SCORE

Trending Now

চলছে খুলনার জয়ের রথ

Share Button

ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড় গড়ে প্রথম ইনিংস শেষেই জয়ের পথটা কিছুটা মসৃণ করে রেখেছিল খুলনা টাইটান্স। ব্যাটসম্যানদের পর বোলাররাও তাদের কাজটা করেছে সঠিকভাবে। অব্যহত থাকলো খুলনা টাইটান্সের জয়ের রথ।

চলছে খুলনার জয়ের রথ

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে খুলনা টাইটান্স। দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও রাইলি রুশো ২৮ রানের ভিত গড়ে দেন। রুশো থিতু হওয়ার আগেই বিদায় নেন। ৬ রান করে রান আউট হন তিনি। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে ৪৫ রান যোগ করেন শান্ত। তাদের জুটি ভাঙেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। এক রানের জন্য অর্ধশতক থেকে বঞ্চিত হন শান্ত। ফ্রাঙ্কলিনের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

Also Read - বিপিএলে শফিউলের পঞ্চাশ

ঐ ওভারে খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও বোল্ড করেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন।  এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় খুলনা টাইটান্স। আফিফ হোসেন ও নিকোলাস পুরানের ৮৮ রানের জুটিতে সেই চাপ সামাল দেয় খুলনা।

নিকোলাস ও আফিফ দ্রুত রান তুলতে থাকেন। রান রেট দশের উপরে তুলে ফেলেন দুই ব্যাটসম্যান। ২৬ বলে ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান। ৬ চার আর ৩ ছক্কায় ৫৬ রান সাজান তিনি। তাদের জুটিও ভাঙেন ফ্রাঙ্কলিন। এরপর ঝড় তুলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। তাকে সঙ্গ দেন আফিফ হোসেন। শেষ ওভারে বিদায় নেওয়ার আগে ৩৪ রান সংগ্রহ করেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। মাত্র ১৪ বলের ঝড়ো ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছয়।

৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ হোসেন। কোনো চার মারেননি তিনি। হাঁকিয়েছেন পাঁচটি ছক্কা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় খুলনা টাইটান্স।

৫০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ফ্রাঙ্কলিন। সামি লাভ করেন একটি উইকেট। ৪৮ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

পাহাড়সম রানের চাপের জবাব দিতে প্রথম ওভারে ৯ রান তুলেন মুমিনুল হক ও লুক রাইট। দ্বিতীয় ওভার থেকেই রাজশাহী কিংসের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন কাইল অ্যাবোট। তৃতীয় ওভারে শফিউল ইসলাম ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনারকে। শফিউলের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন মুমিনুল (১১)।  ঐ ওভারে শফিউলের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারির একদম কাছাকাছি ধরা পড়েন রাইট। মাত্র ১ রান করেন তিনি।

এরপর নেমেই ঝড় তুলেন রনি তালুকদার। আবু জায়েদের এক ওভারে ১৭ রান ও কাইল অ্যাবোটের এক ওভারে ১১ রান তুলেন রনি।  তাকে দারুণ সঙ্গ দেন জাকির হাসান। সপ্তম ওভারে শফিউলের বলে টানা তিন বলে তিন চার হাঁকান জাকির।

তাদের জুটি ভাঙেন আবু জায়েদ রাহী। আবু জায়েদের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বিদায় নেন রনি তালুকদার। পরের বলে জায়েদ ফিরিয়ে দেন জাকিরকেও। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি রাজশাহী কিংসের। এক ওভার পরে ড্যারেন স্যামিও ফিরে যান। শফিউলের বলে তুলে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ধরা পড়েন ড্যারেন স্যামি (১)।  পরের বলে শফিউলকে মিড উইকেট দিয়ে খেলতে চাইলেও ব্যাটে-বলে হয়নি মুশফিকের। বোল্ড হন মুশফিক। আবারো এক ওভারে দুই উইকেট পান শফিউল ইসলাম।

জেমস ফ্রাঙ্কলিন ও মেহেদি হাসান মিরাজ মিলে ৪০ রানের জুটি গড়েন।  ১৪ রান করে জোফ্রা আর্চারের বলে বোল্ড হন ফ্রাঙ্কলিন। এক ওভার পরেই আফিফ হোসেন ফিরিয়ে দেন মিরাজকে। ২ ছক্কা আর ১ চারে সাজানো মিরাজের ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংস শুধু রাজশাহী কিংসের হারের ব্যবধানই কমায়। মিরাজের বিদায়ের পর কেসরিক উইলিয়ামস স্টাম্পিং হন রিয়াদের বলে। এরপরের ওভারে শফিউল ইসলামের বলে আউট হন মোহাম্মদ সামি। মোহাম্মদ সামিকে ফিরিয়ে দিয়ে খুলনার ৬৮ রানের বড় জয় নিশ্চিত করেন শফিউল। এর পাশাপাশি পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেটও।

টি-২০ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করলেন এ পেসার। এর আগে তার টি-২০ তে সেরা বোলিং ফিগার ছিল ১৭ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট।

৫৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরষ্কার পান খুলনা টাইটান্সের নিকোলাস পুরান।

এ জয়ের মাধ্যমে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স। ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট তাদের। অন্যদিকে এ পরাজয়ের পর শেষ চারের আশা আরো কমে গেল রাজশাহী কিংসের। ৯ ম্যাচের ৩ টিতে জিতে ৬ পয়েন্ট রয়েছে তাদের খাতায়। পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠস্থানে অবস্থান করছে রাজশাহী কিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ খুলনা টাইটান্স ২১৩/৫, ২০ ওভার
নিকোলাস পুরান ৫৭, আফিফ হোসেন ৫৪, নাজমুল হোসেন ৪৯
জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৩/৫০, মোহাম্মদ সামি ১/২২

রাজশাহী কিংস ১৪৫/১০, ১৯ ওভার
রনি তালুকদার ৩৬, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৯, মোহাম্মদ সামি ১৮
শফিউল ইসলাম ৫/২৬, আবু জায়েদ ২/৪৮, জোফ্রা আর্চার ১/১৫

আরও পড়ুনঃ বিপিএলে শফিউলের পঞ্চাশ

Related Articles

‘সুযোগ পেলে জায়গা ছাড়বো না’

রাহীর লক্ষ্য এখন জাতীয় দল

রিয়াদের কন্ঠেও গেইল বন্দনা

কারো উপর নির্ভর করতে চাননি গেইল

এক ম্যাচে একাধিক রেকর্ডের মালিক গেইল