SCORE

সর্বশেষ

এক সময়ের বিশ্বকাপজয়ীরা খেলছে বাছাই পর্ব

প্রথম দুইবার আয়োজিত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। তৃতীয়বারের মত উঠেছিল ফাইনালে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে হেরে বসে দলটি। তারপর আর বিশ্বকাপ জেতা হয় নি।

বলা হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর কথা। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ সেই ১৯৭৯ সালেই শেষবার জেতে দলটি। ২০ ওভারের বিশ্বকাপ দুইবার জিতলেও ৫০ ওভারেরটা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই।

Also Read - চিকিৎসার জন্য সাকিবের ব্যাংকক যাত্রা

৪০ বছর পরের বিশ্বকাপে তারা খেলতে পারবে কি না সেটা সময়ই বলবে। যে দলটি বিশ্বকাপের মূলপর্বে সরাসরি খেলতে পারছে না, বাছাইপর্ব পেরিয়ে তবে খেলতে হবে ২০১৯ বিশ্বকাপে, সেই দলটির চোখে বিশ্বকাপ জয়ের বাসনা স্বপ্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের সোনালী দিন অনেক আগেই হারিয়ে বসলেও স্বপ্ন দেখছেন দলটির অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। তার মতে, এখন ক্যারিবীয়দের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার সময় এসে গেছে।

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে না পারায় এবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। অথচ এই দলটিই টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৭৫ আর ১৯৭৯ সালে। নতুন প্রজন্ম হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না, এই দলটি একটা সময় বলে কয়ে হারিয়ে দিতো যে কোনো প্রতিপক্ষকেই।

সোনালী সেই সময় হয়তো ফেরানো সম্ভব নয় সহসাই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এখনকার দলটির আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার মতো সামর্থ্য আছে, এমনটাই বিশ্বাস করেন হোল্ডার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নারী দলও। হোল্ডার মনে করছেন, এবার তার দলেরও সময় এসেছে আরেকটি বিশ্বকাপ জেতার, ‘আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো করেছি। নারী ক্রিকেট এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও ভালো করেছি। আমার মনে হয়, এখন আমাদের আরেকটি বিশ্বকাপ জেতার সময় এসেছে।’

হোল্ডার স্বীকার করছেন, বর্তমানে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশি দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলসের মতো তারকাদের নিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো করার দৃঢ় বিশ্বাস তার। ক্যারিবীয় অধিনায়ক বলেন, ‘সম্ভবত এটা সবচেয়ে দুর্বল ফরম্যাট। সন্দেহ নেই, আমরা এখানে ধারাবাহিক নই। আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। আশা করছি, সেটা পারব এবং ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা কিন্তু আস্থা রাখছেন বর্তমান দলটির ওপরেই, ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপে আমাদের ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। বিশেষত প্রথম তিন টুর্নামেন্টে। তাই এ অবস্থায় আমার মনে হয় তাদের (খেলোয়াড়দের) হাতে ভিন্ন কোনো উপায় নেই। বাছাইপর্বটা তাদের পার হতেই হবে। এটা এমনভাবে সাজানো হয়েছে (আইসিসির র‍্যাঙ্কিংয়ের নিয়ম) যে আমরা সুযোগটা (সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার) হারিয়েছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা পারব না, আমাদের পারতেই হবে।’

শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে না খেলতে পারলে আশাহতই হবেন বিশ্বের অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভক্তদের মধ্যে লারার হতাশা নিশ্চয়ই বেশি হবে, ‘বিশ্বকাপে না খেলতে পারাটা খুবই লজ্জার হবে…আমি তেমনটা ভাবতেই পারছি না।’

খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের দ্বন্দ্ব, সঙ্গে দলের বাজে পারফরম্যান্স। সব মিলিয়ে অনেক দিন ধরেই হতশ্রী অবস্থা ক্যারিবীয় ক্রিকেটের। দুঃসময়ের অন্ধকারটা আরও গাঢ় হবে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারে। জেসন হোল্ডাররা নিশ্চয়ই তেমনটা হতে দিতে চাইবেন না।

বিশ্বকাপ বাছাই কথাটা ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গেই বেশি মানানসই। কিন্তু আইসিসির সৌজন্যে বিশ্বকাপ বাছাই ঢুকে পড়েছে ক্রিকেটেও। জানা গিয়েছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ হবে ১০ দলের। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আট দল খেলবে সরাসরি। শেষ দুটি জায়গা নিয়ে যুদ্ধটা শুরু হচ্ছে ৪ মার্চ থেকে, জিম্বাবুয়েতে।

বাছাইপর্বে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে মুখোমুখি হবে ১০ দল। গ্রুপ পর্ব শেষে সুপার সিক্সের শীর্ষ দুই দল পাবে স্বপ্নের বিশ্বকাপ টিকিট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’তে আছে আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের সঙ্গী আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও স্কটল্যান্ড।

আরো পড়ুনঃ

চিকিৎসার জন্য সাকিবের ব্যাংকক যাত্রা

Related Articles

উইন্ডিজ সফরের আগেই নতুন কোচ

বাংলাদেশের বিপক্ষে মুশতাক আহমেদ

সাকিব-তামিমদের নিয়ে চূড়ান্ত হল বিশ্ব একাদশ

এখনও নিশ্চিত হয়নি আফগানিস্তান সিরিজের সূচি, চূড়ান্ত দল জুনে

সিনিয়রদের প্রতি লিখনের কৃতজ্ঞতা