SCORE

Trending Now

হাথুরু’র অবহেলার জবাব হতে পারবেন ম্যাকেঞ্জি?

Share Button

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে না ভুলতেই প্রধান কোচের পদ থেকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের হঠাৎ প্রস্থানের পর থেকেই কোচবিহীন টাইগাররা। প্রধান কোচের যোগ্য প্রার্থী এখন পর্যন্ত না পাওয়া গেলেও ব্যাটিং কোচ হিসেবে যোগ দিবেন সর্বশেষ প্রোটিয়াদের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নীল ম্যাকেঞ্জি। এদিকে বর্তমানে লঙ্কান কোচ হাথুরুসিংহে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে রীতিমত অবহেলার সুরে কথা বলেছেন। আসন্ন সিরিজের আগেই কাজে যোগ দেওয়ার কথা ম্যাকেঞ্জি’র। ম্যাকেঞ্জি কি পারবেন হাথুরু’র অবহেলার জবাব দিতে?

 

Also Read - বাংলাদেশের চিন্তা হাথুরুসিংহে

টাইগারদের সদ্য সাবেক কোচ হাথুরু ত্রিদেশীয় সিরিজেই শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। যে দলটিকে তিনি দীর্ঘদিন নিজ হাতে গড়েছেন, অসংখ্য জয় এসেছে যার হাত ধরে, সেই তিনিই এখন বাংলাদেশ দলকে হিসাবের মধ্যেই ধরছেন না! বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চ্যালেঞ্জিংও ভাবছেন না ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত টাইগারদের কোচের দায়িত্বে থাকা হাথুরু।

বাংলাদেশ দলকে অবহেলা করে হাথুরু বলেছেন, ‘আমরা হয়তো আসন্ন সফরটা (বাংলাদেশ) জিতেই যাচ্ছি। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, সামনে আমাদের আরও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বড় লক্ষ্য থাকাটাও আবশ্যক।’

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে অনেকদিন কাজ করায় খেলোয়াড়দের নাড়ি-নক্ষত্র তার মুখস্ত। লঙ্কান কোচ হয়ে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে, যে দলটিকে নিয়ে এতো দীর্ঘ সময় কাজ করলেন সেই দলটির প্রতি এমন অশ্রদ্ধা প্রশ্নের উদ্রেক করে বই কি! এখন আপাত প্রধান কোচহীন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিভাগ সামলাবেন নীল ম্যাকেঞ্জি। দেখা যাক, হাথুরুকে কেমন জবাব দেন তিনি। তবে সেটা অবশ্যই মাঠের খেলায়।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি লজ্জার অধ্যায় যুক্ত করেছিলেন ১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া প্রোটিয়াস ক্রিকেটার নীল ম্যাকেঞ্জি। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম দ. আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে ওপেনিং করতে নেমে ইতিহাস গড়েন ম্যাকেঞ্জি এবং গ্রায়েম স্মিথ। সেই ইনিংসে ম্যাকেঞ্জির অবদান ২২৬ রান।

শাহাদাত-রফিক-রাজ্জাক-সাকিবদের উপর চেপে বসে প্রথমদিনেই বিনা উইকেটে ৪০৫ রানের রেকর্ড গড়েন এই দু’জন। পরেরদিন আর ১০ রান যোগ করেই স্মিথের বিদায় ঘটলেও ততোক্ষণে ভেঙে গেছে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেট জুটিতে সবচেয়ে বেশী রানের (৪১৩) বায়ান্ন বছরের পুরনো রেকর্ড। এই রেকর্ড আজও টিকে আছে।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হেরে যায় ইনিংস ও ২০৫ রানে। তবে বিশাল পরাজয়ের মাঝেও সেই ম্যাচে একটা প্রাপ্তি ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান রবিন পিটারসেনকে আউট করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মোহাম্মদ রফিক ছুঁয়ে ফেলেন ১০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক। সেই ম্যাচটি আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রফিকের শেষ ম্যাচও ছিল। প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইনও সেদিন টেস্টে ১০০তম উইকেট পেয়েছিলেন। তবে ম্যাচটির কথা ভুলতেই চাইবে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাকেঞ্জি বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। প্রথম ৪ বছর মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করলেও পরে দলের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামতেন তিনি। লেগ সাইডে ব্যাট চালানোয় তার ছিল দারুণ দক্ষতা। স্পিনও ভালই করতেন। ওয়ানডেতে গ্রায়েম স্মিথ আর হার্শেল গিবসের কারণে ঠিকমত সুযোগ না পেলেও টেস্ট দলে প্রায় অপরিহার্য সদস্য ছিলেন ম্যাকেঞ্জি।

 

টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫৮ ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ৩৭.৩৯ গড়ে ৫টি সেঞ্চুরি ও ১৬ হাফ-সেঞ্চুরিসমেত ৩২৫৩ রান তার। একমাত্র দ্বিশতক বাংলাদেশ বিপক্ষেই (২২৬)। ওয়ানডেতে ৬৪ ম্যাচ খেলে ৩৭.৫১ গড়ে ২ সেঞ্চুরি আর ১০ হাফ-সেঞ্চুরিসমেত ১৬৮৮ রান তার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৩ সেঞ্চুরি আর ৮৬ হাফসেঞ্চুরি নিয়ে ১৯০৪১ রান তার। গড় ৪৫.৭৭। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৩৩৫৭ রান আছে তার।

ক্রিকেট মাঠে বেশ শান্ত মানুষ ছিলেন ম্যাকেঞ্জি। ধৈর্য ধারণের কারণে টেস্ট দলে তার অবস্থান ছিল সুসংহত। বাংলাদেশের বিপক্ষের ওই ম্যাচ ছাড়াও ২০০৮ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিজে টানা নয় ঘন্টা অবস্থান করে ৪৪৭ বল মোকাবেলা করে ১৫৫ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। সেই সিরিজে চমকপ্রদ ফলাফল করায় উইজডেন কর্তৃক তিনি পাঁচজন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের একজন নির্বাচিত হন তিনি। তার সময়েই দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডেতে ১নং দলের মর্যাদা পায়। তৎকালীন বিশ্বসেরা দল অস্ট্রেলিয়াকে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো একমাত্র দল ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাই।

২০১৬ সালে ক্রিকেট থেকে অবসরের আগে ঘরোয়া লিগে নিয়মিত খেলতেন। সেই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ প্রোটিয়াদের। হাশিম আমলা-এবি ডি ভিলিয়ার্স-ফাফ ডু প্লেসিস-ডি কক-ডুমিনিদের কোচিং করানো নিঃসন্দেহে নীল ম্যাকেঞ্জির দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে।

সব ঠিক থাকলে সেই নিল ম্যাকেঞ্জিই এবার হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন ব্যাটিং কোচ। তার অন্তর্ভুক্তিতে কোচ নিয়োগের কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনছে বিসিবি। জানা গেছে, ভারতের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী কোচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেনকে ডিরেক্টর অব কোচিং করে কোচিং প্যানেল সাজানোর পরিকল্পনা করছে বিসিবি। সেক্ষেত্রে সহকারী ও ফিল্ডিং কোচ হিসেবে থাকবেন রিচার্ড হ্যালসল, পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ এবং স্পিন কোচ সুনীল যোশির পাশাপাশি ব্যাটিং কোচ হিসেবে থাকবেন ম্যাকেঞ্জি।

ভাল কোচ খুঁজে পাওয়া বিসিবি’র জন্য কঠিন হবে বলে অনেকেই মনে করেন। আলোচনায় অনেকের নাম উঠে আসলেও তাদের পাওয়া একপ্রকার অসম্ভবই বলা যায়। কারস্টেনকে যদি প্রধান কোচ হিসেবে পাওয়া যেতো তাহলে খুবই ভাল হতো। ভারতের কোচ হিসেবে উপমহাদেশের কন্ডিশনের সাথে তার সখ্যের কথা অজানা নয় কারও। আইপিএলেও কোচিং করিয়ে যাচ্ছেন এখনো। মূলত, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই যুগে অল্প সময়ে বিপুল অর্থের হাতছানির কারণে অনেক দুর্দান্ত কোচ এখন আর জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে চান না।

তবে, আশার কথা হচ্ছে, কারস্টেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটা সুযোগ এখন পাওয়া যাচ্ছে। বছরে ছয় মাসের মতো তাকে পাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। আর ব্যাটিং কোচ হিসেবে তারই স্বদেশী ম্যাকেঞ্জি যুক্ত হলে ভাল কিছুই হবে আশা করা যায়।

শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজে কোচবিহীন অবস্থায় খেলতে হতে পারে বাংলাদেশকে এমন শঙ্কা জাগলেও কারস্টেন আর ম্যাকেঞ্জির আগমন বার্তা কিছুটা প্রশান্তি জাগিয়েছে। আগামী ত্রিদেশীয় সিরিজেই দলের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন তিনি। সেই সিরিজেই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে হাথুরু’র শ্রীলঙ্কা। হাথুরু’র অবহেলার জবাব দিতে কতোটা প্রস্তুত ম্যাকেঞ্জি, সেটা সময়েই বলে দিবে।

– মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের চিন্তা হাথুরুসিংহে

Related Articles

হাথুরুসিংহে ছিলেনই না সুজনের ভাবনায়!

হাথুরুসিংহের বিষয় মাথায় না রাখার অনুরোধ সাকিবের

‘তাকে কয়েকটা কদম তো ফেলতে দিন’

হাথুরুসিংহে’তে ভয় নেই হ্যালসলের

‘আসলে এটা হবে আমার সাবেক দল বাংলাদেশ’

Leave A Comment