SCORE

Trending Now

রাজ্জাককে একাদশে না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা সুজনের

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালো পারফর্ম করলেও ভালো করতে পারছে না স্পিন নির্ভর বোলিং আক্রমণ। আর তাই ঘুরে-ফিরে আসছে এক প্রশ্ন- সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া রাজ্জাক কি অন্যদের চেয়ে ভালো করতে পারতেন না?

চট্টগ্রাম টেস্টের দলে রাজ্জাক

টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে হুট করে রাজ্জাককে স্কোয়াডে ডাকা হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, চার বছর পর বুঝি মর্যাদার টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটতে যাচ্ছে রাজ্জাকের। তবে তা আর হয়নি, কারণ রাজ্জাককে রেখে নির্বাচকরা একাদশের জন্য বেছে নেন সানজামুল ইসলামকে, রাজ্জাকের হাত থেকে টুপি নিয়ে যার এটি ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট।

Also Read - 'অবশ্যই শ্রীলঙ্কা ভালো অবস্থানে আছে'

শুক্রবার দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেননি কোন ক্রিকেটার। এদিন দলের প্রতিনিধি হিসেবে পাওয়া গেলো টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনকে। স্বভাবতই তাকে প্রশ্ন করা হল রাজ্জাককে নিয়ে। রাজ্জাকের বদলে দলে জায়গা পাওয়া সানজামুল ৩৭ ওভার বল করে ১২৮ রান দিয়েছেন, পাননি কোনো উইকেট। ইনজুরির কারণে দলের সেরা স্পিনার সাকিব আল হাসানও নেই। এমন অবস্থায় হয়ত রাজ্জাকই হতে পারতেন সমাধান। তবে রাজ্জাক চট্টগ্রাম টেস্টের দলে জায়গা তো পাননিই, ঢাকা টেস্টের দলেও তার না থাকার সম্ভাবনা বেশি।

রাজ্জাককে দলে না রাখার কারণ জানিয়ে সুজন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজ্জাক অনেকদিন সঙ্গে ছিল না। জাতীয় দলের সেটআপে অনেক দিন ছিল না। তাই আত্মবিশ্বাসটা হয়তো সানজামুলের বেশি ছিল। কারণ সে ট্রেনিংয়ের মধ্যে ছিল। সেজন্য হয়তো সানজামুলের দিকে আমরা চিন্তা করেছি।’

সুজনের কথা সত্যি হলে ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রাজ্জাকের চেয়ে এই ম্যাচের আগে একটিও টেস্ট না খেলা সানজামুলকেই বেশি যোগ্য মনে হয়েছে নির্বাচকদের! সানজামুল সেটি মাঠের খেলায় প্রমাণ করতে না পারলেও টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ভূমিকায় থাকা দলের অভিভাবকের ইঙ্গিত সেটিই। সুজনের ভাষ্য, ‘(সানজামুল, রাজ্জাকের চেয়ে) বেটার ছিল হয়তো। (রাজ্জাককে দলে না রাখার) অন্য কোনো কারণ নেই।’

তবে রাজ্জাককে দলে না নেওয়া কিংবা সানজামুলকে দলে নেওয়া যে নির্বাচকদের একার সিদ্ধান্ত নয়, সেটি দাবি করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি জানিয়েছেন, দল নির্ধারণের সময় সাথে ছিলেন খোদ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। আর সেখানে রাজ্জাককে সময় দিতে চেয়েছেন তিনি। সুজন বলেন, ‘আমরা যখন টিম সিলেকশনে বসি, ক্যাপ্টেনও ছিল তখন। আমরা চিন্তা করেছি রাজ্জাককে হয়তো সময় দেওয়া দরকার। সময় নিয়ে যদি কাজ করে তার জন্য সেটা সহজ হবে।’

রাজ্জাককে দলে না নিলেও অবশ্য তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই সুজনের। আর রাজ্জাক নির্বাচকদের পরিকল্পনায় ছিলেন আগে থেকেই ‘রাজ্জাকের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার কোনো কারণ নেই। তার অভিজ্ঞতা সবার জন্যই কাজে আসবে। আর রাজ্জাক প্ল্যানের মধ্যেই ছিল। তাকে তো হঠাৎ উড়িয়ে আনা হয়নি।’

উইকেট নিয়ে টেস্ট শুরুর আগে যেমন ধারণা ছিল, তা এখনও মিলেনি তৃতীয় দিন পর্যন্ত শেষ হয়ে গেলেও। এ নিয়ে অবশ্য অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা নেই টাইগারদের। অন্য রকম উইকেট প্রত্যাশা করেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য কৌশলী জবাব সুজনের। তিনি বলেন, ‘সেটা বলা টাফ। তবে উইকেট নিয়ে আমি কখনও অজুহাত তুলতে রাজি না। এমনকি অভিযোগ করতেও রজি না। হয়তো ব্যাটিংবান্ধব উইকেট। আমরা চেয়েছিলাম বল স্লো সাইটে থাকতো, আরেকটু স্পিন থাকতো। তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

সংবাদ সম্মেলনে আলাপকালে খালেদ মাহমুদ সুজন আরও বলেন, ‘উইকেট ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। এই উইকেটে তো আমরাও ভালো ব্যাটিং করেছি। প্রথম ইনিংসে ৫০০ এর উপর রান করেছি। প্রথমদিনে ৩৭৪ রান তুলেছি। তাই আমার কোনো অভিযোগ নেই। পরবর্তীতে আমাদের ব্যাটিং বলেন, বোলিং বলেন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

আরও পড়ুনঃ কুশল মেন্ডিসের ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নভঙ্গ

Related Articles

জবাব দিচ্ছে পূর্বাঞ্চল, চালকের আসনে মধ্যাঞ্চল

লিটনের ব্যাটে লড়ছে ইস্ট জোন

এখনও জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখেন তুষার ইমরান

ভুল বুঝতে পারছেন আরাফাত সানি

ঢাকা টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩৩৯ রান