SCORE

সর্বশেষ

রেকর্ড গড়ে আবাহনীর জয়

সুপার সিক্সের লড়াইয়ে টেবিলের এক নম্বর দল হিসেবেই উঠেছে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের হট ফেভারিট ঢাকা আবাহনী। ৩৯৩ রানের পাহাড় গড়ে বৃষ্টি আইনে ২০ রানে দোলেশ্বরকে হারিয়েছে তারা।

আবাহনীকে রেকর্ডের স্বাদ দিলেন বিজয়-শান্ত
এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: ইন্টারনেট

 

টস জিতে সাভারে নিজেদের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট তুলে দেন আবাহনী কাপ্তান নাসির হোসেন। ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের আলোটা কেড়ে নিয়েছেন এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এর আগেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন এনামুল। শেখ জামালের বিপক্ষে ১২২ বলে খেলেছিলেন ১১৬ রানের ইনিংস। আজ অবশ্য বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন বেশি। ৬ ছক্কা আর ৭ চারে ১২২ বলে ১২৮ রান করেছেন এ ওপেনার।

Also Read - টেম্পারিং এবং নিদাহাস ট্রফির ঘটনায় আইসিসির উদ্বেগ

এনামুলের মতো নাজমুলও এবার লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। অবশ্য এনামুলের তুলনায় নাজমুলের ব্যাট ছিল আরও ক্ষুরধার। ২ ছক্কা ও ১২ চারে ১০৬ বলে ১২১ রান করেছেন নাজমুল। দুজনে মিলে প্রিমিয়ার লিগে এবারের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন। ৩৬.৩ ওভারে এনামুল যখন রানআউটের ফাঁদে পড়েন, আবাহনীর স্কোর তখন ২৩৬।

দলীয় ৩০০ রানের সময় নাজমুল হোসান শান্ত’র উইকেট ভাঙ্গেন সালাউদ্দিন শাকিল। এরপর সে রানটা প্রায় ৪০০ ছুঁই ছুঁই বানিয়েছেন বিহারি ও মিঠুন। ভারতীয় ব্যাটসম্যান হানুমা বিহারি করেন ঝড়ো ৩৬ বলে ৬৬ রান ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ৪৭ রানের অসাধারণ এক ক্যামিও। আর তাতেই লিস্ট ‘এ’তে বাংলাদেশের কোন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে আবাহনী। ইনিংস থামে ৪ উইকেটে ৩৯৩ রানে।

এর আগের রেকর্ডটিও ছিল আবাহনীর। ২০১৬ সালে মোহামেডানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৭১ রান তুলেছিল আবাহনী। চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরও আবাহনীর দখলে। গত বছর এই মোহামেডানের বিপক্ষেই ৫ উইকেটে ৩৬৬ রান তুলেছিল দলটি।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান
১. আবাহনী ৩৯৩/৪, প্রতিপক্ষ প্রাইম দোলেশ্বর

২. আবাহনী ৩৭১/৫, প্রতিপক্ষ মোহামেডান

৩. আবাহনী ৩৬৬/৫, প্রতিপক্ষ মোহামেডান

৪. লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৩৫৭/৬, প্রতিপক্ষ ওল্ডডিওএইচ

৫. প্রাইম ব্যাংক ৩৫৩/৩, প্রতিপক্ষ কলাবাগান

ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয় নি দোলেশ্বর এর। দ্রুত দুইকেট হারিয়ে বসে তারা। ১২ ও ১৪ রান করে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন যথাক্রমে ইমতিয়াজ হোসেন ও লিটন দাস। এরপর শুরু হয় ফজলে মাহমুদ ও মার্শাল আইয়ুব শো।

৩০ ওভার শেষেও দোলেশ্বরের স্কোর ২ উইকেটে ২১৭। উইকেটে মার্শাল আইয়ুব ছিলেন ৭৪ বলে ৯৪ ও ফজলে মাহমুদ ৭৭ বলে ৯১ রান নিয়ে। বাকি ২০ ওভারে ১৭৭ রানের লক্ষ্যটা এমন আহামরি কিছু ছিল না তাদের দুইজনের জন্য। মার্শাল আইয়ুব আর মাহমুদের বারুদ-ব্যাটিংয়ে সেরকম ইঙ্গিতই ছিল। কিন্তু এমন সময় বৃষ্টি নেমে দুজনের ব্যাটের সব বারুদ ভিজিয়ে দিল!

কথাটা একেবারে মিথ্যে নয়। বৃষ্টি নামার আগে ৩ ছক্কা আর ৯ বাউন্ডারি মারেন মার্শাল, ৪ ছক্কা ও ৯ বাউন্ডারি এসেছে মাহমুদের ব্যাট থেকে। বৃষ্টি থামার পর খেলা পুনরায় শুরু হলে ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে দোলেশ্বরের সামনে লক্ষ্য দেওয়া হয় ৩৫ ওভারে ২৭৮। অর্থাৎ ৩০ বলে ৬১ রানের লক্ষ্য। আশ্চর্য হলেও সত্যি, মার্শাল (১০৮)ও মাহমুদ (১০০) এরপর সেঞ্চুরি তুলে নিলেও কোনো চার-ছক্কা মারতে পারেননি! এমনকি আবারও বৃষ্টি নামায় ৩৪.১ ওভারে ২৬৪ রানের লক্ষ্য নিয়েও দোলেশ্বরের কোনো ব্যাটসম্যান চার-ছক্কা মারতে পারেননি! ৩৪.১ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৪ রানে থেমেছে দোলেশ্বর। ডি/এল পদ্ধতিতে ২০ রানের জয় তুলে নেয় আবাহনী।

স্কোরঃ

আবাহনীঃ  ৩৯৩/৪ ( ৫০ ওভার )

এনামুল হক ১২৮ , নাজমুল ১২১, বিহারি ৬৬, মিথুন ৪৭

সালাউদ্দিন ২/৮১

দোলেশ্বরঃ ২৪৪/৩  (৩৪.১ ওভার)

মার্শাল আইয়ুব ১০৮, ফজলে মাহমুদ ১০০

তাসকিন ৩/৬২

ফলাফলঃ আবাহনী ২০ রানে জয়ী (বৃষ্টি আইন)

ম্যান অফ দ্য ম্যাচঃ এনামুল হক

 

আরো পড়ুনঃ

জয়ের ছন্দ ধরে রেখেছে শেখ জামাল

Related Articles

‘খারাপ করছি দেখেই বেশি চোখে পড়ছে’

মাশরাফির ‘অন্যতম স্মরণীয় ও সেরা’ ডিপিএল

দাপুটে জয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার আবাহনীর

নাসির, শান্ত তাণ্ডবের পর মাশরাফি ঝড়

নাসির, শান্ত’র জোড়া শতক