SCORE

সর্বশেষ

ক্রিকেটারদের সুবিধার্থে আইসিসির নতুন গাইডলাইন

ফুটবল কিংবা হকির মতো বৈশ্বিক অন্যান্য খেলাধুলার চেয়ে ক্রিকেটে আবহাওয়া বা প্রকৃতির প্রভাব একটু বেশিই। সুষ্ঠুভাবে একটি ক্রিকেট ম্যাচ সম্পন্ন করতে হলে অনুকূল থাকা চাই আবহাওয়াও। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা তুষারপাতের মতো প্রাকৃতিক পরিবর্তনগুলোতে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব। আবহাওয়ার বিরূপ অবস্থার কথা বিবেচনা করলে বাকি থাকে শুধু দাবদাহ।

তবুও নিদাহাস ট্রফিতে নিশ্চিত নন সাকিব

তবে এতদিন ধরে ক্রিকেটে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অধিক উষ্ণতা। পেশাদারিত্বের স্বার্থে ক্রিকেটাররা অনেক উষ্ণ আবহাওয়াতেও রোদে দাঁড়িয়ে খেলে যান ক্রিকেট। তবে এবার ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এ প্রসঙ্গে নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল- আইসিসি।

Also Read - মুরালিধরণকে সাকিবের শ্রদ্ধা

রোববার এমনটিই জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। গরমের কারণে ক্রিকেটারদের যেন সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, এজন্য আইসিসির গাইডলাইন প্রণয়ন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা গাইডলাইন আইসিসি তৈরি করছে। নিরক্ষীয় অঞ্চলের মেম্বার দেশগুলো একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে আইসিসি কাজ হাতে নিয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা একটা গাইডলাইন পাবো। আদর্শগতভাবে বলতে গেলে স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করেই ক্যালেন্ডার হওয়া উচিত।’

আইসিসির এই গাইডলাইনের আওতায় থাকবে উষ্ণ দেশগুলো। বাংলাদেশে বছরের বড় একটি সময় উষ্ণতা বিরাজ করে বলে এর প্রতিফলন ঘটবে এখানেই।

দেবাশীষ বলেন, ‘সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতা থাকে। থাকে তাপদাহ। দুটোর কম্বিনেশনে হিট স্ট্রেস ইনডেক্সের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে খেলোয়াড়দের জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

বাংলাদেশে খেলতে গেলে দাবদাহের কথা মাথায় রেখে খেলা উচিত, এমনটা মনে করিয়ে দিয়ে বিসিবির অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের দেশে যেহেতু এরকম বৈরী আবহাওয়ায় খেলতে হয় তাই খেলার জন্য প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্লেয়ারদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই তাপ ও আর্দ্রতা যদি দুটি একসঙ্গে অ্যাফেক্ট করে সেক্ষেত্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বড় ভূমিকা রাখবে।’

তপ্ত পরিবেশে খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন পানির উপর। তবে দেবাশীষ জানালেন, এমন ক্ষেত্রে পানিও খেতে হবে হিসেব করে করে! সেই সাথে গুরুত্ব পাবে পয়নিষ্কাশনের ব্যাপারগুলোও।

দেবাশীষের ভাষ্য, ‘এই ব্যাপারে তাদের কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। যেমন পিপাসা পেলে পানি খেলে হবে না, ঘড়ি ধরে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর পানি খেতে হবে। পিপাসা পাক না পাক। প্রস্রাবের রংটা গুরুত্বপূর্ণ। রংয়ের ওপরে নির্ভর করে আমাদের ডিহাইড্রেশন স্ট্যাটাস। সেটা যতক্ষণ স্বাভাবিক না হচ্ছে পানি খেয়ে যেতে হবে।’

ক্রিকেটে গাঢ় রঙের জার্সির প্রচলন বিগত অনেক বছর ধরেই। ফুটবলের মতো দুই দলের ভিন্ন রঙের পোশাকের বাধ্যবাধকতা নেই বলে এক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ মতো রঙ বা গড়নের পোশাক পড়ার সুযোগ পায় ক্রিকেট দলগুলো তবে গাইডলাইনে নির্দেশনা থাকবে এ নিয়েও। যত হালকা রঙের পোশাক পরা যায়, এবং যথাসম্ভব ঢিলেঢালা…

সাংবাদিকদের দেবাশীষ বলেন, ‘যত হালকা রঙের কাপড় পড়া যায়, যতটা সম্ভব ঢিলাঢালা কাপড় পড়তে হবে যেন শরীরের মধ্যে একটা স্পেস থাকে।’

এদিকে খেলোয়াড়দের গরমের তপ্ততা থেকে বাঁচাতে পরিকল্পনা আছে ম্যাচ শুরুর সময় এগিয়ে আনারও। দিনের আলোর ম্যাচগুলো সাধারণত শুরু হয় দ্বিপ্রহর শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে। শুধু উপমহাদেশেই নয়, এমনটি হয় প্রায় সবগুলো টেস্ট খেলুড়ে দেশেই। তবে গরমের হাত থেকে বাঁচার জন্য সেই ম্যাচেগুলোর সময় আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান দেবাশীষ, ‘অনেক দেশেই সেটা পরীক্ষামূলকভাবে করা হচ্ছে। সকাল ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দিনের সবচাইতে গরম সময় থাকে। তাই খেলার সময়টা অনেক দেশেই এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। খেলাটা আমরা যদি ৯টার বদলে সকাল ৭টায় শুরু করতে পারি সেক্ষেত্রে ভালো সময় পেয়ে যাবো এবং তাপ ততটা তীব্র হবে না।’

আরও পড়ুনঃ ইনজুরির শিকার তাসকিন-মিরাজ

Related Articles

বল টেম্পারিং: চান্দিমালকে অভিযুক্ত করল আইসিসি

অপরিবর্তিত রইল আইসিসি আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল

দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন টি-২০ লিগ

আবারও সবচেয়ে ধনী ক্রিকেটার কোহলি

ফিক্সিংয়ে জড়িতদের নাম জানে সিএ!