SCORE

সর্বশেষ

কন্ডিশনও ছিল শ্রীলঙ্কার পক্ষে!

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই যা একটু ছন্নছাড়া ছিল শ্রীলঙ্কা দল। এরপর যত সময় গড়িয়েছে, ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে দলটি। একটা সময় স্বাগতিক বাংলাদেশকেই মনে হচ্ছিল খাপ খাওয়াতে না পারা সফরকারী দল, আর শ্রীলঙ্কা যেন ‘সব চেনা’ স্বাগতিক!

'শ্রীলঙ্কান মুস্তাফিজ' পেলেন হাথুরুসিংহে

বাংলাদেশে এক মাসেরও বেশি সময়ে তিনটি সিরিজ খেলা শেষে সোমবার নিজ দেশে ফিরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। দেশে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন হাথুরুসিংহে। সেখানে লঙ্কান কোচ জানান, বাংলাদেশের কন্ডিশনও শ্রীলঙ্কার পক্ষে ছিল।

Also Read - হাথুরুসিংহে নিয়ে ভাবায়ই টাইগারদের খারাপ পারফরমেন্স

শুরুর দিকে খেই হারালেও শ্রীলঙ্কা ফর্মে ফিরবে, এই বিশ্বাস ছিল হাথুরুসিংহের। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আমরা ফিরে আসতে পারবো। প্রতিপক্ষ প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছে, আর আমরাও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নিয়েছি। কিছু সিদ্ধান্ত ভুলও ছিল আমাদের। তারপরে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’

কন্ডিশন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাথুরুসিংহে ধন্যবাদ জানান দলের সদস্যদেরও। তিনি আরও বলেন, ‘কন্ডিশন আমাদের অনুকূলে ছিল। ক্রিকেটাররাও কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পেরেছে। কোচিং স্টাফরা আমাকে সাহায্য করেছে। সব খেলোয়াড়ের সাথে আমরা কথা বলেছি, তাদের আমরা খেলায় মনোনিবেশ করতে বলেছি। আর তারা শেষপর্যন্ত সফল হয়েছে।’

এই সফরের আগে ক্রিকেটীয় দিক থেকে বাজে সময় পার করছিল শ্রীলঙ্কা। দলটির বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য নিয়েও তখন উঠেছিল প্রশ্ন। তবে বাংলাদেশ সফরে ভালো করায় সেই সব সমালোচনা চাপা পড়ে গেছে সাফল্যের আড়ালে। নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘বড় দলের সাথে আমরা প্রতিযোগিতা দেওয়ার সামর্থ্য রাখি। তবে ফলাফলের নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারি না। আমরা যেটা করতে পারি তা হল, সবসময় নিজেদের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলা বা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা। এখন পর্যন্ত যা দেখছি, সে পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট। এভাবে খেলতে থাকলে অবশ্যই আমরা ভালো করবো।’

হাথুরুসিংহে জানান, দল নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত থাকবে ভবিষ্যতেও। তার ভাষ্য, ‘বিভিন্ন দেশ এবং বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করার জন্য আমরা খেলোয়াড়দের বড় এক সংগ্রহ চাই, যা নির্ভর করবে তাদের সামর্থ্য এবং সীমার উপর। সব খেলোয়াড় সমান সুযোগ পাচ্ছে। তারা কী অবস্থায় আছে সেটা দল নির্বাচনের সময় নিজেরাই বুঝতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কাজের ক্ষেত্রে মনে হয় না আপনারা একই দল বারবার দেখতে পারবেন। অবশ্যই যারা পারফর্ম করবে তারাই দলে সুযোগ পাবে, তবে ম্যাচ জেতার জন্য সেরা কম্বিনেশন বাছাইয়ের চেষ্টাটাই থাকবে। ব্যাপারটি এমন হচ্ছে না যে আমরা এগারোজন খেলোয়াড় নিয়েই আগামী দুই বছর কাটাবো।’

দীর্ঘ সময় পর দলে ডাক পেয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ ভালো পারফর্ম করেছেন লঙ্কান বোলার জীবন মেন্ডিস। হারিয়ে যেতে বসা এই ক্রিকেটার আবারও পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন হাথুরুসিংহের ডাকেই। তার প্রসঙ্গে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমরা তার মেধা সম্পর্কে জানি। এবং তার ঘরোয়া ক্রিকেটের রেকর্ড ঘেঁটে জেনেছি, আমরা তার মতো কাউকেই খুঁজছিলাম।’

রংপুর রাইডার্সের জার্সি গায়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফর্ম করার পর লঙ্কান দলের দরজা খুলে যায় থিসারা পেরেরার জন্য। সেই পেরেরা এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলেছেন দুর্দান্ত। ফর্মে ফেরা থিসারা পেরেরা সম্পর্কে হাথুরুসিংহের অভিমত, ‘থিসারা অনেকদিন পর দলে ফিরেছে, এবং তার দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা তাকে বলেছি। তার অনুশীলন পদ্ধতিও আমরা একটু বদলে দিয়েছি। তার মেধা সম্পর্কে আমরা সবাই-ই জানতাম, তবে তার ভালো পারফরমেন্সটাই প্রয়োজন ছিল।’

তাকে নিয়ে আলোচনাকালে দলের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য ও সীমার কথাটিও তুলে ধরলেন লঙ্কান কোচ, সাথে এও বোঝালেন- সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আগামীর পথে এগোচ্ছেন তিনি, ‘তার সামর্থ্য এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় এখনও তার উন্নতির জায়গা রয়েছে এবং দলে অবদান রাখারও সুযোগ রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করে সে কেমন সুযোগ পাচ্ছে বা কেমন দায়িত্ব তার উপর থাকছে।’

আরও পড়ুনঃ পরাজয় নিয়ে সাবেক-বর্তমানদের ভাবনা

Related Articles

হাথুরুসিংহেদের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ!

হাথুরুসিংহের মতোই ‘স্বাধীন’ রোডস

হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হচ্ছেন স্টিভ রোডস!

কারস্টেন ব্যর্থ হলেও প্রস্তুত আছেন কোচ!

পরামর্শকই কারস্টেনের ভূমিকা