ম্যাককালামকে ফিরিয়েও মেহেদির গেইল আক্ষেপ

Share Button

ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইল- টি-২০ ক্রিকেটে বোলারদের আতঙ্কের দুই নাম। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন দুজন। সবার নজর যখন এ বিস্ফোরক ওপেনিং জুটির দিকে তখন সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন তরুণ স্পিনার মেহেদি হাসান।

ম্যাককালামকে ফিরিয়েও মেহেদির গেইল আক্ষেপ

মাঠে দুর্দান্ত ছিলেন মেহেদি। তার স্পিন ভেলকিতে স্টাম্পিং হয়েছেন খুনে মেজাজের ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বোল্ড হয়েছেন রংপুরের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীসও। প্রথম দুই ওভারে গেইল-ম্যাককালামকে মোকাবেলা করে রান দিয়েছেন মাত্র দুই। মাঠের কাজটা করেছেন দারুণ। প্রেস কনফারেন্সে আসার অভিজ্ঞতা নেই। এখানে সাংবাদিকদের সামলাতে কষ্ট হবে না তো? এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদি জানান সবচেয়ে কঠিন মাঠের কাজটাই। আশাবাদী এখানেও ভালো করার।

Also Read - হাথুরুসিংহে প্রসঙ্গে এখনও দ্বিধায় বিসিবি

মেহেদি বলেন,  “না আসলে ওরকম কিছু না। মাঠেই ভালো খেলা সবচেয়ে কঠিন কাজ। ওটা যদি ভালোভাবে করতে পারি। এটাও করতে পারব ভালোভাবে। “

রংপুরের দুই ওপেনারের উইক পয়েন্টে বল করাই লক্ষ্য ছিল তার। তিনি বলেন, “চিন্তাটা ছিল আমি ভালো জায়গায় বল করব, হয়তোবা উইক পয়েন্টে বল করলে ও আউট হয়ে যাবে। ওটাই হচ্ছিল।” 

টি-২০ ক্রিকেটে ম্যাককালামের তুলকালাম কিংবা গেইল তাণ্ডবের গল্প নতুন নয়। এ দুই বিস্ফোরকের মোকাবেলা করবেন জানতে পেরে ঘুম হয়নি মেহেদির। একের পর এক ভিডিও দেখেছেন তাদের। কিন্তু সেখানে ছিল শুধুই বিধ্বংসী ব্যাটিং।

মেহেদি বলেন, “আমি লাস্ট দুই দিন ধরে শুনতেছি যে খেলব। বাট লাস্টের দিন আমার ঘুম আসতেছিল না। গেইল ম্যাককালাম সামনে…। তো রাতে আমি গেইল আর ম্যাককালামের ভিডিও দেখতেছিলাম। তো আমি দেখি ওদের উইক পয়েন্টই নাই, ওরা সব ছয় চার মারে। তো আমি সকালে স্যারকে বলেছিলাম, “স্যার ভিডিওতে দেখি ওদের উইক পয়েন্টই নাই, সব ছয়-চার মারে।” তখন স্যার বলেছিল খেলা লাগবে না। তখন বলছিলাম যে না আমি পারব।” 

দর্শকের চাপটা সামলেছেন দারুণভাবে। শুরুর দিকে নার্ভাস হয়ে গেলেও পরে ঠিক হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “স্বাভাবিক, এত দর্শকের ভিতরে খেললে প্রথম একটু নার্ভাস ফিল হয়। কিন্তু যখন একটা-দুইটা বল করি তখন কিছু হয়না আর আসলে।” 

প্রথম ওভারে বারবার পরাস্ত করেছেন গেইল আর ম্যাককালামকে। সুযোগ এসেছিল গেইলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলার। আম্পায়ার আউট না দিলেও অ্যাকশন রিপ্লেতে দেখা যায় আউট ছিলেন গেইল। তা নিয়ে কিছুটা আফসোসও ছিল মেহেদির কণ্ঠে।

মেহেদি বলেন, “আসলে আউটটা অনেক ক্লোজ ছিল। আম্পায়াররা হয়তো ভুল করেছে।  যাই হোক, গেইলের মতো কারো উইকেট পাওয়া তো অনেক বড় বিষয়। “

মেহেদি জানান, উইকেট নয় কিপ্টে বোলিং করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। মেহেদি বলেন, “আসলে টি-২০ তে উইকেট নিয়ে ওরকম আশা করিনি। ৪ ওভারে ২০ রান দিলেই হ্যাপি। সাথে দুইটা উইকেট পেয়েছি। যা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। “

ক্রিস গেইলের উইকেট না পেলেও মেহেদি শিকার করেছেন ম্যাককালামের উইকেট। তবু কিছুটা আক্ষেপ রয়েই গেলো গেইলকে না ফেরাতে পেরে। মেহেদির টার্গেট যে ছিল দুইজনই! মেহেদি বলেন, “দুইটাই টার্গেট ছিল। টার্গেট ছিল আমিই দুইটা নিব।

আরো পড়ুনঃহাথুরুসিংহে প্রসঙ্গে এখনও দ্বিধায় বিসিবি