SCORE

সর্বশেষ

শ্রীলঙ্কা— যেন ক্রিকেটের বার্সেলোনা!

শিরোনাম দেখে পাঠক ভড়কে যেতে পারেন! বার্সেলোনা মূলত স্পেনের একটি শহর, যা বিখ্যাত স্প্যানিশ লা লিগায় তাদের ফুটবল দলের জন্য। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সেটি দেশটির ক্রিকেট দল। একটা ঘরোয়া ফুটবল দলের সাথে কীভাবে একাকার হয়ে গেল একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দল? খোলাসা করেই বলা যাক।

শ্রীলঙ্কা— যেন ক্রিকেটের বার্সেলোনা!

ফুটবলে দিনদিন বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার বর্তমান কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দে সেই প্রযুক্তিকে আপন করে নিয়েছেন দু’হাতে জড়িয়ে। খেলোয়াড়দের দৌড়ের গতি, ফিটনেস, স্বাস্থ্যের অবস্থা, গোলসংখ্যা সবই এখন জেনে নেওয়া সম্ভব সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে। এতে যেমনি কমছে কোচের খাটুনি, তেমনি বাড়ছে খেলোয়াড়ের মান বাছাইয়ের কার্যকারিতাও।

Also Read - শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব

বার্সেলোনার সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটেও এমন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে বছরখানেক ধরে! ইংল্যান্ডের সাবেক কাউন্টি ক্রিকেটার সাইমন উইলসের তত্ত্বাবধানে চলছে সেটি দ্বীপদেশটির ক্রিকেট উন্নয়নে।

দেশটির সিনামন গার্ডেনস রোডে অবস্থিত এসএলসি (‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট’, দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা) কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ঐ সফটওয়্যার, যা বিচক্ষণ একাধিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পুরো দেশের ক্রিকেটারদের যাবতীয় তথ্য জমা রাখা আছে ঐ সফটওয়্যারে। কোচ বা ট্রেনার চাইলেই তার চাহিদা অনুসারে নির্ধারিত ক্যাটাগরির বোলার, ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডার খুঁজে নিতে পারেন ঐ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। এমনকি কোচ খেলোয়াড়ের ফিটনেস কেমন, কতক্ষণ অনুশীলন করেছেন, কতটুকু দৌড়েছেন কিংবা কতক্ষণ বিশ্রাম প্রয়োজন সবই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয় ঐ সফটওয়্যার।

এই অদ্ভুত কিন্তু কার্যকরী প্রযুক্তিকে বার্সেলোনা থেকে সুদূর শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন যিনি, সেই উইলস বলেন, ‘একেকজন ক্রিকেটারের ঘাড়ের কাছে আমরা একটা সেন্সর লাগিয়ে দিয়েছি, যেটাকে বলা যায় যান্ত্রিক ছারপোকা। সেই যন্ত্র থেকেই আমরা একজন খেলোয়াড় মাঠে কতটা দৌড়াল, তার সর্বোচ্চ গতি কত, তার হৃৎস্পন্দন কত ছিল, দেহের তাপমাত্রা কত ছিল, কখন সে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করেছে, কতটা অনুশীলন করেছে আর কতটা বিশ্রাম দরকার দেহের; সব বের করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অজুহাত না দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই। কোচ জানবেন কোন খেলোয়াড়টির সামর্থ্য কেমন, নির্বাচকরা দেখবেন কার পারফরম্যান্স কেমন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে।’

শ্রীলঙ্কার বর্তমান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অবশ্য যন্ত্রের ধার ধারেন বলে মনে হওয়ার সুযোগ কম। বাংলাদশের কোচ থাকাকালে দৃষ্টিকটুভাবে প্রভাব খাটানো কোচ কি আর শুনবেন প্রযুক্তির কথা! গুঞ্জন তো এমনই ছিল- ড্রেসিংরুমে, মাঠে কিংবা অনুশীলনে হাথুরুসিংহের কথাই শেষ কথা। তবে উইলস জানালেন, খুব একটা না দেখলেও মাঝেমাঝে যন্ত্রের সহায়তা নেন হাথুরুসিংহে।

তার ভাষ্য, ‘একদমই যে দেখেন না সেটাও নয়, আবার সব সময় যে দেখেন, তাও নয়। ধরাবাঁধা কিছু নেই।’

সাইমন উইলস ছিলেন বব উলমারের শিষ্য, যিনি ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। সেই উলমারই প্রথম প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আসেন ক্রিকেটে। সেই সময় অনেকে তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করলেও এখন অনেকেই হাঁটছেন তার দেখানো পথে।

উইলস আরও জানান, কদিন আগে লঙ্কানদের খুঁজে বের করা তরুণ বোলার দাশুন মাদুশাঙ্কাও বের হয়ে এসেছেন এভাবে! ‘হাথুরু আমাদের কাছে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারে এমন বোলারের তালিকা চেয়ে পাঠান। আমরাও ডাটা বেইজ খুঁজে ২০-২২ জনের একটা তালিকা তাকে পাঠাই। তাদের তিনি বোলিং করার জন্য নেটে ডাকেন, বোলিং পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত মাদুশাঙ্কাকে জাতীয় দলের জন্য বেছে নেন। ব্যাপারটা এভাবে কাজ করে।’– বলেন উইলস।

প্রযুক্তির কাজের ধরণ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে উইলস আরও বলেন, ‘ধরুন কোচ এখন একজন লেট মিডল অর্ডার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান চাইছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১০০-এর ওপরে। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কম্পিউটারে পর্যালোচনা করে সেই সব ব্যাটসম্যানের নাম কোচ ও নির্বাচকদের কাছে পাঠিয়ে দেব।’

আরও পড়ুনঃ ‘অনেক কিছু করে ফেলেছি- এমন নয়’

Related Articles

কারস্টেন ব্যর্থ হলেও প্রস্তুত আছেন কোচ!

পরামর্শকই কারস্টেনের ভূমিকা

আজ রাতে বাংলাদেশে আসছেন কারস্টেন

শ্রীলঙ্কান কোচিং স্টাফে ভাঙনের সুর!

বোর্ড চাইলে প্রধান কোচ হবেন ওয়ালশ