SCORE

Breaking News

বিপিএলঃ অধিনায়ক নাসিরের ‘দুইয়ে দুই’

Share Button

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে (চতুর্থ আসরে নিষিদ্ধ থাকা) সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে সিলেট সিক্সার্স। নতুন নামে নতুন মালিকানার দলটি অধিনায়কত্বের ক্ষেত্রেও চমক দেখিয়েছে। গুরুদায়িত্বটি সামলাচ্ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নাসির হোসেন। আর সেই দায়িত্বে দারুণ সফলতার পরিচয় দিয়ে পরপর দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছেন নাসির এবং তার দল। সিলেটের অধিনায়ক হিসেবে তার শুরুটা চমক জাগানিয়াই বটে।

অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন নাসির

এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শুভসূচনা করে সিলেট সিক্সার্স। সিলেটের অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলে অভিষেক ম্যাচেই দলের জয়, সেই সাথে ব্যক্তিগত অর্জনেও উদ্ভাসিত নাসির। টস জিতে নাসির হোসেন সিদ্ধান্ত নেন প্রথম ফিল্ডিং করার। সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করতে বল হাতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করলেন নাসির। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম চাপটা নিজের উপরই চাপিয়ে দেন নাসির। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে নেন তিনি। আর সেই ওভারেই মেহেদী মারুফ ক্যাচ তুলে দেন রস হোয়াইটলির হাতে।

Also Read - মিসবাহর উপরেই আস্থা রাখছে চিটাগং ভাইকিংস

নাসিরের পরের স্পেলে আবুল হাসানের ক্যাচে পরিণত হয়ে বিদায় নেন আরেক ওপেনার এভিন লুইসও। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন লঙ্কান কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা ঢাকার হাল ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অধিনায়ক ও আইকন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান (২৩)। শেষদিকে ১৩ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ক্যামেরন দেলপোর্ত। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৩৬ রান। নাসির ছাড়াও দুইটি করে উইকেট দখল করেন আবুল হাসান এবং লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট। ঢাকাকে আটকে রাখার কাজটা দারুণভাবে সামলান অধিনায়ক নাসির। ৪ ওভার শেষে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৫.২৫ ওভার পিছু রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট তুলে নেন তিনি।

জবাব দিতে নেমে লঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গার অপরাজিত ৬৯ রান আর আন্দ্রে ফ্লেচারের ৬৩ রানের সুবাদে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেন নাসিররা। বিপিএলে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই বিশাল জয় পান নাসির। সেই সাথে বোলার নাসিরের পুনর্জন্মও হলো যেন। কারণ পরের ম্যাচেও আবার একই ঘটনা। যদিও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে ৯৭ ম্যাচে ৭.২০ ইকোনমি রেটে ৬৪ উইকেট আছে তার দখলে।

সিলেট পর্বের দ্বিতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিলেট অধিনায়ক নাসির হোসেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচেও বোলার নাসিরের ঝলক দেখা গেল।

কুমিল্লার হয়ে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও উইকেটকিপার লিটন দাসের ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন নাসির। ব্যক্তিগত ১২ রানে কায়েসকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান নাসির। এরপর স্পিনার তাইজুলের বলে লিটন দাসের বিদায় (২১)।

অধিনায়ক নাসিরের 'দুইয়ে দুই'

এরপর তাইজুলের বলেই জস বাটলারের (২) বিদায়ে বেশ চাপে পড়ে যায় কুমিল্লা। তবে একপাশ আগলে রেখে ৪৭ বলে ৬০ রান করেন মারলন স্যামুয়েলস। বাকিদের ব্যর্থতায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা। এই ম্যাচেও ৪ ওভার বল করে ৪.৫০ ওভার প্রতি রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নিয়েছেন নাসির। সিলেটের হয়ে দুইটি করে উইকেট লাভ করেন স্যানটুকি ও তাইজুল।

আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও দুই ওপেনার থারাঙ্গা এবং ফ্লেচার শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে থাকেন। ডুয়েন ব্রাভোর বলে ব্যক্তিগত ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে থারাঙ্গার সাথে ৭৩ রানের জুটি গড়েন ফ্লেচার। এরপর নবীর বলে দ্রুত সাব্বিরের বিদায়ের পর টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে রান আউটের শিকার হন ৫১ রান করা উপুল থারাঙ্গা। খেলায় উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। অধিনায়ক নাসির হোসেন হাল ধরার চেষ্টা করেন। ১৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে রশিদ খানের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন নাসির।

শেষ মুহূর্তে (এক ওভারে ১০ রান দরকার) তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে ব্রাভোর প্রথম বলে শুভাগত ফিরলেও দ্বিতীয় বলে উইকেটকিপার নুরুল হাসান ৬ মেরে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন দলকে। আর পঞ্চম বলে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন সোহান। চার উইকেটের জয় পান নাসিররা। আবারও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ উপুল থারাঙ্গা। তবে এবারও আসল কাজটা কিন্তু তাইজুল আর নাসিরই করেছেন। বোলিংয়ে এসে রানের চাকা আটকে দেওয়ার কাজটা যে এই দুজনেই করেছেন।

বিপর্যয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে দুই ওয়ানডে খেলে আহামরি কিছুই করতে পারেন নি দারুণ সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড় নাসির। জাতীয় দলের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। দীর্ঘদিন অনেকটা অবহেলাই সয়েছেন নাসির। কিন্তু, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএলে উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বরূপে নাসির। দলে সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, কামরুল হাসান এবং নুরুল হাসানের মতো ক্রিকেটাররা থাকলেও বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে উপুল থারাঙ্গা কিংবা আন্দ্রে ফ্লেচার ছাড়া তেমন বড় কোন নাম নেই। তবে এমন দল নিয়েও বেশ দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে সিলেট। আর অধিনায়ক হিসেবে নাসিরকেও বেশ পরিণত মনে হচ্ছে।

আমাদের ১০-১৫ রান কম হয়ে গিয়েছেঃ নাবী
ছবিঃ বিডিক্রিকটাইম

বিপিএলে অধিনায়কত্ব আগেও করেছেন নাসির। তবে সেগুলো ছিল এক ম্যাচের জন্য। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যথাক্রমে রংপুর এবং ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে দুই ম্যাচেই দলের হার দেখতে হয়েছে নাসিরকে। তবে এবার পূর্ণ মেয়াদে সিলেটের দায়িত্ব তার কাঁধে। আর সেই দায়িত্বে এখন পর্যন্ত বেশ সফল তিনি। যদিও সামনে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ অলরাউন্ডারকে।

চলতি আসরের দুই ম্যাচেই নতুন এক নাসিরকে দেখা গেল। অস্থিরমতি নাসির অনেক পরিণত হয়ে উঠেছেন। বল হাতে তার কারিশমা দেখিয়ে দলের জয়ে রাখছেন বড় ভূমিকা। ব্যাট হাতে তেমন সুযোগ পান নি এখনও। সেই সুযোগ সামনে আসবে। তবে সিলেটের বিপিএলে ফেরা এবং নিজেদের মাঠে নতুন ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মণ্ডিত স্টেডিয়ামের শুরুটা স্মরণীয় করে রাখলেন নাসিররা। এখন দেখার পালা নাসিরে ভর করে আগের আসরগুলোর ব্যর্থতার পাট চুকিয়ে কতো দুর যেতে পারে সিলেট।

 

-মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

 আরো পড়ুনঃমিসবাহর উপরেই আস্থা রাখছে চিটাগং ভাইকিংস

 

 

Related Articles

আফ্রিদিকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন সাকিব, নাসির দুষছেন বাজে শুরুকে

নাসিরের সাথে সিলেট সিক্সার্সের জরিমানা

জয়ের কৃতিত্ব সবাইকে দিলেন নাসির

বিতর্কের জন্ম দিয়ে জরিমানা গুনছেন সাব্বির

বিপিএলে নাসিরের পঞ্চাশ