ব্যানক্রফটের কম শাস্তিতে আপত্তি হরভজনের

কেপটাউন টেস্টে সবকিছু ছাপিয়ে ‘বল টেম্পারিং’ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালীন বল টেম্পারিং করেন অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডার ক্যামেরুন ব্যানক্রফট। পকেট থেকে হলুদ জাতীয় বস্ত দিয়ে বল বিকৃতি করার চেষ্টা করেন। অবশ্য বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই নজরে আসে ক্যামেরাম্যানের।

বল টেম্পারিংয়ের দৃশ্যটি ফুটে উঠে টিভি স্ক্রিনে। বিষয়টি নজরে আসার পর ড্রেসিং রুম থেকে ডাগ আউটে বসা এক ক্রিকেটারকে বস্তটি নজরে এসেছে জানান অজি কোচ ড্যারেন লেহম্যান। নিজেদের এমন ঘটনার কথা সংবাদ সম্মেলনে অকপটেই স্বীকার করেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও ব্যানক্রফট।

Also Read - আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন স্মিথ-ওয়ার্নার!

স্বীকারের পর আইসিসির পক্ষ থেকে শাস্তিও পেতে হয় এই দুই ক্রিকেটারকে। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ম্যাচ ফি’র শতভাগ জরিমানা করা হয়ে স্মিথকে এবং ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ ও তিন ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন ব্যানক্রফট। বল টেম্পারিংয়ের ফুটেজ সাথে সাথেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এতেই শুরু হয় সমলোচনার ঝড়। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব মেতে রয়েছে স্মিথদের সমালোচনায়। অনেকেই বলছেন শাস্তির পরিমাণ কম হয়েছে দুই ক্রিকেটারের। তেমনি ব্যানক্রফটের শাস্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ভারতের স্পিনার হরভজন সিং। আইসিসির দেওয়া শাস্তির পরিমাণ দেখে স্মৃতিচারণ করলেন ২০০১ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ঘটনা।

সেবার বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছিলো শচীন টেন্ডুলকারের উপর। সেই সাথে তার সঙ্গে যুক্ত থাকা আরও পাঁচ ক্রিকেটারকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা গুনতে হয়েছিলো। অবশ্য আইসিসি পরে নির্দোষ বলে ঘোষণা দিয়েছিলো শচীনকে। তাই ব্যানক্রফটের এত কম শাস্তি মেনে নিতে পারেননি ভারতের এই স্পিনার।

‘চমৎকার আইসিসি। সব ধরণের প্রমাণ থাকার সত্ত্বেও নিষিদ্ধ করা হয়নি ব্যানক্রফটকে! ২০০১ সালে আমাদের ছয় ক্রিকেটারের উপর অভিযোগ উঠাতেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে সিডনির ঘটনা মনে আছে? কোন প্রমাণ ছাড়াই তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়েছিল। ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন নিয়ম!’

এইদিকে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নেওয়ায় বাহবা দিচ্ছেন আরেক ভারতীয় নেহরা। তার মতে এই ধরণের ঘটনার পর সত্যি বলার সাহস খুব কম ক্রিকেটারেরই থাকে।

আরও পড়ুনঃ আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন স্মিথ!