SCORE

Trending Now

হাথুরুসিংহের কারণেই স্পিনে খরা বাংলাদেশের?

Share Button

বাংলাদেশ দলে যখন জৌলুস ছিল না, তখন ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর রফিকের দেখানো পথেই যেন অক্ষরে অক্ষরে হাঁটছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। দীর্ঘ সময় দলের বোলিং আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটা সময় তার পাশে এসে দাঁড়ালেন সাকিব আল হাসান, এরপর তো ছাড়িয়েই গেলেন।

হাথুরুসিংহের কারণেই স্পিনে খরা বাংলাদেশের?

বাংলাদেশ দলের সেরা স্পিনার এখন (কিংবা সব সময়ের বিবেচনায়ই) সাকিব, এটি বলা যাচ্ছে দ্বিধাহীনভাবেই। তবে জাতীয় দল থেকে রাজ্জাক ‘সরে যাওয়া’র পর একাকী যেভাবে স্পিন আক্রমণ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সাকিব, হতাশার বিষয় সেটিই।

Also Read - ঢাকায় পা রেখেছে শ্রীলঙ্কা

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রশংসা কুঁড়িয়ে নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান স্পিন আক্রমণেরই। কিন্তু রাজ্জাক সরে যাওয়া কিংবা ‘সরিয়ে দেওয়ার’ পর সেই ঝাণ্ডা সাকিবকে একাই উড়াতে হচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে অনেক স্পিনার দলে জায়গা করে নিলেও তারা ব্যস্ত থাকছেন আসা-যাওয়ার মধ্যেই। যার কারণে, এখনও নিজের যোগ্য কোনো সঙ্গী খুঁজে পাননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিব।

অবশ্য স্পিনাররা যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন নাকি ‘রাখা হয়েছে’ সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে! ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাট্রিক করে রেকর্ড গড়া তাইজুল ইসলাম এখন পর্যন্ত খেলেছেন সাকুল্যে চারটি ম্যাচ। প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন আদৌ হচ্ছে কি না, সেই শঙ্কা জেগে ওঠা তাই স্বাভাবিক। তাইজুলের মতো অনেককেই সাম্প্রতিক সময়ে দলে এনে আবারও রীতিমতো ছিটকে ফেলা হয়েছে। টেস্ট দলের অপরিহার্য অংশে পরিণত হওয়া তাইজুল ওয়ানডেতে আরও সুযোগ পেলে কিংবা টি-২০’র অভিষেক জার্সিটা গায়ে জড়াতে পারলে হয়ত যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পেতেন সাকিব।

কেন নতুন স্পিনাররা উঠে আসছেন না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অনেককিছুই আসতে পারে। তবে জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার ও বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক এনামুল হক জুনিয়রের মতে, হাথুরুসিংহে থাকাকালীন সময়ে যথেষ্ট সুযোগ পাননি দেশের স্পিনাররা। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এমন ভাষ্য, ‘হাথুরুসিংহের সময়ে বাঁহাতি স্পিনার নেওয়ার ব্যাপারে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হয়। ওটাই ক্ষতি করেছে। রাজ (রাজ্জাক) ভাইকে একরকম জোর করেই দূরে রাখা হলো। তাইজুলকেও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ তার সামর্থ্য আছে কিছু করে দেখানোর।

এনামুল হক জুনিয়রের এমন দাবি ফেলে দেওয়ার অবকাশ নেই। বাংলাদেশের কোচ থাকাকালীন দলে প্রভাব খাটানো নিয়ে কম সংখ্যক শিরোনামে পরিণত হননি হাথুরুসিংহে। হুট করে দায়িত্ব ছেড়ে শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার পর সেখানেও চলছে তার ছড়ি ঘোরানো। কথিত আছে, মুমিনুলের মতো অভিজ্ঞ ও কার্যকরী ব্যাটসম্যানকেও তিনি নিজের ইচ্ছার কারণে রেখেছিলেন দলের বাইরে। সেক্ষেত্রে তাইজুলের মতো প্রতিভাবান বোলার সুযোগ না পাওয়ার পেছনেও তার ‘দায়’ থাকা নয় অস্বাভাবিক কিছু।

অবশ্য স্পিনার উঠে না আসার পেছনে আরও একটি কারণ থাকতে পারে- যা উঠে এসেছে দেশসেরা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কণ্ঠে। দেশের বেশিরভাগ প্রথম সারির ক্রিকেটারের উঠে আসার মঞ্চ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলতে গেলেই বদলে যাচ্ছে ধরণ। সমস্যা তৈরি হচ্ছে এখানেই। সালাউদ্দিন বলেন, ‘১১ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে মাত্র চারজন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে রাখা যায়। খুব ভালো স্পিনার না হলে এ সময় সফল হওয়া কঠিন। ব্যাটসম্যানরা তখন দুই দিকেই শট খেলার প্রচুর সুযোগ পায়।

তবে ফরম্যাট, ভেন্যু, পরিবেশ বিচারে অন্য বোলাররা যখন প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না, তখন সাকিবের তেড়েফুঁড়ে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলাটা প্রশংসার দাবি রাখে। সাকিবের এই অদম্য পারফরমেন্স কিংবা সফলতার রহস্য কী? আরেক দেশসেরা কোচ সরওয়ার ইমরান বললেন এভাবে- ‘পৃথিবীতে সম্ভবত সাকিবই একমাত্র বোলার, যে একটা বলে ছক্কা খেয়েও পরের বলটা ওই জায়গাতে করার সাহস রাখে। আর কোনো বোলার এটা করবে না। কিন্তু সাকিব জানে, পরের বলটা ব্যাটসম্যান কখনো একই জায়গায় আশা করবে না।

আরও পড়ুনঃ আবহাওয়ার কারণে বদলাতে পারে কম্বিনেশন!

Related Articles

এক ম্যাচে এনামুলের ১৯ নো বল

টিকিটও পাননি রাজিন-এনামুলরা!

করের রশিদই পান না ক্রিকেটাররা!

বিপিএলে দল পাননি শামসু্র-নাঈম-লিখনরা

Leave A Comment