SCORE

Breaking News

স্বস্তির পরাজয়ের পর জয়ে হোক শেষ

Share Button

নিজেদের হারিয়ে খুঁজতে থাকা টাইগারদের জন্য কিছুটা স্বস্তি হয়ে এসেছে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ২০ রানে পরাজয় বরণ করলেও পরাজয়ের ধরণে ছিল লড়াই করার মানসিকতা। বোলারদের উপর এবারও স্টিম রোলার চলেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেই চাপ মুক্তির চেষ্টায় কোন কার্পণ্য করেন নি। আর এটাই এই ম্যাচের প্রাপ্তি।

হঠাৎ যেন ছন্দপতন ঘটেছিলো টাইগারদের। টেস্ট সিরিজ হারলেও ওয়ানডে নিয়ে ভাল কিছুর প্রত্যাশা ছিল। দলে মাশরাফি-সাকিবের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশার পালে হাওয়া লাগিয়েছিল। কিন্তু, ওয়ানডেতে আরও লজ্জাজনক পরাজয়। এবার নতজানু হোয়াইটওয়াশ। কেমন ছন্নছাড়া লাগছিল টাইগারদের। ফলাফল বিশাল পরাজয় সব ওয়ানডেতে।

Also Read - স্টোকসকে 'হিরো' বললেন সমকামী দম্পতি

ওয়ানডে সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অভিষেক সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ এমন প্রত্যাশা ছিল টাইগার সমর্থকদের। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফিও আশা প্রকাশ করেছিলেন তার উত্তরসূরির অধীনে ভাল করবে বাংলাদেশ। সেই প্রত্যাশার কিছু ঝলক দেখা গেল প্রথম ম্যাচেই।

প্রচণ্ড চাপে থাকা দলটিকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন কাজটিতে পুরো সফল না হলেও মাঠে লড়াই করার সেই উদ্যম কিছুটা হলেও দেখা গেছে এই ম্যাচে। দক্ষিণ আফ্রিকার ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের বিশাল টার্গেট আবারও অসহায় আত্মসমর্পণের নতুন গল্প লিখতে চলেছে বলে মনে হচ্ছিলো। প্রোটিয়াদের হয়ে কুইন্টন ডি ককের ৪৪ বলে ৫৯ রানের ইনিংস আর এবি ডি ভিলিয়ার্সের ২৭ বলে ৪৯ রানের ঝড় এবং শেষদিকে ফারহান বেহারডিনের ১৭ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচ থেকে ছিটকেই পড়েছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশি বোলারদের জন্য আরও একটি হতাশাজনক দিন উপহার দিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। সাকিব-তাসকিন-শফিউল-সাইফুদ্দিন রান দেওয়ার বদান্যতায় নিজেদের ছাড়িয়ে গেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আর রুবেল হোসেন সেক্ষেত্রে বেশ ভালই করছেন বলতে হবে। ৪ ওভার বল করে ৭.৭৫ রান রেটে ২ উইকেট মিরাজের। হাশিম আমলা ও ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট তার প্রাপ্তি। আর রুবেল ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ডি ককের উইকেট তুলে নিয়েছেন। এই ছিলো বোলারদের অবস্থা। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে রুবেল ক্রমেই মূল পেসারের ভূমিকায় উঠে আসছেন।

ব্যাটিংয়ে বহুদিন পর সৌম্য ঝলক দেখা গেলো। তাকে নিয়ে সমালোচনার শেষ টানতে মরিয়া হয়েই কি না ৩১ বলে ৪৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন। তার ইনিংসে ২ ছক্কা আর ৫টি বাউন্ডারির মার ছিল। দলীয় ৯২ রানের মাথায় ফেহলুকাইয়োর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সৌম্য বিদায় নিলে এক নবাগত সাইফুদ্দিন ( ২৭ বলে ৩৯ রান) ছাড়া আর কেউ দায়িত্ব নিতে না পারায় ২০ রানের পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ। তবে হারের ব্যবধানটাই এক্ষেত্রে আশা জাগানিয়া।

এই ম্যাচের প্রাপ্তি অবশ্যই সৌম্য সরকারের ব্যাটিং। তার হাতে দারুণ কিছু স্ট্রোক আছে সেটা যেন সবাই ভুলতেই বসেছিলো। কিন্তু এই ম্যাচে তাকে সেই আগের রূপে দেখা গেছে। যদিও তিন রানের জন্য পাননি অর্ধ-শতকের ম্যাজিক ফিগার। তবে এমন ইনিংসকে ‘মূল্যহীন’ বলছেন তিনি নিজেই। কারণ দলের জয় এখানে মুখ্য।

সৌম্য বলেন, ‘ইনিংসটা যদি লম্বা করতে পারতাম, দল যদি জিতত তখন এটা নিয়ে বলতে পারতাম। আমি শেষ করতে পারিনি, দল জেতেনি। এই ইনিংসের মূল্য নেই।’

এমন কথাও তার মুখ থেকে বহুদিন শোনা যায়নি। সেই সাথে ভালো করার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের এই বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা এসেছে তার কথায়। নবাগত সাইফুদ্দিনের ব্যাটিং বেশ আশা জাগানিয়া। যদিও বোলিংয়ে তাকে অনেক উন্নতি করতে হবে। অধিনায়ক সাকিবের কণ্ঠে আফসোস শেষ দিকের পাঁচ ওভারের ব্যাটিং।

 

অতিরিক্ত ডট বল বড় ক্ষতির কারণ। ব্যাটিং করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২২টি ডট বলের বিপরীতে টাইগারদের ডট বল ৪৫টি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে চার-ছক্কা থেকে এসেছে ৮৮ রান, বাংলাদেশের ইনিংসে ৯৮। পরের ম্যাচে এদিকটায় খেয়াল রাখবেন বলে জানিয়েছেন সাকিব-সৌম্যরা। ফিল্ডিংটাও ভাল হচ্ছে না। কমপক্ষে ২০ রান বেশি হয়েছে ওয়াইড, বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে।

তবে আসল ক্ষতি হয়েছে বোলিংয়েই। তাসকিন এখনও লাইন-লেন্থ খুঁজে পান নি। গতিময় বোলিং যার মূল অস্ত্র, সেটার ধারও কমে গেছে। উইকেট প্রাপ্তি তার জন্য এখন সোনার হরিণ। মাত্র ২ ওভার বল করে ২১ রান দেওয়ার ফলে তাকে আর আক্রমণেই আনেন নি সাকিব। আরেক পেসার শফিউলও ২ ওভার বল করে ৩৩ রান দিয়েছেন। পেসারদের এখনও অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে।

আরেকটা বিষয় অধিনায়ক সাকিবের আত্মবিশ্বাস। তাকে অনেকেই ভবিষ্যৎ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবেও ভাবছেন। দল পরিচালনা আর ফলাফল নির্ভর খেলার প্রতি তার আগ্রহ এই ম্যাচেও খুঁজে পাওয়া গেছে। ঠিক এই ব্যাপারটাই সবাই আশা করেছিল ওয়ানডে আর টেস্টে। এখন শুধু প্রথম ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় দেখিয়ে পরের ম্যাচে এর সফল অনুবাদ দেখার অপেক্ষা। সাকিব নিজেদের ভুল গুলো শুধরে জয় চান।

প্রথম টি-টোয়েন্টি শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাকিবকে এসএমএস পাঠান ‘ওয়েল প্লেইড’ লিখে। সাকিব তার জবাবে পরে তাকে বলেন, আপনি ‘ওয়েল প্লেইড’ বললেন, কিন্তু আমরা তো জিততে পারিনি! এই হচ্ছেন দেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব। তিনি জয় চান। এদেশের টাইগার সমর্থকরাও জয় চান।

একটা জয় অনেক কিছু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। এই বাংলাদেশ দলই ক্রিকেটে বহু কীর্তি গাঁথা রচনা করেছে। মানুষ এখন সেসব ভুলতে বসেছে। ফলে জয়ের বিকল্প নেই। যন্ত্রণার সফরের শেষটায় আগামীকাল আগের ম্যাচের লড়াকু টাইগারদের আরও শানিত রূপে দেখতে চাইবে ক্রিকেট সমর্থকরা।

 

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

Related Articles

হাথুরুসিংহের পদত্যাগের ভাবনা টেরও পাননি মাশরাফি

ফর্মে ফিরেও অখুশি সৌম্য

পাঁচ ছক্কার কথা ভুলে গিয়েছেন সাইফউদ্দিন

বিপিএল দিয়ে দুঃসময় কাটানোর প্রত্যাশায় মাশরাফি

‘আরেকটু ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ভেবেছিলাম’