SCORE

Trending Now

বিপিএল কেমন কাটছে ‘তিন অধিনায়কের’

Share Button

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের খেলা চলছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিপিএলে আইকন হিসেবে খেলছেন জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়। শুরু থেকেই সাত আইকন ক্রিকেটারের মধ্যে ছয়জন মাঠের খেলায় অংশ নিলেও ইনজুরির কারণে কয়েক ম্যাচ মিস করেন কুমিল্লার আইকন তামিম। বাকি আইকনদের নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করা যাবে। তার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটের তিন অধিনায়ক এবং এবারের আসরের তিন আইকন ক্রিকেটার মাশরাফি, সাকিব এবং মুশফিকদের জন্য বিপিএল কেমন কাটছে-

 

Also Read - ১ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে যুবাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

 

প্রথমে জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দল ও বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের দলপতি এবং দলটির আইকন মাশরাফি বিন মুর্তজার ‘বিপিএল’ কেমন কাটছে দেখা যাক। এবার তুলনামূলক শক্তিশালী দল গড়েছে রংপুর। অধিনায়ক মাশরাফি ছাড়াও দলের অন্য দুই মহাতারকা ক্রিস গেইল ও ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় দুই বিজ্ঞাপন। শুরুর কয়েক ম্যাচে তাদের অনুপস্থিতি দলটিকে কিছুটা ভুগিয়েছেও। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি যেন এবার আরও শানিত বল হাতেও।

পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে থাকা রংপুরের বিপিএল শুরু হয় ৪ নভেম্বর রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে জয় দিয়ে। ম্যাচটিতে দলটির আইকন মাশরাফি ৪ ওভার বল করে এক মেডেনসহ ৪.৫০ ইকোনমি রেটে ১৮ রান খরচায় ১ উইকেট তুলে নেন। দলও জয় পায় ৬ উইকেটে। ৮ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ ওভারে ৭.০০ ইকোনমি রেটে ২৮ রান খরচায় ১ উইকেট। তবে ম্যাচটিতে চিটাগাং ভাইকিংসের লুক রঙ্কির ৩৫ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১১ রানের পরাজয় বরণ করে রংপুর।

 

গেইল-ম্যাককালামের পাশে মাশরাফি

দলীয় তৃতীয় ম্যাচে আবারও পরাজয়। রাজশাহীর কাছে পরাজিত হওয়া এই ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে ৬.৭৫ ইকোনমি রেটে ২৭ রানে কোন উইকেট পান নি ম্যাশ। পরের ম্যাচে কুমিল্লার কাছে ২২ রানে পরাজিত হওয়া ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল মাশরাফি। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় ২ উইকেট। দলের দুই মহাতারকা গেইল ও ম্যাককালাম যোগ দিলেও ফলাফলে কোন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু পরের ম্যাচেই সিলেটের বিপক্ষে নিজের স্বরূপে দেখা দিলেন গেইল। তার ৩৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস আর
বোলার মাশরাফির ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় ১ উইকেট বড় ভূমিকা রেখেছে দলের ১১ রানের জয়ে।

ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকা ডাইনামাইটসের বিপক্ষে আবার বিধ্বংসী গেইলের তাণ্ডব। ২৮ বলে ৫১ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা তার। তবে মাত্র ৩ রানের জয়ে ৪ ওভার বল করে ৩০ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন মাশরাফিই। সেই সাথে সোহাগ গাজী আর মালিঙ্গার দুর্দান্ত বোলিং দারুণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ম্যাচেই ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মাত্র ১৬ রানে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। যদিও ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তার অর্জন অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম পর্বে খুলনার বিপক্ষে ৯ রানের পরাজয়ের দিনে বল হাতে খুব একটা ভাল যায় নি মাশরাফির। ৪ ওভারে ৩২ রান খরচায় ১ উইকেট তুলে নিলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পরাজয় নির্ধারিত হয়। তবে দলীয় অষ্টম ম্যাচে এসে সেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলা পুরনো মাশরাফিকে দেখা গেলো। তুমুল উত্তেজনার এই ম্যাচে ব্যাট হাতে তিন নম্বরে নেমে মাত্র ১৭ বল খেলে ৩ ছক্কা আর ৪ টি বাউন্ডারি মিলিয়ে রীতিমত ঝড় তুললেন। বল হাতে কোন উইকেট না পাওয়ার যন্ত্রণা মিটালেন ব্যাট হাতে আর দলকে এনে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ এক জয়।

'ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার ইচ্ছা নিয়ে নামি না'

সব মিলিয়ে আইকন হিসেবে মাশরাফির বিপিএল বেশ ভালই কাটছে। শীর্ষ বোলারদের তালিকায় ৭ নম্বরে অবস্থান করছেন তিনি। ৮ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট পেলেও ইকোনমি রেট রীতিমত দারুণ (৬.৪১)। সেরা বোলিং ২২/২। ব্যাটিংয়ে সর্বশেষ ম্যাচের কীর্তির কথা আগেই বলেছি। তবে তার আরেক ভূমিকা অধিনায়কত্বেও তিনি বেশ সফল। ৮ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে আছে রংপুর। এখনও হাতে চার ম্যাচ আছে। ফলে ভাল করার আরও সুযোগ থাকছে।

জাতীয় টি-টোয়েন্টি দল, ঢাকা ডায়নামাইটসের আইকন ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বিপিএল শুরুই হয়েছে সিলেটের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বিশাল পরাজয় দিয়ে। সিলেটের দুই ওপেনার থারাঙ্গা আর ফ্লেচারের কাছে পাত্তাই পায়নি ঢাকার বোলাররা। তবে একমাত্র ব্যাতিক্রম সাকিব। বল হাতে ৪ ওভারে ২৩ রান খরচায় কোন উইকেট না পেলেও ৫.৭৫ ইকোনমি তার হয়েই কথা বলবে। ব্যাট হাতেও ২১ বলে ২৩ রান করেছিলেন তিনি। যদিও ফলফলে তা কোন প্রভাব ফেলে নি।

 

অভিনব অর্জনে রেকর্ড বইয়ে সাকিব

তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই সিলেটের বিপক্ষে ৬৫ রানের বিশাল জয় তুলে নেন সাকিবরা। বল হাতে ২ ওভারে ২৫ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন যার দুইজনই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং বিদেশি। ফলে দলের জয়ে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদিও আসল কাজটা করেন ঢাকার দুই বিদেশি ব্যাটসম্যান লুইস আর ডেলপোর্ট। তৃতীয় ম্যাচে আফ্রিদির দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স (বল হাতে ১২ রানে ৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ১৭ বলে ৩৭ রান) ঢাকাকে এনে দেয় ৮ উইকেটের বিশাল জয়। এই ম্যাচে ২ ওভার বল করে ১০ রান আর ব্যাট হাতে ১১ বলে ১৮ রান করেন সাকিব।

চতুর্থ ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয়ে বল হাতে ৩ ওভারে ৩২ রান খরচায় ১ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ১৭ বলে ২০ রান ঠিক তার নামের সাথে যুতসই নয়। ম্যাচটির আসল নায়ক জহুরুল (৩৯ বলে ৪৫) আর কাইরন পোলার্ড (২৪ বলে ৫৫)। পরের ম্যাচ বৃষ্টি বাধায় পরিত্যাক্ত হয়। ষষ্ঠ ম্যাচে রাজশাহীকে রীতিমত গুড়িয়ে দেয় ঢাকা। এই ম্যাচে পোলার্ডের ২৫ বলে ৫২ আর লুইসের ৩৮ বলে ৬৪ রানের উপর ভর করে ২০১ রানের পাহাড় গড়ে ঢাকা। ব্যাট হাতে ১১ বলে ১১ রান করলেও এই ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নিয়ে রাজশাহীর পরাজয় তরান্বিত করেন সাকিব।

সপ্তম ম্যাচে এসে পরাজয়ের দেখা পায় ঢাকা। এবার কুমিল্লার কাছে ৪ উইকেটের পরাজয় বরণের দিনে ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিব, বল হাতে ৪ ওভারে ৫.৭৫ ইকোনমি রেটে ১৭ রান খরচে উইকেট শূন্য। দলও পায় নি কাংখিত ফল। রংপুরের বিপক্ষে পরের ম্যাচে বল হাতে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৩ রানের পরাজয় বরণ করেন সাকিবরা।

তবে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থাকা দলটির দলীয় অবস্থান বেশ শক্ত। ৮ ম্যাচে ৪ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ারের পথে থাকা দলটির অধিনায়ক সাকিব এবারের আসরে এখন পর্যন্ত শীর্ষ বোলারদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন। ৭ ম্যাচ খেলে ৬.৬১ ইকোনমি রেটে ১০ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ৫/১৬। ব্যাটিংয়ে ৭ ম্যাচে ১৪.৫০ গড়ে মাত্র ৮৭ রান করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবারের জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সাকিবদের

জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম রাজশাহী কিংসের আইকন ক্রিকেটার। চলতি আসরের নিজেদের প্রথম ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ৬ উইকেটের পরাজয় দিয়ে শুরু। ম্যাচে ৮ বল খেলে ১১ রান করেন তিনি। পরের ম্যাচে সিলেটের দেওয়া ২০৬ রানের বিশাল টার্গেট সামলাতে গিয়ে লুক রাইটের ৫৬ রান ছাড়া বাকিদের অবদান সামান্য। মুশফিক এই ম্যাচেও ১২ বল খেলে ১১ রান করে ব্যর্থ।

রংপুরের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পাওয়ার দিনে ব্যাট হাতে নামতেই হয় নি মুশফিককে। দুই ওপেনার সিমন্স (৫০ বলে ৫৩) আর মমিনুলের (৪৪ বলে ৬৩) ব্যাটে চড়েই ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় রাজশাহী। তবে পরের ম্যাচেই আবারও পরাজয়ের মুখোমুখি রাজশাহী। এবার কুমিল্লার কাছে
৯ উইকেটের বিশাল পরাজয়ের দিনে ব্যাট হাতে ১৪ বল খেলে ১৬ রান করে রশিদ খানের স্পিনে পরাস্ত হন মুশফিক।

 

তবে সিলেটের বিপক্ষে পরের ম্য্যচেই জ্বলে উঠে রাজশাহী। তরুণ ক্রিকেটার জাকির হাসানের ২৬ বলে ৫১ রানের দারুণ ইনিংসের উপর ভর করে ৭ উইকেটের জয় পায় রাজশাহী। দলের জয়ে মুশফিকের অবদান ২০ বলে ২৫ রান। অনিয়মিত জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে পরের ম্যাচেই ঢাকার বিপক্ষে বিশাল পরাজয়। শহীদ আফ্রিদির ২৬ রান খরচে ৪ উইকেট আর পোলার্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কাছে রিতিমত উড়ে গেছেন মুশফিকরা। এই ম্যাচে ৬৮ রানের বিশাল পরাজয়ে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৪ বলে মাত্র ২ রান।

খুলনার বিপক্ষে পরের ম্যাচে আবারও পরাজয়। এবার দুই উইকেটের পরাজয়ের দিনে ৩৩ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক। তবে দলের পরাজয় রুখতে ব্যর্থ হয় তার ইনিংস। তবে কুমিল্লার বিপক্ষে দ্বিতীয় সাক্ষাতে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি (১৪ বলে ৪৭ রান) আর মোহাম্মদ সামির ( ৪ ওভারে ৯ রান খরচে ৪ উইকেট) অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের উপর ভর করেই আসে এই জয়। এই ম্যাচে ৭ বল খেলে ৮ রান করেছেন মুশফিক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামির কাছে অধিনায়কত্ব সমর্পণ করলেও ব্যাট হাতে এখনও উজ্জ্বল নয় মুশফিকের পারফরম্যান্স। ৮ ম্যাচের ৭ ইনিংসে ব্যাটিং করে ২১.৩৩ গড়ে ১২৮ রান করেছেন তিনি। সেরা ৫৫ রান। দলের অবস্থাও ভাল না। ৮ ম্যাচে ৩ জয় আর ৫ পরাজয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ৬ নম্বরে অবস্থান তাদের। কিপিং গ্লাভসেও অসফল মুশফিক। মাত্র একটা ডিসমিসালে তার ভূমিকা আছে। তবে দলে অনেক তারকার সমাবেশ থাকায় নিয়মিত ব্যাটিং অর্ডারের শুরুতে সুযোগ না পাওয়াও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এবারের বিপিএল বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য যেন একটু বেশি উদার। তাইতো প্রায় প্রতি ম্যাচে বিদেশিদের জ্বলে উঠার উপর যেন খেলার নিয়তি ঠিক হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, শুরুতে নিষ্প্রভ আইকন এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই সর্বশেষ কয়েক ম্যাচ জুড়ে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মাশরাফি, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এই আইকনদের সাম্প্রতিক অফ ফর্ম কাটিয়ে এভাবে ফেরা দেশের ক্রিকেটের জন্য আশাব্যঞ্জক। পুরনো কাসুন্দি না ঘেঁটে আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে তিন আইকন তথা জাতীয় দলের তিন অধিনায়কদের আরও উজ্জ্বল ভূমিকায় দেখা যাবে। সেই সাথে বাকি আইকন এবং স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্যও শুভ কামনা।

আরও পড়ুনঃ ১ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে যুবাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

Related Articles

বিপিএল প্রোডাকশন নিজেদের হাতে রাখতে চায় বিসিবি

তামিমের শুনানি আজ

মাশরাফিদের সাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত মুডি

রংপুর যাচ্ছে বিপিএলের ট্রফি

একজন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের গল্প