SCORE

সর্বশেষ

পেসারদের জন্য বিসিবির সুখবর

অনেকদিন থেকে স্পোর্টিং উইকেটের গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা মিলছিল না ঘরোয়া ক্রিকেটে। তবে এবার উঠেপড়ে লেগেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর নয় ফ্ল্যাট উইকেট, এখন থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে শীঘ্রই মিলবে স্পোর্টিং উইকেট। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির এমন তোড়জোড় বাড়তি সুখবর হয়ে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য।

হিথ স্ট্রিক বিদায়ের পর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় উইন্ডিজ লিজেন্ড কোর্টনি ওয়ালশকে। স্ট্রিকের অধীনে বাংলাদেশের পেসাররা সাফল্য পেলেও ওয়ালশের অধীনে ব্যর্থ পেসাররা। সর্বশেষ ঘরের মাঠেও ব্যর্থ হয়েছে পেসাররা। বোলাররা ব্যর্থ হওয়াতে অনেকেই আঙুল তুলছেন ওয়ালশের দিকে। তবে একা কোচকে দায়ি করাটা হবে যে বড্ড বোকামি। নেট অনুশীলনে ৫৫ বছর বয়সী ওয়ালশের বল মোকাবিলা করতেই ঘাম ঝরাতে হয় ব্যাটসম্যানদের এমনটা জানিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? পেসারদের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বোলারদের নিয়ে স্পেশাল ক্যাম্প শুরু করেছে বোলিং কোচ ওয়ালশ। সেই ক্যাম্পে রয়েছে দল থেকে বাদ পড়া তাসকিন আহমেদ, তরুণ রাহি, রনি, কাজী অনিকদের মতো বোলাররা। নিজেদের ব্যর্থতার জন্য কোচকে দায়ি করতে চাননা তাসকিন। বরং সমস্যাগুলো খুঁজে দ্রুতই সমাধান নেওয়ার কথা জানান এই স্পিডস্টার। সেই সাথে নিজেদের আরো পরিশ্রম করতে হবে জানান তিনি। “কোচকে দোষ দেওয়াটা বোকামি। তারা আমাদের সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক উপদেশই দেন এবং দলের পরিকল্পনা গুলোও সঠিকভাবে দেন। যদি কোন কিছুর সমস্যা হয়, সেটি বোলারদের কমতি। এটা অবশ্যই কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা খুঁজে বের করতে হবে।” কোচ, শীর্ষদের ক্ষেত্রে অনেকসময় বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভাষা বুঝতে না পারা। ওয়ালশ উইন্ডিজের হওয়াতে বাংলাদেশের পেসাররা তাঁর কথা, উপদেশগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারাটা বড় ফ্যাক্টর। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না তাসকিন। তাঁর মতে মাঠে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারাটাই বড় সমস্যা। কোচের ভাষা বুঝতে না পারলে সেটি অনুবাদ করে দেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। সেই সাথে এই ক্যাম্পে কোচ ওয়ালশ থেকে পেসাররা ইয়র্কার, স্লোয়ার নিয়ে কাজ করবেন পেসাররা। “না, এটা কোন সমস্যা নয়। উনি কি বলেন সেটা বুঝতে পারি আমি এবং আমার মনে হয় অনেক ক্রিকেটারই বুঝে উনার ভাষা। যাদের বুঝতে সমস্যা হয়, সিনিয়র ক্রিকেটাররা অনুবাদ করে দেন সেটির। আমার কাছে এটি বড় সমস্যা মনে হয় না, সঠিকভাবে মাঠে বাস্তবায়ন করাটাই বড় সমস্যা আমার মতে।” তিনি আরও যোগ করেন, “গত চার বছর আমি দলের সঙ্গে রয়েছি। অনেক কিছুর অভিজ্ঞতাও হয়েছে। এই চার বছরে বুঝতে পেরেছি, বাস্তবায়ন করাটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার। যদি আমি ঠিকঠাক বাস্তবায়ন না করতে পারি তাহলে কোন প্ল্যানই কাজে আসবেনা। যারা ক্যাম্পে রয়েছে তাঁরা , স্লোয়ার, ইয়র্কার, লেন্থ-বলে নিয়ে বেশি কাজ করছে।”

পেসারদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে বিসিবি বেশ কয়েকটি মাঠে স্পোর্টিং উইকেট তৈরির কাজ হাতে নিতে চলেছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

Also Read - "অসাধারণ…এতটা ভালো যে বলে বোঝানোর নয়।"

সোমবার হোম ক্রিকেটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানান তিনি। একপেশে খেলা থেকে বের হয়ে আসতে এরই মধ্যে কয়েকটা ভেন্যু চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করেছি ট্রু উইকেট করার। আমরা কয়েকটা ভেন্যুকে নির্বাচন করেছি, যেখানে ট্রু উইকেটগুলো করা হবে। জাতীয় লিগ যেখানে হচ্ছে তখন কিন্তু একপেশে খেলা হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা প্রাধান্য বিস্তার করছে বোলারদের থেকে বেশি। দেখা যায় তিন-চারজন করে সেঞ্চুরি করছে। এক প্রকার ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হয়। আমরা চাচ্ছি বোলারদের যেন সুবিধা থাকে সে ধরনের উইকেট। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের জন্য।’

এদিকে বিসিবির পছন্দ অনুযায়ী উইকেট বানাতে উড়িয়ে আনা হচ্ছে একাধিক বিদেশি কিউরেটর। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে নাগপুরের কিউরেটর প্রবীণ হিংনিকারকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। খুব শীঘ্রই দায়িত্ব বুঝে নিতে বাংলাদেশ সফরে এ কিউরেটর আসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও বিদেশি কিউরেটর নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমাদের স্থানীয় কিউরেটর যারা ছিল তারা অবশ্যই ভালো করছিল। বিদেশি কিউরেটরের সাথে কাজ করলে আমি মনে করি আমাদের কিউরেটর-জ্ঞান আরো বাড়বে। এর মানে এই না যে আমাদের স্থানীয় কিউরেটররা কিছু পারে না। তারা তাদের সাথে কাজ করবে। এই প্যানেল একটা টিম হয়ে কাজ করবে। গামিনি, স্থানীয় কিউরেটর এবং যারা আসছে সবাই একটা প্যানেলের হয়ে কাজ করবে।’

 


আরও পড়ুনঃ মুস্তাফিজকে ম্যাককালামদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা

 

 

Related Articles

সাদা ও লাল বলের জন্য পৃথক কোচ!

যে কারণে ওয়ালশকে হেড কোচ করা নয়

ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম আসছে বিপিএলেও

আধুনিক প্রযুক্তি থাকছে পরবর্তী বিপিএলে!

মাশরাফিকে অনুসরণ করলেই সাফল্য!