SCORE

সর্বশেষ

জোড়া সেঞ্চুরিতে খেলাঘরের বড় জয়

ব্যাটিংয়ে জাহিদ জাভেদের অর্ধশতকে মাঝারি পুঁজি পেয়েছিল অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। তাড়া করতে নেমে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি বিপর্যয়ে পড়লেও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং আল মেনারিয়ার জোড়া শতকে সহজ জয় পেয়েছে তারা। দুই সেঞ্চুরির সুবাদে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় জয়ের সুবাস পেল তারা। 

ওপেনিং জুটিতে অগ্রণী ব্যাংকে সৌম্য সরকার এবং আজমীর আহমেদ বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান তোলেন দুজন। ২৯ বলে ২৪ রান করে সৌম্য সরকার ফিরে যান রবিউল ইসলাম রবির বলে। পরের ওভারেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার আজমীর। ৩৭ বলে ২৫ রান করে আউট হন মাসুম খানের বলে। দুই ওভারে দুই ওপেনার হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় আবাহনী।

এরপর শাহরিয়ার নাফীস ও রাফাতউল্লাহ মোহমান্দ ৪৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় অগ্রণী ব্যাংক। তবে রানের গতি কমে এসেছিল। মন্থর গতিতে ব্যাটিং করেন দুজন। এক চারে ৫৯ বলে ২৮ রান করে রাফসান আল মাহমুদের বলে আউট হন রাফাতউল্লাহ মোহমান্দ। স্কোর বড় করতে পারেননি ধীমান ঘোষ। ৫ রান করে হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দেন উইকেরক্ষক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। ধীমানের বিদায়ের পরের ওভারে সজাঘরে ফিরেন শাহরিয়ার নাফীসও। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ বলে ২৯ রান করে রবিউল ইসলামের বলে বোল্ড হন নাফীস।

Also Read - অভিজ্ঞদের চাচ্ছেন সুজন

১২৬ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় অগ্রণী ব্যাংক। ষষ্ঠ উইকেটে সালমান হোসেন ও জাহিদ জাভেদ মিলে যোগ করেন ৩৪ রান। থিতু হলেও স্কোর বড় করতে পারেননি সালমান। ২৪ বলে ২২ রান করে ফিরেন তিনি। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন রাফসান আল মাহমুদ। এরপর জাহিদ জাভেদ সঙ্গ পান লোয়ার অর্ডারের আব্দুর রাজ্জাক এবং শফিউল ইসলামের কাছ থেকে। আব্দুর রাজ্জাকের সাথে ৩৮ রানের জুটি গড়েন জাহিদ। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ বলে ২০ রানের সময়োপযোগী ইনিংস খেলেন রাজ্জাক।

এরপর শফিউল ইসলামকে সাথে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন জাহিদ। দলীয় ২৪৭ রানের মাথায় বিদায় নেন তিনি। ৪ চারে ৫৬ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন জাহিদ। দলীয় ২৫৮ রানের মাথায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শফিউল ইসলাম। ২১ বলে ২০ রান করেন তিনি। ৮ উইকেটে ২৫৯ রান করে আবাহনী।

বোলিংয়ে দুইটি করে উইকেট নেন মাসুম খান, রাফসান আল মাহমুদ ও রবিউল ইসলাম রবি।

জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি এবং রাফসান আল মাহমুদ উদ্বোধনী জুটি বড় করতে পারেননি। রানের চাকা সচল রাখলেও দলীয় ২৭ রানের মাথায় ফিরেন রবি। ২১ বলে ১০ রান করে শফিউলের বলে বোল্ড হন রবি। নিজের পরের ওভারেই রবির সঙ্গী রাফসানকে সাজঘরের পথ দেখান শফিউল। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রাফসান। ৩ চারে ১৯ বলে ১৫ রান করেন তিনি।

জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে চলে যায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। এরপর অমিত মজুমদারকেও ফেরান শফিউল। নিজের পরের ওভারেই। রানের খাতা খোলার আগেই শফিউলের বলে উইকেটরক্ষক ধীমান ঘোষের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন অমিত মজুমদার। তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে শফিউল তৈরি করেন ধ্বসের আশঙ্কা।

এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন আল মেনারিয়া। ব্যাটিং বিপর্যয়ে কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি এ দুইজনের ব্যাট ধরেই জয়ের ট্রেনে চড়ে খেলাঘর। দৃঢ়তার সাথে ব্যাটিং করেন দুজন। দলের এমন বিপর্যয়ে শক্ত হাতে লড়াই করেন অঙ্কন আর মেনারিয়া। হতাশ করেন শফিউল-রাজ্জাকদের। পুরো ম্যাচে আর কোনো সফলতা পায়নি অগ্রণী ব্যাংক। হেরে যায় অঙ্কন-মেনারিয়ার বিশাল জুটির কাছে।

২২১ রানের জুটি গড়েন দুজন। দুজনই স্পর্শ করেন শতক। ৪ চার এবং ৬ ছক্কায় ১৩১ বলে ১১৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। আল মেনারিয়া করেন ১১২ বলে ১১৩ রান। তার ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৩ ছক্কা। ২২৯ বল স্থায়ী ছিল এ জুটি। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছাড়েন দুজন। ম্যাচসেরা হন অঙ্কন।

পাঁচ ম্যাচে এ নিয়ে দুই জয় পেল খেলাঘর। অন্যদিকে এটি অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পঞ্চম ম্যাচে তৃতীয় পরাজয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২৫৯/৮, ৫০ ওভার
জাহিদ ৫৪, রাজ্জাক ৩০, নাফীস ২৯, রাফাতউল্লাহ ২৮
রবিউল ২/১৯, মাসুম খান ২/৩০, রাফসান ২/৩৫

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিঃ ২৬১/৩, ৪৭.৪ ওভার
অঙ্কন ১১৫*, আল মেনারিয়া ১১৩*, রাফসান ১৫
শফিউল ৩/৩৩, সালমান ০/২৭, আল-আমিন ০/৪৭

আরও পড়ুনঃ অভিজ্ঞদের চাচ্ছেন সুজন

Related Articles

ইরফান-রকিবুলের ব্যাটে মোহামেডানের বিশাল জয়

তানভীরের ঝড়ে বিধ্বস্ত অগ্রণী ব্যাঙ্ক