SCORE

সর্বশেষ

সাবেকদের কাঠগড়ায় বোলাররা

কিম্বার্লিতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০ উইকেট বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ দল। ব্যাটিং বিভাগে কিছুটা সফল হলেও বোলিংয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ বাংলাদেশের বোলাররা।

সাবেকদের কাঠগড়ায় বোলাররা

টসে জিতে ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটিং নেওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এমন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তামিমের ইনজুরিতে ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন লিটন দাস।

Also Read - দলের ৮৬ শতাংশ রান একজনের ব্যাটে!

শুরুটা দারুন করলেও শেষ পর্যন্ত হতাশ করেন এই ব্যাটসম্যান। বিশ্রাম থেকে ফিরে এসে তেমন সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। দলের হয়ে একাই লড়ে গিয়েছেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিং স্বর্গের পুরোপুরি সুবিধা নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

মুশফিক বাদে উইকেটে সেট হয়ে আউট হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং সাব্বির রহমান। দলের হয়ে শতক হাঁকান মুশফিক, যোগ্য সঙ্গী না পেয়ে দলীয় স্কোর বড় হয়নি বাংলাদেশের। ফলে শেষ পর্যন্ত মুশফিকের অপরাজিত ১১০ রানের কল্যাণে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে দল।

ব্যাটসম্যানরা লড়াকু সংগ্রহ এনে দিলেও প্রোটিয়া দুই ওপেনার হাশিম আমলা ও ডি ককের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের বোলাররা। কক ও আমলার সেঞ্চুরিতে ১০ উইকেটের জয় পায় প্রোটিয়ারা।

বাংলাদেশের বোলারদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণের পর সাবেকদের কাঠগড়ায় তাঁরা, পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদেরও দুষলেন তাঁরা। জাতীয় দলের তিন সাবেক খালেদ মাসুদ পাইলট, আকরাম খান ও হাবিবুল বাশারের মতে আরো ৩০-৪০ রান বেশি করা উচিত ছিল বাংলাদেশের।

আকরাম খানের মতে ব্যাটিংয়ে আরো ৩০ রান বেশি করা উচিত ছিল দলের পাশাপাশি বোলারদেরও আরেকটু ভালো বল করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। মুশফিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

“আসলে ব্যাটসম্যানরা সেট হয়ে আউট হয়ে গেছে। না হয় আরও রান হতে পারতো। হবার যথেষ্ঠ সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল। তারপরও যে রান ছিল, সেটা একদম ভাল, তাও নয়। এই রান নিয়ে খুব ভাল বল করতে হয়। আমাদের ফাস্ট বোলাররা সেই ভাল বোলিংটাই করতে পারেনি। এতে তাদের কোয়ালিটি কী, তা বোঝা গেছে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “মুশফিক খুব ভাল ব্যাটিং করেছে। তার সাথে আর কেউ একজন ৬০-৭০ কিংবা ৮০ করতে পারলইে তো আমাদের স্কোরলাইন অনেক লম্বা চওড়া হয়ে উঠতো।”

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইনিংস শেষে রানের আক্ষেপ নতুন কিছু নয়। অধিকাংশ ম্যাচেই ২০-২৫ রান কম করে থাকে ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে এই ধরনের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আরো একটু বেশি রান হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন হাবিবুল বাশার।

“ওপেনিং ভাল হওয়া খুব জরুরী। মুশফিক সেঞ্চুরি করেছে। খুব ভাল; কিন্তু ওপেনারদের রোল আরও বড় হওয়া উচিৎ। প্রথম তিনজনের যে কোন একজনের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস বেরিয়ে আসলে ভাল হতো। ভাল খেলতে খেলতে ২০-২২ রানে আউট হয়ে গেলে কোন লাভ নেই। তাতে দলের কোন উপকার হয় না।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আর প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরাও খুব ভাল। আমাদের বোলারদের এটা এক ধরনের বোলিং পরীক্ষা। এমন কন্ডিশনে আসলে কি করা উচিৎ, আর কি করা উচিৎ নয়, তা তারা শিখছে। আমার মনে হয় তারা চেষ্টা করছে।”

কিম্বার্লির মতো উইকেটে ৩০০ এর নিচে নিরাপদ নয় সেটি আগাম বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন অভিজ্ঞ অল-রাউন্ডার নাসির হোসেন। মূলত বোলারদের জন্য তেমন সুবিধা না থাকার কারণে ব্যাটসম্যানদেরই মূল কাজটা করতে হয়।

খালেদ মাসুদ পাইলটের মতে দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে খেললে আরো ৩০-৪০ রান বেশি হতে পারতো। পাশাপাশি বোলারদের নিয়ে আরো কাজ করতে বললেন এই সাবেক অধিনায়ক।

“কিম্বার্লির এই উইকেটকে আমার ব্যাটিং স্বর্গ বলেই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ঐ পিচে সাড়ে তিনশোর নীচে রান নিরাপদ নয়। এমন কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত না। তারপরও উইকেটটা খুব ভাল হবে। মুশফিক একা খেলেছে। টপ অর্ডারে আর একজনও যদি ভাল করতো, তাহলে ৩০-৪০ রান বেশি হতো।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের বোলিং নিয়ে অনেক কিছু করার আছে। আমাদের বোলারদের মধ্যে খেয়াল করুন, মাশরাফি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। বুদ্ধি খাটিয়ে বল করছে। তাই তাকে ইচ্ছেমত যেখান দিয়ে খুশি শট খেলাও কঠিন হচ্ছে। এটাই দরকার।”

Related Articles

আর্জেন্টিনা হেরেছিল বাংলাদেশের কাছেও!

ভিনদেশী লিগে খেলার ব্যাপারে আরও কঠোর হচ্ছে বিসিবি

মুস্তাফিজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মুস্তাফিজের উপর ক্ষিপ্ত বোর্ড

আফগান সিরিজেও প্রধান কোচের দায়িত্বে ওয়ালশ!