SCORE

সর্বশেষ

তানভীরের ঝড়ে বিধ্বস্ত অগ্রণী ব্যাঙ্ক

সাভারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবকে ২৮ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ব্যাটিংয়ে তানভীর হায়দারের ঝড়ো ৭১ রানের ইনিংস বড় সংগ্রহ এনে দেয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। শেখ জামালের ছুঁড়ে দেয়া লক্ষ্য টপকাতে পারেনি অগ্রণী ব্যাঙ্ক।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে সূচনাটা মোটেও সুখকর ছিল না শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের। শুরুতেই খায় ধাক্কা। আঘাত হানেন অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবের শফিউল ইসলাম। ইনিংসের প্রথম বলেই পিনাক ঘোষকে এলবিডব্লিউ করেন শফিউল ইসলাম। ০ রান করে সাজঘরে হাঁটেন পিনাক ঘোষ। ওপেনার হাসানুজ্জমান এবং সৈকত আলি ৩৬ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের জুটি ভাঙেন আল-আমিন হোসেন। ১৮ বলে ৮ রান করে ফিরে যান হাসানুজ্জামান।

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন সৈকত আলি। শেখ জামালের রানের চাকা চলছিল সৈকতের ব্যাটে। তাকে ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকার। নিজের বলে নিজে ক্যাচ ধরে আউট করেন সৈকতকে। ৬ চার এবং ১ ছক্কায় ৪২ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন সৈকত। ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় শেখ জামাল।

এরপর হাল ধরেন দিগ্বিজয় সিং রাঙ্গি এবং ইলিয়াস সানি। তাদের ৯৪ রানের জুটিতে খেলায় ফিরে আসে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় রাঙ্গিকে ফেরান আব্দুর রাজ্জাক। ৭৬ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন রাঙ্গি। পরের ওভারে ইলিয়াস সানিকে ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকার। ৪০ রান করেন ইলিয়াস সানি। এবারও নিজের বলে নিজে ক্যাচ ধরেন সৌম্য।
দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যান গেলে চাপে পড়ে শেখ জামাল। এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন তানভীর হায়দার। ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন তানভীর। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিধ্বস্ত হয় অগ্রণী ব্যাঙ্ক। নুরুল হাসানের সাথে ৮২ রানের জুটি গড়েন তানভীর। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ বলে ৩৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন নুরুল হাসান। এরপর তানভীর হায়দারকে সঙ্গ দেন জিয়াউর রহমান এবং সোহাগ গাজী। জিয়াউর ১৩ বলে ১৫ এবং সোহাগ ৮ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ ওভারে শফিউল ইসলামের বলে আউট হন তানভীর হায়দার। ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ৪৮ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে থামেন তিনি। শেখ জামাল রান করে ৯ উইইকেটে ২৯৪। ৪ উইকেট শিকার করেন শফিউল ইসলাম।

Also Read - মজিদের ব্যাটিং আর স্পিনে ধরাশায়ী মোহামেডান

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৌম্য সরকার ও আজমীর আহমেদ উদ্বোধনী জুটিতে রান তুলেন ৫২ বলে ৩৭। ৩ চারে ২২ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য বড় ইনিংসের আভাস দিলেও বোল্ড হন নাজমুল ইসলামের বলে। এ জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অগ্রণী ব্যাঙ্ক । দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ফিরে যান আরেক ওপেনার আজমীর। ৩৩ বলে ১৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাকেও ফেরান নাজমুল।

শাহরিয়ার নাফীসও পারেননি বড় স্কোর গড়তে। ২১ রান করে বিদায় নেন ইলিয়াস সানির শিকার হয়ে। এরপর রাফাতউল্লাহ মোহমান্দ এবং ধীমান ঘোষ মিলে গড়েন ৬২ রানের জুটি। ৪ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ৬৬ বলে ৪৩ রান করে জিয়াউর রহমানের শিকার হন রাফাতউল্লাহ। ৪৭ বলে ৪৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলা ধীমান ঘোষও ফিরে যান একটু পরেই। এক ওভার পরে সালমান হোসেন (৮) বিদায় নেন সোহাগ গাজীর বলে।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অগ্রণী ব্যাঙ্ক। এরপর ঝড় তুলেন রাজ্জাক। ১২ বলে ২৪ রানের ক্ষণস্থায়ী ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। তাকে ফেরান আবু জায়েদ। পরের ওভারে সোহাগ গাজী আউট করেন জাহিদ জাবেদকে (১৯)।

মাঝে বড় জুটির অভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব। শেষদিকে ঝড় তুলেন শফিউল ইসলাম। বল হাতে চার উইকেট শিকারের পর ৩১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১ চার আর ৩ ছক্কা। কিন্তু তাতে অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেত ক্লাব শুদুহ পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমায়। ২৬৬ রানে অলআউট হয়ে ২৮ রানে হারে রাজ্জাকরা। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে তিনটি করে উইকেট লাভ করেন ইলিয়াস সানি এবং নাজমুল ইসলাম।

ব্যাটিংয়ে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা তানভীর হায়দার পান ম্যাচসেরার পুরষ্কার। এ জয় নিতে ডিপিএলে টানা দ্বিতীয় জয় পেল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ২৯৪/৯, ৫০ ওভার
তানভীর ৭১, রাঙ্গি ৫৮, সৈকত ৪৩
শফিউল ৪/৬৮, রাজ্জাক ২/৪০, সৌম্য ২/৫০

অগ্রণী ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাব ২৬৬/১০, ৪৯.১ ওভার
ধীমান ৪৮, শফিউল ৪৪, রাফাতউল্লাহ ৪৩
নাজমুল ৩/২১, সানি ৩/৫০, সোহাগ ২/৫৫

ম্যাচসেরাঃ তানভীর হায়দার

আরো পড়ুন ঃ কাপালির অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে জিতল ব্রাদার্স 

Related Articles

জোড়া সেঞ্চুরিতে খেলাঘরের বড় জয়

ইরফান-রকিবুলের ব্যাটে মোহামেডানের বিশাল জয়