SCORE

সর্বশেষ

অঙ্কনের ৮৫ রানে বিফলে জহুরুলের শতক

সাভারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ওপেনার জহুরুল ইসলাম ১০২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও ম্যাচ হেরেছে তারা। রান তাড়া করতে নেমে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির উইকেট রক্ষক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন খেলেন ৮৫ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। সেই ইনিংসের সুবাদে পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমেছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ব্যাটিংয়ে নেমে ইমরুল কায়েস এবং জহুরুল ইসলাম উদ্বোধনী জুটি তেমন লম্বা করতে পারেননি। দলীয় ২২ রানের মাথায় বিদায় নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস (১৪)। মোহাম্মদ সাদ্দামের বলে উইকেটরক্ষক অঙ্কনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস। এরপর মুমিনুল হককে সাথে নিয়ে ৭২ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম।

Also Read - টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়ক রিয়াদ

চার রানের জন্য অর্ধশতক স্পর্শ করতে পারেননি মুমিনুল হক। ৬ চার এবং ১ ছক্কায় সাজানো ৪৭ বলে ৪৬ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে রাফসান আল মাহমুদের শিকার হন মুমিনুল। মুমিনুলের বিদায়ের পর কিছুটা চাপে পড়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দ্রুত বিদায় নেন জাকের আলি অনিক এবং নাদিফ চৌধুরী। স্বল্প রানের মাথায় ফিরে যান দুজন। ১৮ বলে ১১ রান করে তানভির ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হন জাকের আলি অনিক।

মাত্র ২ রান করে বিদায় নেন নাদিফ চৌধুরী। তাকে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর রজত ভাটিয়াকে সাথে নিয়ে ১০০ রানের জুটি গড়েন জহুরুল ইসলাম। শতরান স্পর্শ করেন জহুরুল। দলীয় ২২৮ রানের মাথায় বিদায় নেন তিনি। ১৪২ বলে ১০২ রান করেন জহরুল। তার ইনিংসে ছিল ৫ চার এবং ১ ছক্কা। রজত ভাটিয়ার ঝড়ে ২৪৭ রানের পুঁজি পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ৬০ বলে ৬১ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন রজত ভাটিয়া। খেলাঘরের হয়ে একটি করে উইকেট পান রাফসান, তানভির, সাদ্দাম ও হাসান।

রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের সূচনাটা দারুণ হয় খেলাঘরের। দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি এবং অধিনায়ক নাফীস ইকবাল স্কোরবোর্ডে প্রথম উইকেটে রান তোলেন ৫০ রান। ৩৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে রুহেল আহমেদের শিকার হন রবিউল ইসলাম। তার ইনিংসে ছিল ৬ টি চার।

রবিউলের বিদায়ের পর রানের গতি কমে যায় খেলাঘরের। ৪ চারে ৪৩ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ৬৩ রানের মাথায় বিদায় নেন নাফীস ইকবাল। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁঁদে ফেলেন মুমিনুল হক। এরপর অমিত মজুমদারকে ফিরিয়ে দেন নাঈম হাসান। ৪ চারে ৩৬ বলে ২৪ রান করেন অমিত।

আল মেনারিয়াকে সাথে নিয়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। অঙ্কনের ব্যাট হাতে অঙ্কিত হয় দারুণ সব শট। এ বিশাল জুটিতে ম্যাচ হাতে চলে আসে খেলাঘরের। ৭ চার আর ৪ ছক্কায় ১০৯ বল মোকাবেলা করে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন মাহিদুল। নাঈম হাসানের শিকার হন তিনি। নাজিমুদ্দিনকে সাথে নিয়ে আল মেনারিয়ার ৩৮ রানের জুটিতে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় খেলাঘরের। মাহিদুলের পর অর্ধশতক পূর্ণ করেন আল মেনারিয়াও। ৫০ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ফিরে যান আল মেনারিয়া। তখন জয় থেকে খেলাঘর মাত্র পাঁচ রান দূরে। নাজিমুদ্দিন ও মইনুল ইসলাম মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। নাজিমুদ্দিন ১৪ এবং মইনুল ইসলাম ৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। নয় বল ও পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে খেলাঘর।

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে জোড়া উইকেট পান নাঈম হাসান। একটি করে উইকেট শিকার করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুহেল আহমেদ ও মুমিনুল হক।

ব্যাট হাতে ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ১৮ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের এটি তিন ম্যাচে দ্বিতীয় হার। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া খেলাঘর সমাজ কল্যান সমিতি ঘুরে দাঁড়ালো। হারের বৃত্ত ভেঙে এবারের ডিপিএলে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল নাফীস ইকবালের দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ২৪৭/৫, ৫০ ওভার
জহুরুল ১০২, ভাটিয়া ৬১, মুমিনুল ৪৬,
রাফসান ১/১২, সাদ্দাম ১/৪২, হাসান মাহমুদ ১/৫০

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ২৪৯/৫, ৪৮.৩ ওভার
অঙ্কন ৮৫, আল মেনারিয়া ৫১, রবিউল ৩২
নাঈম হাসান ২/৪৮, মুমিনুল ১/১২, রুহেল ১/৪৯

ম্যাচসেরা ঃ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন

আরও পড়ুনঃ টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়ক রিয়াদ

Related Articles

জোড়া অর্ধশতকে কলাবাগানের জয়

খেলাঘরকে হারাল রূপগঞ্জ

রবির টানা শতকে খেলাঘরের জয়

গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে

রবির শতকে খেলাঘরের জয়