SCORE

Trending Now

‘আমরা প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই’

তরুণ ভারত দল এসে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে। লঙ্কানদের সাথে হেরেই নড়েচড়ে বসে তারা। টানা তিন ম্যাচ জিতে পা রাখে ফাইনালে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কোবরা’র ছোবলে নাস্তানাবুদ শ্রীলঙ্কা নিজ দেশের নিজ টুর্নামেন্টেই দর্শক।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মানসিকভাবে যে শেষ পর্যন্ত মনঃসংযোগ ধরে রাখতে পারবে তার দিকেই বেশি ঘুরবে গতিপথ। বাংলাদেশ যেখানে দলের অভিজ্ঞদের উপর ভরসা করছে সেদিকে ভারত ভরসা করছে দলের তরুণদের উপর। বাংলাদেশ দুই ম্যাচ জিতেছে তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উপর ভর করে। অন্যদিকে ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে একেকদিন একেকজন জ্বলে উঠলেও বল হাতে যুজবেন্দ্র চাহাল, শারদুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দর ছিলেন বেশ ধারাবাহিক।

Also Read - ম্যাচ প্রিভিউঃ নিদাহাস ট্রফি ফাইনাল

ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের স্তব্ধ করেই যারা ফাইনালে গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে এগিয়েছে অনেক পথও। তবে ‘দ্বিতীয় সারি’র দলের তকমা গাঁয়ে এঁটেও ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে হারলে প্রতিক্রিয়াটা একই রকম হবে বলে মনে করছেন উইকেটকিপার দীনেশ কার্তিক। ক্রিকেটীয় জাতি হিসেবে ভারত বাংলাদেশের মতো দলের কাছে হারবে- সেটা তারা মেনে নিতে পারেন না বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

‘একটা ক্রিকেটীয় জাতি হিসেবে ভারতের ব্যাপারটা পরিষ্কার করা উচিৎ- আমরা প্রথম সারি বা দ্বিতীয় সারি- যে দলই খেলাই, ব্যাপার একই থাকে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে যদি জিতি, তাহলে ব্যাপারটা এমন, “ওহ, বাংলাদেশের সঙ্গে জিতেছো, ঠিক আছে।” আর যদি হারি, তবে, “বাংলাদেশের সঙ্গে হেরে গেছো? করছো টা কী, বলো তো?” আমি নিশ্চিত, (ফাইনালেও) এমনই হবে’, ফাইনালের আগেরদিন বলেছেন কার্তিক।

অবশ্য যে দলই থাকুক, ভারত খেলতে চায় তাদের খেলাটাই, ‘রোহিত (শর্মা) আমাদেরকে প্রথমেই যে ব্যাপারটা বলেছে, যদিও আমাদের কিছু ক্রিকেটার নেই, তবুও আমরা গত এক বছর ধরে যেরকম ক্রিকেট খেলেছি, সেটাই খেলতে চাই। আমরা প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টটা বেশ সফল আমাদের জন্য, আমরা আর একটি ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছি। আমি নিশ্চিত, এটা খুবই ভাল একটা ম্যাচ হবে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজ, কিন্তু স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাই নেই ফাইনালে। গ্রুপপর্বেও ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচে দর্শকসারির বেশিরভাগই ছিল ফাঁকা, তবে কার্তিক চাইছেন দর্শক আসুক, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রচলন বেশ কিছুদিন ছিল না এ কারণেই। যখন স্বাগতিকরা খেলে না, দর্শক খুবই কম থাকে। তবে আপনাকে এসব মেনে নিতে হবে। ক্রিকেটারদের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে, এটা একটু অন্যরকম, কারণ আপনাকে ফাইনালে উঠতে হলে প্রতি ম্যাচেই একটা নির্দিষ্ট মানে খেলতে হবে। কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিকরা নেই, আমি নিশ্চিত না, কতো মানুষ আসবে। আমি মন থেকে চাই, ভাল পরিমাণ দর্শক আসুক।’

ভারত স্বাগতিক হিসেবে খেললে তাদের অনেক বড় প্রাপ্তি দর্শকরা, সীমিত ওভারে সবসময়ই গ্যালারি থাকে পরিপূর্ণ। দর্শকদের গুরুত্বপূর্ণই মনে করছেন তিনি, ‘দেখুন, আমার মনে হয়, উচ্চকিত দর্শক একটা বিশাল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ দর্শকের সঙ্গে মানিয়ে নিবেন, এটাই আপনাকে উদ্দীপিত করবে। ফিল্ডিংয়ে এটার প্রভাব ব্যাপক।’ 

দর্শকের এই ব্যাপারটার মতো আরেকটা বিষয়ও পরিষ্কার, রান-তাড়া। নিদাহাস ট্রফির এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচের ৫টিই জিতেছে পরে ব্যাটিং করা দল। রান-তাড়া নিয়ে কার্তিক ব্যাখ্যা করছেন এভাবে, ‘রান তাড়া করা সহজ নয়, তবে তুলনামূলকভাবে সহজতর। কিছুটা ‘ইঁদুর-বিড়াল’ দৌড়ের মতো। আপনাকে দেখতে হবে, কখন রান করতে পারেন, কার বিরুদ্ধে আপনার সুযোগ আছে। আমি উইকেট (ফাইনালের) সম্বন্ধে খুব বেশি জানি না, তবে শিশির পড়লে পরে ব্যাট করা দলের জন্য ব্যাপারটা একটু সহজ হয়ে যায়। আর শিশির না থাকলে এটা দারুণ একটা ম্যাচ হবে। উইকেট যদি ধীরগতির হয়, টার্ন থাকে, তাহলে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফাইনালে যে দল ভাল বোলিং করবে, তাদেরই জেতার সুযোগ বেশি।’ 

আরও পড়ুনঃ ম্যাচ প্রিভিউঃ নিদাহাস ট্রফি ফাইনাল

Related Articles

শেষ বল দেখেননি রোহিত!

কার্তিকের লক্ষ্যই ছিল প্রত্যেক বলে মারা