SCORE

Trending Now

শুরু-শেষে তিক্ততা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-টেস্টে সুখস্মৃতি

২০১৭ সালের শুরু আর শেষটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।  নিউজিল্যান্ড সফর আর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর জুড়ে ছিল একরাশ হতাশা। সুখস্মৃতি রয়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর টেস্টে।

শুরু-শেষে তিক্ততা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-টেস্টে সুখস্মৃতি


 নিউজিল্যান্ড সফরে টি-২০ ও টেস্টে হোয়াইটওয়াশ 

Also Read - সাকিবকে 'মুক্ত' করে দিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স


টি-২০ সিরিজ

 

নিউজিল্যান্ড সফরের টি-২০ ও টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। বছরের তৃতীয় দিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-২০ দিয়ে বছর শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

প্রথম টি-২০ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ছয় উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৫২ রানের সুবাদে ১৪১ রান করেছিল বাংলাদেশ। মাশরাফির ৫০ তম আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ ছিল সেটি। ৫৫ বলে ৭৩ রান করে নিউজিল্যান্ডকে জয় এনে দিয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। দ্বিতীয় টি-২০ তে কলিন মুনরোর শতকে ভর করে নিউজিল্যান্ড করেছিল ১৯৪। জবাবে বাংলাদেশ থামে ১৪৮ রান করে। শেষ টি-২০ তে স্বাগতিকদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ করেছিল ১৬৭।

টেস্ট সিরিজ

 

দ্বিশতকের পর সাকিব আল হাসান
দ্বিশতকের পর সাকিব আল হাসান

 

 

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংস স্বপ্নের মতো কাটায় বাংলাদেশ। ২১৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হাঁকান ডাবল সেঞ্চুরি। খেলেন টেস্টে বাংলাদেশের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মুশফিককে সাথে নিয়ে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব। সঙ্গী মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৫৯। সাকিব-মুশফিকের এ জুটি টেস্টে বাংলাদেশের জন্য যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড করে ৫৩৯। ৬৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ধসের কারণে লজ্জার রেকর্ড করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে এত রান করে আগে কোনো দল টেস্ট হারেনি! ১৬০ রান করেও অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় কিউইরা।

দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নিউজিল্যান্ড করে ৩৫৪। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো ব্যাটিং ধস। ১৭৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ। এবার ম্যাচ হারে নয় উইকেটে।


ভারতে সুযোগ হাতছাড়ার মহড়া 


ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৬৭৬ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। ভারতের পুরো ইনিংস জুড়ে ছিল বাংলাদেশের সুযোগ নষ্টের মহড়া। ফিল্ডারদের হাত থেকে ফসকে গিয়েছে ক্যাচ। রান আউট থেকে বেঁচে শতক হাঁকিয়েছে মুরালী বিজয়। দ্বিশতক হাঁকান বিরাট কোহলি। মুশফিকুর রহিম স্টাম্পিং করতে ব্যর্থ হলে জীবন পাওয়া ঋধিমান সাহা হাঁকান শতক।

বিদায় নিচ্ছেন মুশফিক
বিদায় নিচ্ছেন মুশফিক

জবাবে বাংলাদেশ করে ৩৮৮। বাংলাদেশের হয়ে ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৫৯ রান করে ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৫০ রান করে। ২০৮ রানে বিজয়ী হয় ভারত।


শ্রীলঙ্কা সফর 


শততম টেস্টে জয় 

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হয় ৭ মার্চ থেকে।  বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে শুরু হওয়া এ টেস্ট সিরিজের নাম দেওয়া হয় জয় বাংলা কাপ।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ২৫৯ রানে হারিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ রান করে লঙ্কানরা। জবাবে ৩১২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে রঙ্গনা হেরাথের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ। ছয় উইকেট শিকার করেন হেরাথ। ১৯৭ রান করে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

জয়ের পর টাইগারদের হাসি
জয়ের পর টাইগারদের হাসি

 

কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্ট ছিল বাংলাদেশের শততম টেস্ট। শততম টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৩৩৮। সাকিব আল হাসানের ১১৬ আর মোসাদ্দেক হোসেনের দুর্দান্ত ৭৫ রানের ইনিংসে ভর করে ৪৬৭ রান করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রান করে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। তামিম ইকবালের ৮২ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।

ওয়ানডে সিরিজেও ভাগাভাগি 

টেস্ট সিরিজ সমতা হয় ১-১ এ। এরপর ১-১ সমতায় শেষ হয় ওয়ানডে সিরিজ। প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের ১২৭ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে স্বাগতিকরা গুটিয়ে যায় ২৩৪ রান করে।

শতকের পর তামিম
শতকের পর তামিম

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে রানের পাহাড় গড়ে শ্রীলঙ্কা। ৩১১ রান করে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। হ্যাটট্রিক করেন তাসকিন আহমেদ। পরে বৃষ্টির কারণে আর মাঠে খেলা গড়ায়নি।

শেষ ওয়ানডেতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮০ রান করে শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিং করতে নেমে ২১০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৭০ রানে জিতে সমতায় সিরিজ শেষ করে শ্রীলঙ্কা।

মাশরাফির অবসর, টি-২০ তেও সমতা

 

প্রথম টি-২০ ম্যাচের টসের সময় হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফির এমন আচমকা ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। প্রথম টি-২০ তে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটে হারায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য কুশল পেরেরার ৭৪ রানের ইনিংসে ভর করে সাত বল হাতে রেখেই টপকে যায় শ্রীলঙ্কা।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ী টি-২০ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। জয় দিয়েই শেষ হয় মাশরাফির টি-২০ ক্যারিয়ার। লাসিথ মালিঙ্গার হ্যাটট্রিকের ম্যাচে ১৭৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৩১ রান করে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।


চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সাকিব-রিয়াদের মহাকাব্য, সেমি-ফাইনাল 


 আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে চার ম্যাচের দুইটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। টাইগারদের একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হয় বাংলাদেশ।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের ১২৮ রানের ইনিংস ম্লান হয়ে যায় জো রুটের ১৩৩ রানের ইনিংসের সামনে। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৩০৬ রানের লক্ষ্য ইংল্যান্ড টপকে যায় আট উইকেট হাতে রেখে।

দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। একাই লড়েছিলেন তামিম ইকবাল। তার ব্যাট থেকে আসে ৯৫ রান। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ৮৩। এমন সময় বৃষ্টির হানা। ম্যাচ হারলে বাদ পড়ে যেতে হতো বাংলাদেশকে। বৃষ্টি এসে বাঁচিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে দরকার ছিল ইংল্যান্ডের জয় অথবা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন টাইগার বোলাররা।  নিউজিল্যান্ডকে আটকে রাখে ২৬৫ রানে। রান তাড়া করতে নেমে ৩৩ রানেই ৪ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। এমন ধ্বংসস্তুপ থেকে দলকে উদ্ধার করেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২২৪ রানের জুটি গড়ে সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। ১০২ রান করে অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ। সাকিব-রিয়াদের মহাকাব্যিক জুটি জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে।

অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ড ৪০ রানে হারালে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় ভারতের।

কোনো আইসিসি প্রতিযোগিতায় প্রথম সেমি-ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম ১২৩ রানের জুটি গড়েন। ৭০ রান করে কেদার যাদবের বলে বোল্ড হন তামিম। মুশফিককেও ফিরিয়ে দেন যাদব। বড় স্কোর গড়তে পারেনি সাকিবও। বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগলেও বাংলাদেশ থেমে যায় ২৬৫ রান করে।

রোহিত শর্মা শিখর ধাওয়ান ওপেনিংয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। এরপর রোহিত আর কোহলির ১৭৮ রানের জুটিতে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ১২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রোহিত। কোহলি অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রান করে।


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় 


আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দল আসে বাংলাদেশে। প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেটের পতন ঘটলেও সাকিব আল হাসানের ৮৪ রানে ভর করে ২৬০ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২১৭ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রান করে বাংলাদেশ। ৭৮ রান করে তামিম ইকবাল। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৪। ব্যাটিংয়ে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে জয়ের পথে এগিয়ে যেতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তা হতে দেয়নি সাকিব আল হাসান। পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে থামান ২৪৪ রানে। প্রথম বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট হারায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায় অজিরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের জবাবে লিড নেয় ৭২ রানের। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৩৭৭।  দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন নাথান লিয়ন। ১৫২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ জিতে ৭ উইকেটে।


হতাশায় ভরা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর 


সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ তিন ফরম্যাটেই ভরাডুবি হয়ছে বাংলাদেশের।

প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১০ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ৩২০। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪২৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ৯০ রান করে।

দ্বিতীয় টেস্টে আরো বড় ব্যবধানে পরাজয়। প্রথম টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হলেও দ্বিতীয় টেস্টে একই সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিক। ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ৫৭৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে ১৪৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রান করে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংস ও ২৫৪ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি বাংলাদেশ ২৭৮ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। কিন্তু এ লক্ষ্য হেসেখেলে টপকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কোনো উইকেট না হারিয়েই ম্যাচ জিতে নেয় তারা। ১৬৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন কুইন্টন ডি কক।

দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৪ বলে ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। বাংলাদেশকে ৩৫৪ রানের লক্ষ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ২৪৯ রান করেই।

শেষ ম্যাচে ঝড় তুলেন ফাফ ডু প্লেসিস.৬৭ বলে রান করেন ৯১। দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬৯ রানের পাহাড় দাঁড় করায়। ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬৯ রান করেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

টি-২০ সিরিজে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৯৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় স্বাগতিকরা। জবাবে প্রথম দিকে ভালোই লড়াই করে বাংলাদেশ। কিন্তু ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। ৯ উইকেটে ১৭৫ রান করে থামে তারা। দ্বিতীয় টি-২০ তে ঝড় তুলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা হাঁকান সাইফউদ্দিনের ওভারে। ৩৬ বলে ১০১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন মিলার। ২২৪ রানের পাহাড়সম রান গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১৪১ রান করেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। পূর্ণ হয় হারের ষোলকলা।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনাল এবং টেস্টে সাফল্যই ২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্মরণীয়। তবে দেশের বাইরে গিয়ে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারেনি টাইগাররা। ২০১৭ সালের মাঝের সময়টুকু ভালো গেলেও সূচনা আর উপসংহার বাংলাদেশের জন্য বড্ড বিস্বাদ।

আরও পড়ুনঃ সাকিবকে ‘মুক্ত’ করে দিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স

Related Articles

ব্যাটে-বলে বিদায়ী বছরের সেরা পাঁচ

২০১৭: বিডিক্রিকটাইম বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ

২০১৭ঃ বিডিক্রিকটাইম বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশ