SCORE

সর্বশেষ

কোচ নিয়োগে বুলবুল-সারোয়ারদের বিবেচনা আর কবে?

সেই কবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব ছেঁড়ে গেলেন, তারপর কেটে গেছে প্রায় সাত মাস। তারপরও হচ্ছেহবে করেও আজ অবধি বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ সম্ভব হয়নি। বিসিবি বলছে চলতি মাসেই কোচ নিয়োগ হবে। মূলত বিদেশি নামী কোচের সন্ধান করছে বিসিবি। কিন্তু এই কোচ খোঁজার কোন পর্যায়ে দেশীয় ভাল কোচদের নিয়ে কোন আগ্রহ প্রকাশ করছে না বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। আমাদের আছে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সারোয়ার ইমরানদের মতো অভিজ্ঞ কোচ। কিন্তু তাদের বিবেচনায় আনার কোন পরিকল্পনা কি বিসিবির আছে?

কোচ নিয়োগে বুলবুল-সারোয়ারদের বিবেচনা আর কবে?

কোচহীন অবস্থায় মূল পরিকল্পনা কখনোই পূর্ণ হয়না সেটা গত কয়েক ম্যাচেই পরিষ্কার হয়েছে। প্রধান কোচ আগেই গেছেন, পরে গেলেন সহকারী কোচ হ্যালসলও। তারও আগে ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাভিরাকেও বিদায় জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে সামাল দিচ্ছেন কোর্টনি ওয়ালশ। নিদাহাস ট্রফির আগেই চাকরি ছেঁড়ে গেছেন তিনি। মাঝে ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর’র মোড়কে খালেদ মাহমুদ জানুয়ারিফেব্রুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট, টিটোয়েন্টি সিরিজে দায়িত্ব নিয়েও ছিলেন ব্যর্থ। এরপর কোচবিহীন অবস্থায় নিদাহাস ট্রফিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। যদিও বিসিবি বলেছিল নিদাহাস ট্রফির পরই নতুন কোচ পাবে টাইগাররা। কিন্তু এখন বলছে চলতি মাসের কথা। বিসিবি প্রধানের কোচ নিয়ে বলা কথায় একটা ফাঁক রয়ে গেছে যা অনেকের নজর এড়িয়ে গেছে হয়তো। সেটা হলো আমার ধারণা, এপ্রিলের মধ্যেই এটা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর মধ্যে না হলে বুঝতে হবে আমরা হয়তো এই মুহূর্তে নেবই না।এই যে, এর মধ্যে না হলে বুঝতে হবে আমরা হয়তো এই মুহূর্তে নেবই না, এই কথায় কিছুটা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। যদি না হয় তাহলে কি হবে?

Also Read - স্মিথ-ওয়ার্নারদের সাজা কমানোর অনুরোধ

সামনে টাইগারদের ব্যস্ত ক্রিকেট সূচি। ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ, তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। তারপর আছে আরও বেশকিছু বিদেশ সফর, সবশেষে আগামী বছর আসছে বিশ্বকাপ। সব দলেরই এখন দল গোছানোর কাজ শেষ। শুধু বাংলাদেশের এই অবস্থা। এর আগে প্রধান কোচের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট ফিল সিমন্স আর বাংলাদেশের সাবেক কোচ রিচার্ড পাইবাসকে নিয়োগ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা হয়নি। এখন তারা যুক্ত হয়েছেন আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডে। বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার জিওফ মার্শের। তিনিও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে আসেন নি। বিপিএলের সময় রংপুর রাইডার্সের কোচ টম মুডি এবং বাংলাদেশ দলের সাবেক দুই কোচ জেমি সিডন্স ও স্টুয়ার্ট ল’কেও প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। কাজ হয়নি। ওদিকে ইংলিশ কোচ পল ফারব্রেসকে নিয়েও আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তিনিও না করে দিয়েছেন। সবশেষে শোনা গেল, দলীয় পরামর্শক হিসেবে গ্যারি কারস্টেনকে চায় ক্রিকেট বোর্ড। তবে তিনিও আইপিএলে কোচিং করাচ্ছেন। তাই এখনও তার বিষয়টা নিশ্চিত নয়। আর তাকে পূর্ণ মেয়াদে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এছাড়া ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে প্রোটিয়া নিল ম্যাকেঞ্জিকে চায় বিসিবি। এই বিষয়টাও ঝুলে আছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

দীর্ঘ মেয়াদে কোচবিহীন থাকা কোন দলের জন্যই ভাল নয়। বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটের উদীয়মান ক্রিকেট শক্তির জন্য সেই প্রয়োজন আরও বেশী। বাইরের নামী কোচদের নিয়ে যে হারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, আর তাতে যে ফল মিলছে, মনে হয়না বড় কোন নাম বাংলাদেশ দলের সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে। কারণ, অধিকাংশ দল তাদের নিজেদের দেশের সেরা কোচদের নিয়োগ দিচ্ছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড তার বড় উদাহরণ। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কাও একই পথে হাঁটছে। আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যারা খেলেন, তাদের খুব বেশী শেখানোর কিছু থাকেনা। শুধু টেকনিক্যাল কিছু বিষয় আর অনুশীলন নিয়েই কাজ করেন কোচরা। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা যদি বলা হয়, দেখা যাবে তাদের কোচ রবি শাস্ত্রীর ভূমিকা দলে মূলত মেন্টরের। খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে তার কিছু ভূমিকা থাকলেও মূল কাজটা কিন্তু অধিনায়ক আর সিনিয়ররাই করছেন। এতে ফলও হচ্ছে। তারা আজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট দল। সবচেয়ে বড় বিষয় মাঠে সঠিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। আর এখানেই একজন দক্ষ কোচ প্রয়োজন। আইপিএল, বিগব্যাশ, সিপিএলের যুগে ভাল কোচ খুঁজে পাওয়া যেখানে কঠিন, সেখানে দেশি ভাল কোচদের দিকে নজর দিলেই তো হয়।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কথা অবশ্যই বলতে হয়। বুলবুলকে বিসিবির তরফ থেকে তাকে প্রস্তাব দেওয়া নিয়েও কম বিভ্রান্তি হয়নি। তাকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না দিয়েই বলা হয়েছিল অনেকবার নাকি তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বুলবুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অথচ তিনি নিজে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনূর্ধ্ব১৯ হোক, জাতীয় দল, একাডেমি, এইচপি হোক, কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। একজন কোচ হচ্ছে একজন টিচার। কোচ একজন বাবা, একজন ম্যানেজার, একজন প্রশিক্ষক। এখানে মানসিক বোঝাপড়ার ব্যাপারও আছে। এসবই বুলবুল নিজেই বলেছেন। বুলবুল নিজে আইসিসিতে কোর ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। আশি নব্বই দশকে টেকনিক, টেম্পারম্যান্ট এবং স্কিলের মিশ্রনে তিনি এদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গেম ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেভেল২ পর্যন্ত কোচিং ডিগ্রী নিয়ে চীনের মতো দেশে গেছেন ক্রিকেট চেনাতে। কোচ হিসেবে কাজ করেছেন আবাহনীর মতো দলের সঙ্গে। বাংলাদেশ জাতীয় দল তো বটেই, যেকোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের কোচ হওয়ার যোগ্যতাও রয়েছে তার। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মাইল ঘুরেছেন শুধু ক্রিকেটের জন্য। সম্প্রতি আফগানিস্তানের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে আমিনুলের। কিন্তু দুর্ভাগ্য, জাতীয় দল তো দুরের কথা, কোনো পর্যায়ের কোচ হতেই আমিনুলকে কখনও ডাকেনি বিসিবি।

গণমাধ্যমে কথা বলার সময় সারোয়ার ইমরান।

সারোয়ার ইমরান। দেশীয় ক্রিকেটকে অকাতরে সেবা করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে। বিভিন্ন মেয়াদে জাতীয় দলের সহকারী ও হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিসিবি ও ক্লাবগুলোর ডাকে সানন্দেই সাড়া দিয়েছেন সবসময়। জাতীয় দলের আপদকালীন কোচ হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্থায়ীভাবে তাকে নিয়ে ভাবেনি বিসিবি। বাংলাদেশ দল তথা হাই পারফরম্যান্স দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। দেশের নামী ক্রিকেটারদের অনেকে তার হাতেই গড়া। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দলের কোচ ছিলেন তিনি। অথচ ২০১১ সালে বাংলাদেশ ‘এদলের প্রধান কোচ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার আগে বিদেশি কোচ নিয়োগ করে তাকে একপ্রকার অপমান করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল যে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ওই সিরিজেও প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় দলের বোলিং কোচও ছিলেন। লেভেল থ্রি কোচেস কোর্স করা ইমরান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল রাজশাহী কিংসে কোচিং করিয়েছেন। জাতীয় দলের বোলিং ভরসা কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের গুরু ছিলেন ইমরান। অথচ, এই বিশাল অভিজ্ঞতার কোন মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

বিসিবি এখন হাইপ্রোফাইল কোচ খুঁজে পাচ্ছে না এটা দিবালোকের মতো সত্য। বিসিবির পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান একবার বললেন যে, বিদেশি কোচদের প্রায় সবাই চুক্তির মেয়াদ শেষ না করেই চলে গেছেন। আর তাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতির কিছু পার্থক্য আছে। তাদের দায়বদ্ধতাও থাকে কম। তার কথা মেনেই বলতে হয়, তাহলে দেশীয় কোচ ছাড়া এখন বিকল্প কি? উচ্চ বেতনে বিদেশি মাঝারী মানের কোচ না এনে দেশীয় কোচ বুলবুলসারোয়ারদের দিকে নজর দিলেই হয়। কিন্তু তার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, বিসিবি হয়তো ভাবে, বিদেশি হলেই হয়ত ভাল কোচ। আর মনে করে, দেশি কোচরা কেবল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিতে পারেন। এমন চলতে থাকলে সেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না।

 


আরও পড়ুনঃ স্মিথ-ওয়ার্নারদের সাজা কমানোর অনুরোধ

 

Related Articles

অভিষেকে শতক হাঁকিয়ে রেকর্ড বইয়ে কেভিন ও’ব্রায়েন

টাইগার হয়ে উঠার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল যেদিন

দেশের ক্রিকেটের যেকোনো জায়গায় কাজ করতে আগ্রহী বুলবুল

‘এখানে পেশাদারিত্ব বলে একটা কথা আছে’

প্রধান কোচের ভূমিকায় এখনই নয়, তবে….