রতিটি বলে শতভাগ দিতে পারে এটা শুধু বাংলাদেশ দল না তাদের নিজেদের জন্যও অনেক বড় একটি ব্যাপার হবে। সেই জন্যই প্রক্রিয়া ঠিক রাখার কথা বলেছি।

পেসারদের প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ‘আপনি যখন উইকেট পাবেন না, তখন চেষ্টা থাকবে রান রেট যতটা সম্ভব কম রাখার। পরে যখন রিভার্স সুইং শুরু হবে বা নতুন বল পাবেন তখন আবার অ্যাটাকিং অপশনগুলোর দিকে যেতে পারবেন। সেই কাজটা হয়তো ওরা প্রথম টেস্টে করতে পারেনি। আশা করি, ওরা যে জন্য দলে আছে, যে জন্য এখানে এসেছে সেই কাজ করতে পারবে।

বোলাররা প্রথম টেস্টের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে কাজে লাগাবেন- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মুশফিক বলেন, ‘এখন যে উইকেট দেখা যাচ্ছে, তাতে বোলারদের জন্য সুবিধা থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আশা করি, যে ভুল তারা (প্রথম টেস্টে) করেছে সেখান থেকে শিখতে পারবে। আর যত তাড়াতাড়ি শিখবে তাদের জন্য মঙ্গল, বাংলাদেশ দলের জন্যও মঙ্গল।’

এইদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দলে আসতে পারে ৪টি পরিবর্তন। তামিম ইকবালের জায়গায় সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় তাইজুল ইসলাম, শফিউলের জায়গায় শুভাশিস রায়, তাসকিন আহমেদের জায়গায় রুবেল হোসেন।

এক নজরে দ্বিতীয় টেস্টে সম্ভাব্য বাংলাদেশ দলঃ ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ/তাইজুল ইসলাম, শুভাশিস রায়, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।

  • সিয়াম চৌধুরী, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম

Related Articles

ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন বোর্ড সভাপতির

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে প্রতিরোধহীন পরাজয়

‘টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে!’

‘এলগারের ধৈর্যশীল ইনিংসের এমন সমাপ্তি ব্যথিত করেছে’

মুমিনুলের অর্ধশতক, নেই তামিম