SCORE

সর্বশেষ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বিপাকে অস্ট্রেলিয়া

জোহানেসবার্গে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে ধুঁকছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে বড় পুঁজি গড়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন ধসিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। দিনশেষে প্রোটিয়াদের চেয়ে ৩৭৮ রানে পিছিয়ে আছে অজিরা।

৬ উইকেটে ৩১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। টেম্বা বাভুমা এবং কুইন্টন ডি কক মিলে ব্যাটিংয়ে সকালটা ভালোই কাটান। চতুর্থ দিন বিকেলে দ্রুত উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ধাক্কা খেলেও এ জুটিতে তা সামাল দিতে থাকে তারা। সপ্তম উইকেট জুটিতে ৮৫ রান যোগ করেন ডি কক এবং টেম্বা বাভুমা। দ্বিতীয় দিন এ জুটি ভাঙে স্কোরবোর্ডে ৭১ রান তোলার পর।

ডি কক এবং ফিলান্ডারের জুটি ভাঙেন স্পিনার নাথান লিয়ন। ৪ চারের সাহায্যে ৭৪ বলে ৩৯ রান করে ডি কক ক্যাচ দেন মিচেল মার্শের হাতে। এরপর ভার্নন ফিলান্ডারকেও ফেরান লিয়ন। ৩৫ বলে ১২ রান করে নাথান লিয়নের বলে ক্যাচ দেন উসমান খাজাকে। নবম উইকেটে টেম্বা বাভুমাকে দারুণ সঙ্গ দেন কেশব মহারাজ। তাদের ৭৬ রানের জুটিতে শক্ত অবস্থানে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ৫১ বলে ৪৫ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন কেশব মহারাজ। দলীয় ৪৮৮ রানের মাথায় প্যাট কামিন্সের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মহারাজ। পরের বলে মরনে মরকেলকেও সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ইতি টানেন কামিন্স।

প্রথম দিন বিকেলে দ্রুত উইকেট হারিয়ে দল যখন গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তখন হাল ধরেছেন টেম্বা বাভুমা। কুইন্টন ডি কক আর কেশব মহারাজের সাথে তার গড়া দুইটি বড় জুটিতেই শক্ত অবস্থানে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দুর্দান্ত ব্যাটিং করা বাভুমা শতকের জন্য আফসোস করতেই পারেন। সঙ্গীর অভাবে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকানো হলো না তার। শতক থেকে ছিলেন মাত্র পাঁচ রান দূরে। ১৩ চারের সাহায্যে ১৯৪ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

Also Read - অস্ট্রেলিয়ার কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করেন অজি পেসার প্যাট কামিন্স। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করলেন প্যাট কামিন্স। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার নাথান লিয়ন তিনটি এবং অভিষিক্ত বোলার চাড সেয়ার্স পেয়েছেন দুই উইকেট।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। চতুর্থ ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। দলীয় ১০ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার জো বার্নস। ৪ রান করে কাগিসো রাবাদার শিকার হন তিনি। এরপর ওপেনার ম্যাট রেনশ আর উসমান খাজা মিলে যোগ করেন মাত্র ২৪ রান। রেনশ ৩২ বল ক্রিজে টিকে রান করেছেন ৮। ভার্নন ফিলান্ডারের বলে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন এ ওপেনার।

নিজের পরের ওভারে আবারো আঘাত হানেন ফিলান্ডার। ইনিংসের এগারোতম ওভারের শেষ বলে পেয়েছিলেন রেনশ’র উইকেট। ত্রয়োদশ ওভারের প্রথম বলে পান পিটার হ্যান্ডসকম্বের (০) উইকেট। নিজের ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। ৩৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উসমান খাজা এবং শন মার্শ। দুজন মিলে যোগ করেন ৫২ রান। তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন ফিলান্ডার। উসমান খাজাকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন ফিলান্ডার। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২ তম অর্ধশতক হাঁকান খাজা। কিন্তু অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি উসমান খাজা। ৫৩ রান করে ফিরে যান তিনি।

থিতু হতে পারেননি মিচেল মার্শ। ১০ বলে ৪ রান করে মরনে মরকেলের বলে বোল্ড হন তিনি। পরের ওভারে শন মার্শও ফিরে যান সাজঘরে। ৭৪ বলে ১৬ রান করে কেশব মহারাজের শিকার হন শন মার্শ। বাকি তিন ওভারে আর উইকেট পড়তে দেননি অধিনায়ক টিম পেইন এবং প্যাট কামিন্স।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোড়বোর্ডে মাত্র ১১০ রান।  আর তা করতেই তারা উইকেট হারিয়েছে ছয়টি। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ফলোঅনের চোখ রাঙানি। ফলোঅন এড়াতে তাদের রান করতে হবে আরো ১৭৯। চার উইকেট হাতে নিয়ে এ রান করা দুরূহ বটে। জোহানেসবার্গ টেস্টে এখন প্রোটিয়াদের চালকের আসনে বলাই যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিনশেষে) :  দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৮৮/১০, ১৩৬.৫ ওভার (প্রথম ইনিংস)
মারক্রাম ১৫২, বাভুমা ৯৫*, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৬৯, মহারাজ ৪৫
প্যাট কামিন্স ৫/৮৩, লিয়ন ৩/১৮২, চাড সেয়ার্স ২/৭৮

অস্ট্রেলিয়া ১১০/৬, ৩৮ ওভার (প্রথম ইনিংস)
উসমান খাজা ৫৩, শন মার্শ ১৬, রেনশ ৮, প্যাট কামিন্স ৭*
ফিলান্ডার ৩/১৭, মরকেল ১/২৪, রাবাদা ১/২৩, মহারাজ ১/৩৫


আরো পড়ুন : আইপিএলের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন মুস্তাফিজ 


 

Related Articles

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ইংলিশদের সিরিজ জয়

ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড

ছিটকে গেলেন ওকস এবং স্টোকস

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবনমন

ক্রীড়াঙ্গনে অস্ট্রেলিয়ার দুঃস্বপ্নের এক দিন