SCORE

Trending Now

‘বিকল্প বিপিএল’ কতোটা যৌক্তিক?

Share Button

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে অসন্তুষ্ট দেশের সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রত্যেক দলে পাঁচ বিদেশি খেলানোয় সুযোগ হারাচ্ছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা। অনেক স্থানীয় খেলোয়াড় বিপিএলে দলই পান নি। স্কোয়াডেও জায়গা হারাচ্ছেন অনেকে। অথচ দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা উঠে আসার একটা দারুণ প্ল্যাটফর্ম হওয়ার কথা বিপিএল। এহেন পরিস্থিতিতে আগামী মৌসুম থেকে স্থানীয়দের নিয়ে আলাদা একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে বিপিএল কমিটি। বিপিএলের মান নিয়েই যেখানে নানা প্রশ্ন সেখানে এই ‘বিকল্প বিপিএল’ ঠিক কতোটা যৌক্তিক?

 

স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আলাদা টি-২০'র পরিকল্পনা বিসিবির

Also Read - জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার মুখে তামিম-লিটন

এবারের আসরে চারজনের পরিবর্তে পাঁচজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো নিয়ে শুরু থেকেই চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। বিদেশিদের আধিক্যের কারণে এই আসরকে এবার ‘বিদেশি প্রিমিয়ার লিগ’ বলেও অভিহিত করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বিদেশি ক্রিকেটারদের দাপটে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেয়ার খুব একটা সুযোগ পাননি স্থানীয় ক্রিকেটাররা। মাঠের সব আলো যেমন কেড়ে নিচ্ছেন তারা, আবার ব্যাটিং-বোলিংয়ে সুযোগও বেশি পাচ্ছেন। আবার দেশি ক্রিকেটার যারা সুযোগ পাচ্ছেন, তাদের কাছে থেকেও দেখা যাচ্ছে না আহামরি কোন পারফরম্যান্স। এমন এক পরিস্থিতিতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। স্থানীয় ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য বাড়াতে বিপিএলের পাশাপাশি আলাদা একটি টুর্নামেন্ট।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানিয়েছেন, ‘বিপিএলে স্থানীয় ক্রিকেটাররা ভালো খেলছে না, এটা একটা চিন্তার বিষয়। তাদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য বাড়াতে আমরা আগামী মৌসুমে শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছি।’

পরিকল্পনাটি অভিনব সন্দেহ নেই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে সেই আয়োজনের মান কেমন হবে? কারণ, এমন পরিকল্পনা একেবারে নতুন নয়। স্থানীয়দের নিয়ে আলাদা টুর্নামেন্ট ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই আয়োজন করা হয়। সেগুলোর মান বেশ উন্নত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের বিপিএল’কেও ছাড়িয়ে যায়। আবার বাংলাদেশেই এর আগে ২০১৩ সালে দেশের শীর্ষ ৫৬ জন ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিলো বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সেই আয়োজন বেশ প্রশংসা অর্জন করলেও মোটা দাগে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নি। ফলে নতুন পরিকল্পনা কেমন করবে তা নিয়ে ভাবার অবকাশ আছে।

 

দুটির বেশি বিদেশি লিগে খেলতে পারবেন না সাকিবরা

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দিয়েছে একজন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার দুইয়ের অধিক বিদেশি লিগে খেলতে পারবেন না। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন। বিসিবি’র ভাষ্যমতে, খেলোয়াড়দের ঘনঘন ইনজুরিতে পড়া রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত। কিন্তু, বিদেশি লিগে যারা খেলেন, তাদের মধ্যে সাকিব সবচেয়ে বেশি লিগে খেললেও ইনজুরিতে খুব কমই পড়েন। মুস্তাফিজ একমাত্র ব্যতিক্রম। আর এই সমস্যা শুধু বিদেশি লিগে খেলার কারণে হয়েছে তা মনে হয়না। তবে যদি তাদেরকে স্থানীয়দের আলাদা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে সেটা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যই ভাল হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি লিগে না খেললেও খেলার মধ্যেই থাকতে পারবেন তারা।

এবারের আসর ঘিরে অনেক প্রত্যাশা ক্রিকেট ভক্তদের। পাইপলাইনে নতুন প্রতিভা উঠে আসলে জাতীয় দল সমৃদ্ধ হবে। এর আগে সেটাই হয়েছে। কিন্তু এবার হয়তো ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। এবারের আসর থেকে নতুন কোনো প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসবেন কিনা সেটা নিয়ে এখন চিন্তিত খোদ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। অর্থাৎ, পাঁচ বিদেশী নিয়ে তাদের পরিকল্পনা আদতে দেশের ক্রিকেটকে ভাল কিছু উপহার দিতে পারছে না। চলতি আসরে পাঁচ বিদেশী ক্রিকেটার খেলানো নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের তিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। এ নিয়ে অসন্তুষ্টি রয়েছে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মাঝেও। তারপরও বিদেশিদের সুযোগের কোন কমতি নেই।

ইসমাইল হায়দার মল্লিক আরও জানিয়েছেন, ‘টুর্নামেন্টটি এমন সময়ে আয়োজন করা হবে যাতে জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারও এতে অংশ নিতে পারেন। টুর্নামেন্টটিতে অংশ নেবে বিপিএলের অংশগ্রহণকারী দলগুলো, সেই সাথে দেখা যেতে পারে আরও চার-পাঁচটি দলও।’

খুবই উৎসাহব্যঞ্জক কথা। কিন্তু, বিপিএলের দলগুলো শুধু দেশি খেলোয়াড়দের নিয়েই গঠিত হয় না। দলের বিদেশিরা অংশ নিবে কি না তা জানান নি তিনি। তবে যেহেতু স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন, তার মানে শুধু তাঁরাই অংশ নিবেন। এদিকে জাতীয় দলের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ও বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, ‘ওই টুর্নামেন্টের জন্য আমি দুই বছর ধরে বলে আসছি। এটি হলে নতুন ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়াটা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সহজ হবে। ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএলে শুরু থেকে পারফর্ম করা সহজ হবে।’

মাইলফলক স্পর্শ করলেন কায়েসসব মিলিয়ে পরিকল্পনা যথেষ্ট অভিনব। পরিকল্পনার বাকিটা প্রকাশ হলে বুঝা যাবে কি হবে। কিন্তু, বিপিএল’কে আরও স্থানীয় ক্রিকেটার বান্ধব না করে বিকল্প আয়োজন ঠিক কেমন হবে সেটাই ভাবনার বিষয়। সারা বছর ঘরোয়া লিগে ভাল করে যারা অপেক্ষায় থাকেন বিপিএলে খেলার জন্য, তারা যখন দেখেন তাদের জায়গায় একজন বিদেশি খেলছেন তা স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা। বিকল্প আয়োজনে বিদেশি তারকা, বিদেশি কোচদের সান্নিধ্য পাওয়া তো আর স্থানীয়দের জন্য সম্ভব হবে না। প্রচারের আলোও বিপিএলের ধারেকাছে থাকবে না। তাহলে এমন আয়োজনকে বিপিএলের সাথে তুলনীয় ভাবার কোন সুযোগ থাকে না। এতো অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতো বিষয় মনে হচ্ছে। বিকল্প আয়োজনে থাকবে না মূল আয়োজনের পরিবেশ, প্রচার তথা জৌলুস।

সারা বিশ্বেই এখন টি-টোয়েন্টি লিগ গুলো দিন দিন যতটা আকর্ষণীয় ও বর্ণময় হয়ে উঠছে ততটাই যেন রং হারাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এতো বেশি সংক্ষিপ্ত পরিসরের ক্রিকেট নষ্ট করে দিচ্ছে ক্রিকেটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু, জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে বহু এগিয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি। এখন আবার দশ ওভারের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব অমিরাতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বসতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ১০ ওভারের ‘টি টেন ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্ট।ফুটবল ম্যাচের মতো ৯০ মিনিট সময়সীমার এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের তিন জনপ্রিয় ক্রিকেটার সাকিব-তামিম-মুস্তাফিজ।

সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে স্থপতির আক্ষেপ
ছবিঃ বিডিক্রিকটাইম

 

সব মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণ হয়ে উঠেছে এখন সময়ের প্রয়োজন। ফলে ঘরোয়া লিগগুলো এখন টি-টোয়েন্টি নির্ভর। বিপিএল তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বিজ্ঞাপন এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনার পাইপলাইন। ভাল প্রতিভা তুলে আনার একটা মানদণ্ড হচ্ছে বিপিএল। শুধু বিদেশী এনে বাণিজ্য আর জৌলুস বাড়িয়ে কাজের কাজ কিছুই হবে না। স্থানীয় ক্রিকেটারদের বহু প্রতীক্ষিত বিপিএল যদি সঠিক পথে থাকে তাহলে বিকল্প আয়োজন না করলেও কার্যকর ফল বয়ে আনবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ‘বিকল্প বিপিএল’ কোন সঠিক বিকল্প নয়, শুধুই প্রয়োজন।

আরো পড়ুনঃ জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার মুখে তামিম-লিটন

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

Related Articles

রংপুর যাচ্ছে বিপিএলের ট্রফি

একজন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের গল্প

বিপিএল ২০১৭: সর্বোচ্চ উইকেট সাকিবের

বিপিএল ২০১৭: সবচেয়ে বেশি রান গেইলের ব্যাটে

ফাইনালে রংপুর রাইডার্স