SCORE

Trending Now

বিদেশ-বিভূঁইয়ে দেশের ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা

Share Button

দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করে আসছে সমর্থকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন। অলাভজনক সংগঠনটি ২০১৫ সালে পেয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন। বিসিএসএ নামে পরিচিত সংগঠনটির যুক্তরাজ্য (ইংল্যান্ড) শাখার প্রধান হিসেবে কাজ করছেন আব্দুস সালাম, যিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা।

বিদেশ-বিভূঁইয়ে দেশের ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা

সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় আব্দুস সালাম কথা বলেন ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হল।

Also Read - পিচ কিউরেটরের ষড়যন্ত্রেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে?

বিডিক্রিকটাইম: আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি। আপনার কাছে জনপ্রিয় অলাভজনক সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।

আ. সালাম: সংগঠনটির যুক্তরাজ্য শাখার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা আমার জন্য খুব গর্বের বিষয়। বাংলাদেশে সংগঠনটি যেভাবে কাজ করছে, হয়ত আমরা সেভাবে যুক্তরাজ্যে করতে পারছি না। কিন্তু ২০১৭-তে আমরা যে কার্যক্রম করেছি, বিশেষ করে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সমর্থকদের যেভাবে আমরা মাঠে নিয়ে যেতে পেরেছি, সেটাই এখন পর্যন্ত আমাদের সার্থকতা। যুক্তরাজ্যে আমরা যারা ক্রিকেট নিয়ে কাজ করছি তারা সবাই-ই জীবন-জীবিকা নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় পার করি। এজন্য আমরা অনেক কার্যক্রম করতে চেয়েও অনেক সময় করতে পারি না। বাংলাদেশে থেকে সমর্থন জোগানোর সুযোগটা একটু বেশি। আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে ক্রিকেটকে সমর্থন জানাতে বিসিএসএ যেভাবে কাজ করছে, সেভাবে যুক্তরাজ্যেও আমরা সক্রিয়ভাবে আগামী দিনগুলোতে কাজ করতে পারবো।

বিডিক্রিকটাইম: ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করে আপনারা ক্রিকেট সমর্থন করছেন ইংল্যান্ডে, তাও যেটি কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেট। ফিডব্যাক কেমন পাচ্ছেন?

আ. সালাম: আমি যুক্তরাজ্যে অনেক বছর ধরেই আছি। বাংলাদেশ প্রথম ইংল্যান্ড সফরে যায় ২০০৫-এ, তখন এদেশের ক্রিকেটের জন্য যুক্তরাজ্যে খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর বাংলাদেশ আরও অনেকবার ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছে। বিদেশের মাটি হিসেবে সেখানেও টাইগারদের প্রতি সমর্থন ততটা ছিল না। কিন্তু সর্বশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যেভাবে সমর্থকদের ঢল নেমেছিল, সেটা অকল্পনীয়। এই ভালোলাগা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে খেলা দেখতে ওখানকার প্রবাসীরা বেশ উৎসাহী ছিলেন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইসিবির (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড) কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থক ছিলেন প্রায় ষাট ভাগ। অর্থাৎ গ্যালারি থেকে ওদের সমর্থন ছিল মাত্র চল্লিশ ভাগ। এতেই বোঝা যাচ্ছে যে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের সমর্থন দিনদিন বাড়ছেই। পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা আরও বেশি সমর্থকদের দেখতে পাবো। আরও একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলাকালে রোজার মাস চলছিল। ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মুসলিম। এখানে দিনের অংশ বড়, অভুক্ত থাকতে হয় প্রায় ১৮-১৯ ঘণ্টা। রোজা রেখে একটি ওয়ানডে ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখা কিন্তু অনেক শ্রম এবং ধৈর্যের ব্যাপার। ক্রিকেটের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকেই কেবল এটি সম্ভব। আমি সংশ্লিষ্ট আছি, এরকম একটি ক্রিকেট একাডেমী আছে- লন্ডন টাইগার্স। আমরা বিসিএসএর পক্ষ থেকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা লন্ডন টাইগার্সের গ্রাউন্ডে নিয়ে এসেছিলাম। সেখানে প্রায় ২০০-৩০০ দর্শক এসেছিলেন ট্রফিটি দেখতে। এই ব্যাপারটাকেও আমরা বড় একটি অর্জন হিসেবে দেখছি।

বিডিক্রিকটাইম: ২০১৯ বিশ্বকাপের আসর বসবে ইংল্যান্ডে। সেটি নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই।

আ. সালাম: আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে শীঘ্রই আমরা মিটিংয়ে বসবো। সেখানে বিশ্বকাপে সমর্থকদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের নতুন মৌসুম এখনও শুরু হয়নি, মে মাসে শুরু হবে। এর মধ্যে আমরা আইসিসি এবং ইসিবির সাথে যোগাযোগ করবো, যাদের সাথে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও লিয়াজো করেছিলাম। ২০১৯ সালে আমরা কীভাবে কী করতে পারি এসব নিয়ে ওদের সাথে আলোচনা করবো।

বিডিক্রিকটাইম: ইংল্যান্ড খুবই ক্রিকেট ভক্ত জাতি, তবে বাংলাদেশের মতো এতটা ক্রিকেট উন্মাদনা ওদের মধ্যে নেই। আগামী বছর ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের যে আসর বসবে, সেটি নিয়ে ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডে কেমন সাড়া পড়েছে…

আ. সালাম: এখনও ততটা প্রিপারেশন চোখে পড়ছে না। তবে ক্রিকেটের কারিগর বলতে ব্রিটিশদেরই বুঝায়। ওদের সবসময়ই একটা টার্গেট থাকে, যখনই বড় কোনো টুর্নামেন্ট হবে ওরা যাতে চ্যাম্পিয়ন হয়। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পারেনি বলে ওদের বিশ্বকাপে ভালো করার তাড়নাটা আরও বেশি। ইংল্যান্ডের সমর্থকরাও সবসময় চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। ওদের সমর্থকদের একটা গ্রুপ আছে- বার্মি আর্মি। তাদের সাথেও সবসময় আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে- ভবিষ্যতে কীভাবে কী করতে পারি সেসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ক্রিকেট এমন একটা জিনিস, যেটা কেউ সমর্থন করলে সবসময় তার মনের মধ্যে ঘুরতে থাকে। শুধু বার্মি আর্মিই না, আমরা যারা বাংলাদেশের সমর্থক, তারাও কিন্তু পাল্লা দিয়ে বিসিএসএ-এর ব্যানারে বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা করছি। তবে একটা জিনিস আমাদের ভাবাচ্ছে, বিশ্বকাপের একটা অংশও পড়বে রোজার মধ্যে।

বিডিক্রিকটাইম: বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মানুষের ধ্যানধারণা কেমন?

আ. সালাম: বছরখানেক আগে আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। ২০১৭-তে বাংলাদেশের যে পারফরমেন্স তারা দেখেছে এটা দেখে আমাদের সমীহ করাই স্বাভাবিক। যদিও আমরা ওয়ানডে সিরিজটি হেরে গিয়েছিলাম। এটি জিতলে আমাদের ভয় পাওয়ার আরও বেশি কারণ থাকত। ৮-১০ বছর আগে ইংলিশরা বাংলাদেশকে যেভাবে দেখত, এখন মোটেও ওভাবে দেখে না। বাংলাদেশ ইজ অ্যা এগ্রেসিভ টিম, দে ক্যান বিট এনি টিম ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড- এটা তারা বিশ্বাস করে। ইংলিশদের সাথে কনভারসেশনে আমি যা বুঝেছি, ওরা আমাদের সাকিব, তামিম, মিরাজ, মুস্তাফিজ এদের নিয়ে খুব ভাবে। এই ভাবনা থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে সাকিব, মুস্তাফিজ, তামিমকে ডেকেছিল তারা। সব মিলিয়ে এটাই বলবো, বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের কাছ থেকে যথেষ্ট সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশকে ওরা খাটো করে নেয় না, খেলোয়াড়দেরও মূল্যায়ন করে, সম্মান করে।

আরও পড়ুনঃ টেস্ট সিরিজের জন্য চট্টগ্রামে পা রাখল টাইগাররা

Related Articles

পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাংলাদেশে?

ভুল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ!

বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনেও ভারতের নাম

বাংলাদেশ ম্যাচের ইনজুরি সারিয়ে ফিরছেন ওকস

পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিক্সিং করেছেন কোহলি ও যুবরাজ!

Leave A Comment