SCORE

Trending Now

জাকের-নাঈমের নৈপুণ্যে গাজী গ্রুপের জয়

Share Button

জাকের আলি অনিকের ৯০ রানের ইনিংস, নাদিফ চৌধুরীর সময়োপযোগী ৭১ রান এবং শেষদিকে রজত ভাটিয়ার ঝড়ো ৫৮। এ তিন অর্ধশতকে ২৭৯ রানের পুঁজি পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বোলাররাও দারুণভাবে আটকে রাখেন শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে। ২১ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। 

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। শুরুতেই ধাক্কা খায় গাজী গ্রুপ। প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার শফিউল হায়াত। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে শুভাগত হোমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর মেহেদি হাসান ও জহুরুল ইসলামের জুটিও টিকেনি। সুজন হাওলাদারের বলে বোল্ড হন মেহেদি হাসান (১৩)। ২৪ রানেই ২ উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

অধিনায়ক জহুরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন জাকের আলি অনিক। ৪৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। জহুরুল থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি। ৪৫ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে রায়হানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আফিফ হোসেন ধ্রুবের বলে স্টাম্পিং হন আসিফ আহমেদ (৫)। ৭৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আবারো বিপদে পড়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

Also Read - দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

নাদিফ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে জাকের আলি অনিকের ১১৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। নাদিফ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিয়ে এ জুটি ভাঙেন শুভাগত হোম। ৬৮ বলে ৭১ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন নাদিফ চৌধুরী। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচ চার আর তিন ছক্কায়। এরপর ঝড় তুলেন রজত ভাটিয়া। ভারতের এ ব্যাটসম্যান ৪ চার এবং ৩ ছক্কা সমৃদ্ধ ৩৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন ভাটিয়া। ভাটিয়া এবং জাকেরের ৭৮ রানের জুটি দলকে পৌঁছে দেয় ২৬৯ রানে। শেষ ওভারে আউট হন জাকের আলি। শতক থেকে ১০ রান দূরে থেকে আউট হন তিনি। তার ৯০ রানের ইনিংসে ছিল ৬ চার এবং ২ ছক্কা।

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেন সাইফউদ্দিন। একটি করে উইকেত শিকার করেন শুভাগত, আফিফ, সুজন এবং রায়হান।

২৮০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং সাব্বির হোসেন মিডল অর্ডারকে গড়ে দিয়েছিলেন ভিত। কিন্তু সেই ভিতটা দারুণভাবে কাজেও লাগিয়েছে। দুই ওপেনার যেই সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন সেউ সুর ধরেই এগিয়ে যাচ্ছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব।

ওপেনিং জুটি থেকে শাইনপুকুরের স্কোরবোর্ডে রান জমা হয় ৮৪। রানের চাকা সচল রেখে খেলছিলেন সাদমান-সাব্বির। ৫৩ বলে ৫৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা সাব্বিরকে ফেরান মেহেদি হাসান। তার ইনিংসে ছিল ৬ টি চার এবং ৪ টি ছক্কার মার। আরেক ওপেনার সাদমান অর্ধশতকের কাছে গেলেও পারেননি। ৪০ রান করে আউট হন বাঁহাতি স্পিনার নাঈম হাসানের বলে।

তবে উদয় কাউল আর তৌহিদ হৃদয়ের ৮৬ রানের জুটিতে ম্যাচ নিজেদের অনুকূলে রাখে শাইনপুকুর। ৬৩ বলে ৫১ রান করে বিদায় নেন তৌহিদ হৃদয়। রুবেল আহমেদের বলে আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান হৃদয়। নিজের পরের ওভারেও রুবেল পান উইকেট। ফিরিয়ে দেন গাজী গ্রুপের আরেক বাঁধা উদয় কাউলকে। ৪ চার আর ২ ছক্কায় ৫৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন উদয়। অর্ধশতক হাঁকানো দুই ব্যাটসম্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে দলকে খেলায় ফেরান রুবেল।

ঐ ওভারের শেষ বলে রুবেল ফেরান শুভাগত হোমকে। দুই ওভারে তিন উইকেট নিয়ে শাইনপুকুরকে বিপাকে ফেলে দেন রুবেল। এরপর লড়াইয়ের আভাস দেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে তাকে ইনিংস লম্বা করতে দেননি নাঈম হাসান। ১১ বলে ১৩ রান করে নাঈমের বলে বোল্ড হন আফিফ। এক বল পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকেও বোল্ড করেন নাঈম (৯)। পরের ওভারে রায়হান উদ্দিনকে কামরুল ইসলাম রাব্বি ফিরিয়ে দিলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শাইনপুকুর। শেষদিকে ১৪ রানের ইনিংস খেলেন তৌহিদ তারেক। তাকে বোল্ড করেন আবু হায়দার রনি। পরের বলে সুজন হাওলাদারকে বোল্ড করে গাজী গ্রুপের ২০ রানের জয় নিশ্চিত করেন আবু হায়দার।

আট বল আগেই ২৫৯ রান করে গুটিয়ে যায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দল শাইনপুকুর। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক পরাজয় শাইনপুকুরের। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের এটি লিগে প্রথম জয়।

১১৮ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলা জাকের আলি অনিকের হাতে উঠে ম্যাচসেরার পুরষ্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ২৭৯/৬, ৫০ ওভার
জাকের ৯০, নাদিফ ৭১, রজত ৫৮
সাইফউদ্দিন ২/৬৮, হোম ১/৫, আফিফ ১/৩৮

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ২৫৯/১০, ৪৮.৪ ওভার
উদয় ৫৯, সাব্বির ৫৫, হৃদয় ৫১
নাঈম ৩/৩৬, রুবেল ৩/৬৩, আবু হায়দার ২/৩৭

ম্যাচসেরা – জাকের আলি অনিক

Related Articles

ব্রাদার্সের বিপক্ষে মুমিনুল-কায়েসদের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

কায়েসের পর মুমিনুলের ঝড়ো অর্ধশতক

অঙ্কনের ৮৫ রানে বিফলে জহুরুলের শতক

শিরোপা উৎসবে মাতলো নাসির-এনামুলরা

শেষ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত গাজী গ্রুপের

Leave A Comment