SCORE

সর্বশেষ

অলরাউন্ডার মেহেদির সুবাদে জিতল গাজী গ্রুপ

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বোলারদের নৈপুণ্যে চার উইকেটের জয় এনে দিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। নিয়মিত উইকেট শিকার আর প্রতিপক্ষ প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে অল্প রানে বেঁধে রেখে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে প্রথম ইনিংসেই। বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগেই অবদান রেখেছেন মেহেদি হাসান। এ জয় সুপার সিক্সে পৌঁছে দিয়েছে গাজী গ্রুপকে। 

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। শুরুটা মন্থর গতির করেন দুই ওপেনার আবু সায়েম ও ইমতিয়াজ হোসেন। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে প্রথম সাফল্য এনে দেন টিপু সুলতান। ৭ রান করে টিপু সুলতানের বলে লেগ বিফোরের শিকার হন ওপেনার আবু সায়েম।

সায়েমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেনি ইমতিয়াজ ও ফজলে মাহমুদের জুটি। মাত্র ১৭ রান যোগ করার পর দলীয় ৪২ রানের মাথায় ডানহাতি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ইমতিয়াজ। ৩ চার ও ১ ছয়ে ৪১ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন ইমতিয়াজ।

Also Read - ফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

শুরু থেকেই মন্থর থাকা প্রাইম দোলেশ্বরের রানের গতি আর বাড়েনি। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বোলাররা। মার্শাল আইয়ুব ও ফজলে মাহমুদের ৬৮ রানের জুটিতে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপর্যয়ের শঙ্কা কেটে গেলেও রানের গতি ধীর থাকায় ছিল না বড় স্কোরের সম্ভাবনা।

দলীয় ১১০ রানের মাথায় বিদায় নেন মার্শাল আইয়ুব। ৩ চারের সাহায্যে ৩৫ বলে করেন ২৮ রান। স্পিনার মেহেদি হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

পরের ওভারে টিপু সুলতানের দ্বিতীয় শিকার হন ফরহাদ হোসেন। মাত্র ১ রান করে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে থাকা জাকের আলিকে। বেশিক্ষণ টিকেননি জোহাইব খান। ১১ বলে ২ রান করে হন নাঈম হাসানের শিকার। এরপর শরীফুল্লাহকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন ৩০ রানের জুটি গড়েন ফয়জুল্লাহ। তাদের জুটি ভাঙেন ফাওয়াদ আলম। এ পাকিস্তানির বলে কামরুল ইসলাম রাব্বির হাতে ক্যাচ দেন শরীফুল্লাহ। ৩২ বলে ১৪ রান করে ফিরেন সাজঘরে।

পরের ওভারে রান আউট হন ফজলে মাহমুদ। ৫ চারের সাহায্যে খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। মোকাবেলা করেন ১০৫ বল। রান আউট হয়ে যখন সাজঘরে ফিরছেন তখন ইনিংসের ৪২ তম ওভার। রান ১৪৮।

শেষদিকে ক্রিজে ছিলেন শাহানুর রহমান, ফরহাদ রেজা আর আরাফাত সানি। প্রাইম দোলেশ্বরের স্কোরবোর্ডে লড়াকু পুঁজি এনে দিতে দরকার ছিল মারকুটে ব্যাটিং। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি তারা। শাহানুর ২১ বলে ১২, ফরহাদ রেজা ১৫ বলে ৯ আর আরাফাত ১৯ বলে ১৫ রান করে ১৮৬ রানের বেশি স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেনি প্রাইম দোলেশ্বর।

বল হাতে তিন উইকেট শিকার করে লোয়ার অর্ডারকে বেশি রান তুলতে দেননি ফাওয়াদ আলম। বেশ কৃপণ বোলিং করেন মেহেদি হাসান। ১০ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে এক উইকেট নেন তিনি।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম এবং মেহেদি হাসান। একের পর এক দারুণ শট খেলছিলেন মেহেদি হাসান। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে এ উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জোহাইব খান। দলীয় ৩১ রানের মাথায় বিদায় নেন জহুরুল (৯)।

দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে সাথে নিয়ে ৩৮ রান যোগ করেন মেহেদি হাসান। দলীয় ৬৯ রানের মাথায় দ্বিতীয় আঘাত হানেন জোহাইব। পাকিস্তানের এ বাহাঁতি স্পিনারের বলে শাহানুরের হাতে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ১৭ বলে ১৬ রান করেন তিনি।

দারুণ বোলিং করতে থাকা জোহাইবের তৃতীয় শিকার হন ওপেনার মেহেদি হাসান। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ বলে ৫৯ রান করে বিদায়  নেন তিনি। এরপরের ওভারে আসিফ আহমেদকেও ফিরিয়ে দেন জোহাইব। ৬ বলে ১ রান করে লেগ বিফোর হন আসিফ। স্বল্প পুঁজি নিয়েও জোহাইবের বোলিংয়ে ভর করে লড়ছিল প্রাইম দোলেশ্বর। ১৮৬ রান নিয়েও জয়ের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল তারা।

নাদিফ চৌধুরীকেও বড় স্কোর গড়তে দেননি জোহাইব। ২১ বলে ১২ রান করে নাদিফ ফিরেন দলীয় ১১১ রানের মাথায়। ইনিংসের প্রথম পাঁচ উইকেটের সবকটিই নেন জোহাইব। প্রাইম দোলেশ্বরের ক্ষীণ আশার বাতি নিভিয়ে দেয় ফাওয়াদ আলম আর জাকের আলির জুটি। ৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান দুজন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ বলে ৪৬ রানের এক সময়োপযোগী ইনিংস খেলে আউট হন ফাওয়াদ। ফাওয়াদের বিদায়ের পর নাঈম হাসানকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন জাকের আলি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : প্রাইম দোলেশ্বর ১৮৬/৯, ৫০ ওভার
ফজলে ৬৫, মার্শাল ২৮, ইমতিয়াজ ২৪
ফাওয়াদ ৩/৩৯, সুলতান ২/৩৩, মেহেদি ১/১৭

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৮৭/৬, ৩৮.৫ ওভার
মেহেদি ৫৯, ফাওয়াদ ৪৬, জাকের ৩১*
জোহাইব ৫/৩৪, ফরহাদ রেজা ১/১৭

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের সমলোচনায় ডালমিয়াকে আক্রমণ শ্রীলঙ্কার

Related Articles

শহীদের বোলিংয়ে বিধ্বস্ত গাজী গ্রুপ

জয়ের ছন্দ ধরে রেখেছে শেখ জামাল

রাজার ব্যাটে চড়ে গাজী গ্রুপের জয়

লো-স্কোরিং ম্যাচে মোহামেডানকে হারাল গাজী

চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শেখ জামালের বিশাল জয়