লুইসের ঝড়ে চিটাগংয়ের সান্ত্বনার জয়

Share Button

লুইস রিসের ঝড়ো ৮০ রানের ইনিংসের সুবাদে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৪৫ রানের জয় পেয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। লুইসের ব্যাটে ভর করে চিটাগং রান করেছিল ১৯৪। রাজশাহী কিংসের হয়ে ঝড় তুলেছিলেন সামিত প্যাটেল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

লুইসের ঝড়ে চিটাগংয়ের সান্ত্বনার জয়

চিটাগং ভাইকিংস বনাম রাজশাহী কিংসের ম্যাচটি ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। দুই দলই ইতোমধ্যেই ছিটকে পড়েছিল।  চিটাগং ভাইকিংস জেতার পরেও থেকে গিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে।

Also Read - শীর্ষে থাকা কুমিল্লাকে ১৪ রানে হারালো খুলনা

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজ/শাহ কিংসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিংয় ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনে চিটাগং ভাইকিংস। সৌম্য সরকারকে তিনে নামিয়ে ওপেনিংয়ে লুক রনকির সঙ্গী হিসেবে পাঠানো হয় লুইস রিসকে। টোটকা দারুণ কাজে আসে চিটাগংয়ের।

ওপেনিং জুটিতে রনকি ও লুইস মিলে ৭৯ রানের ঝড়ো সূচনা এনে দেন চিটাগংকে। ৩০ বলে ৪২ রান করে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে কাজী অনিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান লুক রনকি। তার ইনিংসে ছিল ৪ টি চার ও ৩ টি ছক্কা।

রনকিকে ফেরানোর পর রান কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছিল রাজশাহী কিংসের বোলাররা। ১৬ বলে ১৭ রান করে সৌম্য সরকার আউট হয় মেহেদি হাসান মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। এরপর লুইসকে নিয়ে ঝড় তুলেন সিকান্দার রাজা। শেষ ছয় ওভারে রাজশাহী কিংস আর কোনো উইকেট পায়নি। সিকান্দার রাজা আর লুইস রিস মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। ২০ বলে ৪২ রানের খুনে মেজাজের ইনিংস খেলেন রাজা। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার আর ৩ ছক্কা। ওপেনিংয়ে নামা লুইস অপরাজিত ছিলেন ৮০ রান করে। খেলেন মাত্র ৫৬ বল। লুইসের এ দুর্দান্ত ইনিংস আর রাজার ৪২ রানের সুবাদে চিটাগং রান দাঁড় করায় ১৯৪।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী কিংস। তৃতীয় ওভারেই ওপেনার রনি তালুকদারকে হারায় রাজশাহী কিংস। ৯ বলে ৬ রান করে সানজামুল ইসলামের বলে লুইসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রনি তালুকদার।

এরপর ঝড় তুলেন সামিত প্যাটেল। একের পর এক চার ছক্কার বড় স্কোর তাড়া করার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দেয়ার মতো ছিল না কেউ। সপ্তম ওভারে নিজের বলে নিজে ক্যাচ ধরে মোমিনুল হককে ফিরিয়ে দেন সানজামুল হক। ১৬ বলে ৯ রান করেন তিনি।

মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৪০ রান যোগ করেন সামিত প্যাটেল। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় লুইসের শিকার হন সামিত। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন ইরফান শুক্কুর। এর মধ্যে ৬২ রানই এসেছে প্যাটেলের ব্যাট থেকে। প্যাটেলের বিদায়ের পর রাজশাহী কিংসের আশা ছিল মুশফিকুর রহিম আর জাকির হাসান। মুশফিককে ফেরান সিকান্দার। ১৫ রান করে বোল্ড হন মুশফিক। পরের বলে সিকান্দার রাজার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন উসামা মীর। ১০৩ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটলে রাজশাহী কিংসের আশা অনেকটাই কমে আসে।

এরপর বড় স্কোর কিংবা জেতানোড় জন্য দরকারী ঝড়ো ইনিংস আর কেউ খেলতে পারেননি। ফ্রাঙ্কলিন বিদায় নেন ১৭ রান করে। জাকিরের ব্যাট থেকে আসে ১৯।  মিরাজ করেন ৬। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ১৪৯ রান করে থামে রাজশাহী।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

চিটাগং ভাইকিংস ১৯৪/২, ২০ ওভার
লুইস ৮০*, রনকি ৪২, রাজা ৪০*
মিরাজ ২/১৮

রাজশাহী কিংস ১৪৯/৯, ২০ ওভার
রাজা ৪/১৬, সানজামুল ২/১৪