SCORE

Trending Now

ওয়ালশকেই প্রধান কোচ হিসেবে চান সুজন

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকেই টাইগারদের স্থায়ী প্রধান কোচ হিসেবে দেখতে চান বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের ম্যানেজার ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ভূমিকায় কাজ করা সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেট সংগঠকের মতে, হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধান কোচের যে খালি পদটি পড়ে রয়েছে, তা পূরণ করার সক্ষমতা রাখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক কিংবদন্তী পেসার ওয়ালশ।

ওয়ালশকেই প্রধান কোচ হিসেবে চান সুজন

সদ্য বিদায়ী সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলের অনুপস্থিতিতে নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের প্রধান কোচের ভূমিকায় ছিলেন এই কোর্টনি ওয়ালশই। যদিও সেটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। তার অধীনে দল দীর্ঘদিন পর প্রশংসিত পারফরমেন্স প্রদর্শন করে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ওয়ালশকে ‘দারুণ এবং সৎ মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সুজন জানান, নিদাহাস ট্রফিতে দলকে উজ্জীবিত রাখতে কার্যকর ছিলেন ওয়ালশ।

Also Read - অথচ এখনও এনসিএলের পারিশ্রমিকই পাননি ক্রিকেটাররা!

প্রধান কোচ নিয়োগ সম্পর্কে আলোচনায় সুজন বলেন, ‘আমি প্রেসক্রাইব করি ওয়ালশকে (প্রধান কোচ) করা যায়। তিনি দারুণ একজন মানুষ। তিনি খুব সৎ একজন মানুষও। দলকে শ্রীলঙ্কায় তিনি দারুণভাবে সমর্থন দিয়েছেন। উজ্জীবিত করেছেন। তার অভিজ্ঞতার তো কোন কথাই নেই, ৪০ বছর ক্রিকেটের সঙ্গে আছেন।’

ওয়ালশের অভিজ্ঞতার বিচারে তাকে সুজন আখ্যা দিচ্ছেন ‘বাবা’র মতো চরিত্র হিসেবে। তিনি বলেন, ‘ওয়ালশ দারুণ অভিজ্ঞ। বাবার মতো ফিগার। সবচেয়ে বড় কথা দলের সবাই তাকে খুব পছন্দ করে। সব মিলিয়ে আমার মনে শেষ সিরিজে তিনি দুর্দান্ত ছিলেন।’

কোচ হিসেবে ভালো ক্রিকেট জ্ঞানের পাশাপাশি ভালো মানুষের প্রয়োজনীয়তাও জানালেন সুজন, ‘একজন প্রপার কোচ আমাদের দরকার। কোচ মানুষ হিসেবে কেমন সেটাও দেখার আছে। আমাদের কোচও দরকার, ভালো মানুষও দরকার। আমাদের ছেলেরা আবেগপ্রবণ। এইগুলা সব চিন্তা করে কোচ নির্বাচন করা দরকার।’

২০১৮ সালের শুরুটায় বেশ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরও পুরোটাই যাবে ব্যস্ততায়। ক্রিকেটীয় সূচিতে ফাঁকা স্থান বলতে আগামী মাসদুয়েক। নিদাহাস ট্রফি শেষে দেশে ফেরা দলের একটা বড় বিরতি ভীষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুজন, ‘আমি মনে করি একটা ব্রেক খুব দরকার হয়ে গেছে সত্যি কথা বলতে। আপনি যদি দেখেন আফগানিস্তানের পর পরই আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাব, এসে এশিয়া কাপ, তারপর অস্ট্রেলিয়া। তারপরে বিপিএল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে আসবে। মানে কোন ফাঁকা নাই কিন্তু।’

টানা ক্রিকেটের ধকল সামলাতে গিয়ে ক্রিকেটারদের ইনজুরির শিকার হওয়ারও ভয় থাকে। সুজন মনে করিয়ে দিলেন সেই কথাও।

তিনি বলেন, ‘কিছু প্লেয়ার ইনজুরড হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ কিন্তু এত ঘন ঘন ম্যাচ খেলে না, সামনে দুই বছরে যা খেলবে। সুতরাং ইনজুরি আর অফ ফর্মে যাওয়ার চান্সও থাকবে।

আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার পাশাপাশি এই আসরকে সামনে রেখে স্ট্যান্ডবাই স্কোয়াড রাখার পক্ষে সুজন, ‘অনেকগুলো প্লেয়ারকে স্ট্যান্ডবাই রাখতে হবে। দুইটা দল রেডি রাখতে হবে। কারণ ইনজুরি একটা ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

তবে বিশ্রাম নিতে গিয়ে খেলোয়াড়দের ফিটনেস যেন আবার নষ্ট না হয়ে বসে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটারের। তার ভাষ্য, ‘আমরা চাই তারা বিশ্রাম নিক। কিন্তু সেটা একটিভ রেস্ট।’

নিজের কথার ব্যাখ্যায় সুজন বলেন, ‘ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার তো, কাজেই ওইরকম না যে শুয়ে বসে কাটাবে। কোনো দিন দৌঁড়াবে, কোনো দিন জিমে আসবে।’

এদিকে নিদাহাস ট্রফি শেষ হলেও এখনও যেন থামেনি আসরের তিন দলের সমর্থকদের কথার লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ক্রিকেট কমিউনিটিগুলো এখনও সরগরম নিজেদের মধ্যে বিতর্কে। তবে মাঠের খেলায় সবই আছে ইতিবাচক! এমনকি শেষ বলে পরাজিত হওয়া ফাইনাল ম্যাচ শেষে ভারতের হাই প্রোফাইল কোচ রবি শাস্ত্রী অভিনন্দনও জানান সুজনকে।

এটি জানিয়ে সুজন বলেন, ‘ম্যাচশেষে রবি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই সময়ে (ফাইনালের আগের ম্যাচে) আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এছাড়াও বাংলাদেশের এমন লড়াইয়ে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়ের পথেই ছিলাম। ভাগ্যটাই পাইনি।’

আরও পড়ুনঃ বিসিবির চিন্তায় অধারাবাহিক তরুণরা

Related Articles

যে কারণে ওয়ালশকে হেড কোচ করা নয়

মে মাসে আসছে নতুন কোচ

লঙ্কান দর্শকরা ভুল বুঝেছিল বাংলাদেশকে!

মুস্তাফিজের ফিটনেসে দৃষ্টি রাখার নির্দেশ ওয়ালশের

কম টেস্ট খেলা নিয়ে ওয়ালশের হতাশা