SCORE

Trending Now

সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে স্থপতির আক্ষেপ

Share Button

বিপিএলের ভেন্যুর তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এর আগে এখানে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন বড় আয়োজন না হওয়ায় অনেকেই ভুলে বসেছিলেন স্টেডিয়ামটিকে। তবে বিপিএলের মাধ্যমে আবারও সবার নজরে পড়েছে স্টেডিয়াম ও এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে স্থপতির আক্ষেপ
ছবিঃ বিডিক্রিকটাইম

তবে সৌন্দর্যের দিক থেকে দেশের সেরা এই স্টেডিয়াম নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে এর স্থপতি মাসুদুর রহমান খানের। তাঁর মতে, স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পর্কে তিনি যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা অনেকাংশেই রক্ষা করা হয়নি।

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক মানবজমিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নকশা করি তখন অনেক কিছু কল্পনায় থাকে, সেখান থেকে একটি মূল ড্রইং করা হয়। সেখানে ছোট ছোট অনেক বিষয় থাকে। কিন্তু যারা এ নকশা নিয়ে কাজ করে তারা অনেক সময় সবটা বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না। এখানেও যারা ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে তারা অনেক কিছুই করতে পারেনি।’

Also Read - নাসিরের সাথে সিলেট সিক্সার্সের জরিমানা

মাসুদুর রহমান জানান, স্টেডিয়াম ঘেঁষা পাহাড় কেটে ফেলায় হতাশ তিনি, ‘২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে অনেক তড়িঘড়ি ছিল। তাতেও অনেক কিছু নকশার শত ভাগ ঠিক রেখে করা হয়নি। এছাড়াও আমার নকশাতে স্টেডিয়ামের পিছনে পাহাড় ছিল। কিন্তু খুব বাজেভাবে সেই পাহাড়টা কেটে ফেলা হয়েছে। তাতে আমি রীতিমতো হতাশ।’

স্টেডিয়ামের নকশা করতে কম খাটুনি খাটতে হয়নি তাকে। সিলেট এসে ঘুরেছেন পুরো অঞ্চল, সেখান থেকে নিয়েছেন আইডিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি যখন স্টেডিয়ামের নকশার কাজ শুরু করি তার আগে সিলেটে আসি। এ অঞ্চলটা ভালোভাবে ঘুরে দেখেছি। আমার মাথায় ছিল এখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে কী মিল রাখা যায়। তখন দেখেছি এখানে চা বাগানের বাংলোগুলো, আর পুরনো-নতুন অনেক বাড়িতে এমন টিনের চাল, যেগুলোর রঙ লাল। সেখান থেকেই আমার মাথায় আসে এমনটা বাংলাদেশের কোথাও নেই। এমন ডিজাইন দেখতে পাওয়া যায় দেশের বাইরে। মূলত আমার নকশাতে প্রাধান্য পেয়েছে ঐতিহ্য ও সিলেটের সবুজ প্রকৃতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিকল্পনার মধ্যে যে শেপটা করা হয়েছে সেটার নিচ থেকে আমাদের কিছু হসপিটালিটি বক্স। উপরে যারা গ্যালারিতে বসবে তাদের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। একদম নিচে না গিয়েও যেন টয়লেট ব্যবহার করতে পারে সেটা রাখা হয়েছে। এই ক্লাসিফিকেশনটা নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। অলরেডি একটা প্রপোজাল দিয়ে রেখেছি। এখন যে গ্যালারি হয়েছে তার উপর তাঁবুর ডিজাইন করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রিন গ্যালারিতে এখনো অনেক কাজ বাকি। যেমন সেখানে টয়লেট রাখতে হবে। কিছু খাবার দোকান করতে হবে।’

স্থপতি মাসুদুর রহমান খান
স্থপতি মাসুদুর রহমান খান।

স্টেডিয়ামের পেছনের পাহাড় কেটে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পেছনের যে পাহাড়টা কেটে ফেলা হয়েছে তাতে আমি খুব বিরক্ত হয়েছি। খারাপ লাগছে। মিডিয়া সেন্টারের পিছনে একটা উঁচু পাহাড় ছিল। মাঠে বসে পাহাড়টা দেখা যেত। আমাকে জানালে আমি কোনোভাবেই এটাকে কাটতে দিতাম না।’

‘কিছু কিছু কাজ হুটহাট করে ফেললে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে। এটা ঠিক হয়নি। কনসেপ্ট ছিল সিলেটের চা বাগান, পাহাড়ের সবুজ। সেটাই যদি না থাকে তাহলে ক্ষতিতো হয়ে যায়। কারণ সিলেটের সবুজই তো আসল। আর পাহাড় না থাকাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মুখে থাকবে এ স্টেডিয়াম।’– বলেন তিনি।

তার নকশা অনুযায়ী যে পুরোপুরি নির্মিত হয়নি স্টেডিয়াম, সেটি অকপটেই স্বীকার করলেন জনপ্রিয় এই স্থপতি, ‘এছাড়াও দেখবেন দোতলা যে গ্যালারিটা আছে তার উপর তাঁবুর মতো ডিজাইন করা। সেখানে লাইট ছিল। কিন্তু তাও রাখা হয়নি। যদি লাইট থাকতো সেটি রাতে জ্বলে থাকতো। অনেক দূর থেকে স্টেডিয়ামটি রাতে অন্যরূপে দেখা যেত। এছাড়াও এ তাঁবুটি আসলে লাইট সেড হিসেবেও আমার নকশাতে রাখা ছিল। কিন্তু তা রাখা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ আমারই সরি বলা উচিতঃ মাশরাফি

Related Articles

টেস্ট নিয়ে তাড়াহুড়া নেই সাইফউদ্দিনের

আমরাই সেরা দল ছিলাম: তামিম

ছক্কার হিসাবটাও রাখেন না গেইল!

‘একটাই বার্তা ছিল, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে’

নিজের ক্যাচ মিসই সাকিবের কাঠগড়ায়