SCORE

Trending Now

‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সেরা পাঁচ-ছয়টি দলের একটি’

ক্রিজে এসেছেন যখন, ৮৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে দল তখন ধুঁকছে। টপ অর্ডার দ্রুত উইকেট হারাতে থাকায় উঁকি দিচ্ছে হারের শঙ্কাও। সেই সাথে ফোঁড়ন হিসেবে যুক্ত হচ্ছে চতুর্থ দিনের ম্যাড়মেড়ে উইকেট, শিশিরে ভেজা স্লো আউটফিল্ড আর চট্টগ্রাম বিভাগের বোলারদের ক্ষুরধার বোলিং।

'বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সেরা পাঁচ-ছয়টি দলের একটি' রাজিন সালেহ
ম্যাচ সেরার পুরষ্কার হাতে রাজিন সালেহ। ছবিঃ বিডিক্রিকটাইম

ঐ পরিস্থিতি থেকে রাজিন সালেহ একাই বের করে আনলেন ম্যাচ, নিশ্চিত হার থেকে দলকে বাঁচিয়ে এনে দিলেন সম্মানজনক ড্র। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সিলেট বিভাগের পক্ষে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার পাওয়া সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন বিডিক্রিকটাইমের সঙ্গে। ২৫৪ বলের মোকাবেলায় ১০৪ রানের মাটি কামড়ানো ইনিংস খেলা অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার কথা বললেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। পাঠকদের জন্য কথোপকথনটি হুবহু তুলে দেওয়া হল।

বিডিক্রিকটাইমঃ আপনার সেঞ্চুরির ইনিংসে ভর করেই সিলেট এই ম্যাচে হার এড়িয়েছে। কেমন লাগছে?

Also Read - হাথুরু'র অবহেলার জবাব হতে পারবেন ম্যাকেঞ্জি?

রাজিনঃ ভালো এক অভিজ্ঞতা হল। এই ইনিংস থেকেও অনেককিছু শিখেছি। আমার প্রায় উনিশ বছরের ক্যারিয়ার। এর আগেও অনেক ম্যাচে চেষ্টা করেছি দলকে সেইভ করতে। আর এরকম ইনিংস খেলে দলকে সেইভ করতে আসলেই আনন্দ লাগে। ভালো খেলে হারা ম্যাচটা যদি ড্র করা যায়, জেতাটা এতো গুরুত্বপূর্ণ না তখন। নির্দ্বিধায় এটা আনন্দদায়ক।

বিডিক্রিকটাইমঃ এই বয়সেও ফিটনেস ধরে রেখেছেন। উঠতি ক্রিকেটারদের অনেকেই হয়ত ফিটনেস রক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে অনুসরণ করে থাকেন। ফিটনেস ধরে রাখার রহস্য কী?

রাজিনঃ প্রথমেই বলবো- ডিসিপ্লিন ইজ ভেরি ইম্পরট্যান্ট। শুধু ক্রিকেট জীবন না, যেকোনো জায়গায়ই ডিসিপ্লিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ক্যারিয়ারের প্রত্যেকটা সময়েই ডিসিপ্লিন রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আমি ফিটনেস ঠিক রাখার উপর সবসময় দৃষ্টি রাখি। দিনকে দিন বয়স যত বাড়তে থাকে, ফিটনেস রক্ষা করা তত কঠিন হয়ে পড়ে। চেষ্টা থাকে আরকি সবসময় ফিটনেস ঠিক রাখার। এখন প্রতিযোগিতার যুগ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনার ফিটনেস থাকতেই হবে, ফিটনেস ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমার হার্ড ওয়ার্ক, মেহনতেই আমি ফিটনেস ধরে রাখতে পেরেছি।

বিডিক্রিকটাইমঃ দীর্ঘদিন ভালো খেলার পর সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ দল নিয়েছে তিক্ততার স্বাদ। টেস্ট-ওয়ানডে-টি২০… তিন ফরম্যাটেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। হুট করে দলের এমন ছন্দপতন কিংবা সিরিজের আগের-পরের পার্থক্য… সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বাংলাদেশের সাথে আপনার সময়ের বাংলাদেশের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন কি?

রাজিনঃ আমি আসলে এখন বাংলাদেশের গত সিরিজের ব্যর্থতা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। একটা সিরিজ যেকোনো দল খারাপ খেলতেই পারে। ইংল্যান্ডও খারাপ খেলে, ভারতও খারাপ খেলে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সেরা পাঁচ-ছয়টি দলের একটি। আমার সময়ে দলে ভালো ব্যাটসম্যান-বোলার ছিলেন, কিন্তু ভালো ফিনিশার ছিলেন না। এখন অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন, ফিনিশার আছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সময়কে আমার সময়ের সাথে তুলনা করলে রাত-দিন তফাৎ বলবো না, তবে তখন দশ হলে এখন আমরা বিশ। বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো এবং গোছালো একটা দল। শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ্‌ দল সাকসেসফুল হবে। বাংলাদেশের জন্য সবসময় আমার শুভকামনা আছে, সমর্থন আছে।

বিডিক্রিকটাইমঃ বিপিএলে পাঁচ বিদেশি খেলানো নিয়ে বিতর্ক ছিল গত কিছুদিনের হট টপিক। দেশি ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দিতে এবার প্রিমিয়ার লিগের আদলে টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা হবে সম্ভবত অতীতের বিজয় দিবস ক্রিকেটের মত। এটি নিয়ে কী ভাবছেন?

রাজিনঃ আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটি বেশ ভালো একটি সুযোগ। যে খেলোয়াড়েরা বিপিএলে খেলার যথেষ্ট সুযোগ পায়নি তারা এখানে খেলার সুযোগ পাবে। তারা যদি ক্রিকেট বোর্ডকে বা বিভিন্ন দলকে তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে, অথচ যারা কিনা বিপিএলে সুযোগই পায়নি; এখানে ভালো করতে পারলে সেটি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যই মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে।

বিডিক্রিকটাইমঃ সম্প্রতি মুশফিকুর রহিমকে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আপনি একটা সময় টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মুশফিকের পরিস্থিতিতে থাকতে হয়েছে আপনাকেও। পরিসংখ্যানে মুশফিকই দেশের সেরা টেস্ট অধিনায়ক। আপনার দৃষ্টিতে মুশফিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো সঠিক সিদ্ধান্ত কি না…

রাজিনঃ এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না আসলে। তবে নিঃসন্দেহে মুশফিক সফল একজন অধিনায়ক। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক সে-ই। আমি মুশফিকের পক্ষেই থাকবো। তবে ক্রিকেট বোর্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটিকে আমি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। আর এক জায়গা সবসময় একজনের জন্য থাকে না। মুশফিকেরও উচিত এটাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের চিন্তা হাথুরুসিংহে

Related Articles

মাইলফলকের সামনে রাজ্জাক

অল্পের জন্য তামিমকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না মিজানুর

নিজেকেও ছাড়িয়ে গেলেন মুমিনুল

এনসিএলে সর্বোচ্চ উইকেট ফরহাদ-নিহাদুজ্জামানের

এক ম্যাচে এনামুলের ১৯ নো বল